কবি গোলাম কবির। বাবা : গোলাম কিবরিয়া। তাঁর জন্ম ২ জুন ১৯৬৫ সালে। লেখাপড়া : বিকম পাস।
ঢাকার বাসিন্দা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫টি। যথাক্রমে : শিরোনামহীন, দিগন্তের সন্ধানে, হৃদয় খুনের এপিটাফ, বিরহী ল্যাম্পপোস্ট, মায়াবী ফাঁদ। কবি গোলাম কবির বাংলাদেশ, জাপান, কানাডা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিন ও অনলাইন পত্র-পত্রিকায় কমবেশি লেখালেখি করে চলেছেন কবি।

গোলাম কবির
সেই পুরনো খাঁচায় বন্দী পাখিটা
একদিন হঠাৎ করেই
চলে যাবো দিকশূন্যপুরে!
হয়তোবা রয়ে যাবো কিছুদিন
তবুও কারো কারো গোপনে ফেলা
চোখের জলে ভেজা নদীর স্রোতে!
রয়ে যাবো কারো কাছে আমারই
লেখা কোনো কবিতার উচ্চারণে!
রয়ে যাবো হয়তোবা কোনো
ফটোফ্রেমে বন্দী
শুকনো ফুলের মালা পরে ঘরের
দেয়ালে বেমানান সেঁটে থেকে!
হয়তোবা আমাকে নিয়ে ক’য়দিন
কথা হবে খুব ফেসবুকের স্ট্যাটাসে,
মন্তব্য করার জায়গায়, ভালোমন্দ
কতো কথা হয়তোবা হবে আমাকে
নিয়ে! তারপর আবার সব চুপচাপ!
সবাই ভুলে যাবে আমাকে!
নদীর জল বয়ে যাবে আবারও
তার নিজস্ব গন্তব্যের দিকে!
সূর্য উঠবে, চাঁদ হেসে উঠবে মেঘের
আড়াল থেকে, রাত ভোর হবে!
শুধু ফিরবে না সেই
পুরনো খাঁচায় বন্দী পাখিটা
আমার আর কোনোদিনই!
একাকী নির্ঘুম রাতের উপলব্ধি
নদীর মনের কথা বুঝতে হলে
তার জলের কম্পন বুঝতে হবে,
বুঝতে হবে তার ঢেউয়ের ভাষা।
তেমনি নির্ঘুম রাতের আঁধারে
একলা জেগে থাকলেই বুঝতে পারবে
রাত কতোটা দীর্ঘ এবং কেমন অসহনীয়
এক একটা মূহুর্তগুলো পার হচ্ছে!
তখন শুধু তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ
করেই সেই রাতের একাকীত্বের
তীব্র বেদনা ভুলে যাওয়া সম্ভব,
আর অন্য কিছুতেই যা সম্ভব নয়!

আজও জানা হল না
হৃদয়ের কোথাও ঝুমবৃষ্টি হচ্ছে,
অবিরাম বৃষ্টিজলের তোড়ে
ভেঙে পড়ছে অভিমানের বরফ কুচি।
গহীন ভিতরে থেকে থেকে বিলাপ
করছে বিরহী ডাহুক উড়িয়ে দিয়ে
ভালোবাসা নামের একটা পানিউড়ি পাখি!
আহা রে ভালোবাসা!
তুমি কি শুধুই ব্যথাদীর্ণ ভাঙনপ্রবণ
বিশীর্ণ নদীর আর্তনাদ নাকি
দূরের কার্নিশে দেখা
শত প্রতিকুলতায় বেড়ে ওঠা
একটা পাথরকুচির গাছ?
আজো জানা হলো না!

কবিতা লিখতে গিয়ে
কবিতা লিখতে গিয়ে মনে হয়
আমি কোনো কবিতাই লিখতে পারি না,
আমি শুধু আমার আনন্দ, বেদনার অনুভব ও অনুভূতির প্রকাশ
ঘটাই কবিতা লেখার ছলে!
তাই কবিতা লেখা আমার হয় না
বরং কবিতাই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়
কিছু কষ্ট, দুঃখ, বিরহ এবং
আনন্দ ও বেদনার শিলালিপি!
কবিতা লিখতে গিয়ে মনে হয়
আমি তো শুধু তোমাকে না পাবার কষ্টে আমার আর্তনাদের শব্দগুলো
গেঁথে রাখি সাদা কাগজের পাতায়,
তোমার জন্য আমার হৃদয়ের
গভীর গোপন কথাগুলো
লিখে ফেলি মনের ভুলে
কবিতা লিখতে গিয়ে,
তাই কবিতা লেখা আমার দ্বারা
কখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি!
কবিতা লিখতে গিয়ে আমার কখনো
কবিতা লেখা হয়ে ওঠে না,
যা হয় তা শুধু কোনো এক নির্জন
নদীর পাশে শুয়ে একলা পুড়তে থাকা
শবের শব্দহীন আর্তনাদের দৃশ্যকাব্য!
কবিতা লিখতে গিয়ে এক একদিন
মনেহয় – এটাকে কোনো কবিতা বলা?
ভুলে যাও তুমি।
বরং এ আমার হৃদয়ের গহীন ভিতরে
বয়ে চলা নদীর তীব্র ঢেউয়ের দোলায়
কচুরিপানার মতো ভেসে ভেসে
তোমার দিকে ধাবমান
কোনো একটা দিনের গল্পগাঁথা!
কবিতা লিখতে গিয়ে কখনো মনে হয়
ধুস্ শালা! এটা তো কোনো কবিতাই নয়
বরং এটা হতে পারে আমার
হৃদগহীনে যেদিন অবিরাম বৃষ্টি ঝরে,
সেই একটানা বর্ষণক্লান্ত দিনের
লাল, নীল কষ্টের প্যাপিরাসের পাতায়
লেখা বহু পুরাতন ডায়েরির
একটা পাতায় লেখা কথাগুলোই!
তাই আমার কোনোদিনই আর
কবিতা লেখা হয় না, হয়ে ওঠে না!

🍁অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী কোনও সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com



