Sutapa Chowdhury Murder case : সুতপার খুনি প্রেমিকের ফাঁসি রদ, হাই কোর্টের রায়ে ৪০ বছরের কারাবাস

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : কলকাতা হাই কোর্ট বুধবার এক হৃদয়বিদারক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা রদ করে দিল। বহরমপুর (Berhampore) শহরের রাস্তায় নির্মমভাবে প্রেমিকাকে খুন করার ঘটনায় অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী (Sushanta Chowdhury)-এর ফাঁসির সাজা বাতিল করে তাঁকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক (Debangsu Basak) ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদি (Justice Mohammad Shabbar Rashidi)–এর ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও দু’বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২০২২ সালের ২ মে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস খুনের ঘটনা মালদহ (Malda) থেকে বহরমপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল এক টানাপড়েনের প্রেম কাহিনির মধ্যে। একাদশ শ্রেণি থেকে সুশান্ত ও সুতপা চৌধুরী (Sutapa Chowdhury)–এর মধ্যে সম্পর্ক শুরু হয়। দু’জনেই মালদহে থাকতেন। পরে উচ্চমাধ্যমিকের পর সুতপা পড়তে চলে আসেন বহরমপুর গার্লস কলেজ (Berhampore Girls’ College)–এ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না পেরে সুতপা ধীরে ধীরে সরে আসেন সুশান্তের জীবন থেকে। কিন্তু সুশান্ত মানতে পারেননি সম্পর্কের ইতি। তদন্তে উঠে আসে, কলেজের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। সুতপা তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলে তিনি একাধিকবার হুমকি দিতে থাকেন। এমনকী, তার বিরুদ্ধে মালদহ মহিলা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিল সুতপার পরিবার। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ২০২২ সালের ২ মে সকালে শহিদ সূর্য সেন রোড (Shahid Surya Sen Road)–এ নিজের হস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুতপার উপর আচমকাই চড়াও হয় সুশান্ত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক আঘাত হানতে থাকে। তদন্তে জানা যায়, ৪৫ বার ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করে সুশান্ত। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুতপার। এরপর এলাকা ছেড়ে সে পালিয়ে যায়। মালদহের দ্বারভাঙা মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০২৩ সালের ২৯ অগস্ট বহরমপুরের তৃতীয় দ্রুত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক (Santosh Kumar Pathak) তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন ও ৩১ অগস্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করে সুশান্ত। বুধবারের রায়ে বিচারপতিরা জানান, খুনের সময় সুশান্তের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। তাঁর জন্ম ২০০১ সালের ২ নভেম্বর। রায় অনুযায়ী, এখন তাঁর বয়স ২৪। বয়স এবং পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ মাথায় রেখেই ফাঁসির বদলে তাঁকে ৪০ বছরের জেল ও জরিমানা দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একজন অল্পবয়সি মাদকাসক্ত যুবক এত সহজে এক তরুণীর জীবন কেড়ে নিতে পারে? সমাজ কি এতটাই ব্যর্থ তরুণদের মানসিক অবক্ষয় আটকাতে? এমন এক করুণ ঘটনার পরেও, হাই কোর্টের রায়ে মানবিকতা ও আইনের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও অনেকের নজর কেড়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment