কবি শুভ্রনীল চক্রবর্তী একজন রাশি বিজ্ঞানী এবং ওঁর কবিতা চর্চায় সে আভাস বিদ্যমান। ‘দূর স্বপ্নের আঠাশে’ ও ‘নক্ষত্র রঙের আত্মহত্যা ‘ নামে কবির দু’টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বহু পত্র পত্রিকা লিটিল ম্যাগে নিয়মি ভাবে লেখেন এবং কবিতার পরাবাস্তবতা নিয়ে তাঁর গভীর বোধ ও আগ্রহ লেখায় সর্বদা ফুটে ওঠে। কবিতা ছাড়াও এই শুভ্রনীল অনুগল্প ও প্রবন্ধ চর্চা করেন। সাশ্রয় নিউজ-এর আজকের পাতায় রইল ওঁর তিনটি কবিতা।
শুভ্রনীল চক্রবর্তী
আস্ফালন
কেউ নেই আমার, কিছু নেই আমার
প্রত্যাশা- প্রত্যাঘাত- শরীর- অবচেতন – মৃত শোক
নিকনো উঠানে শুয়ে থাকি মাতালের মত
সময় এসে হাজিরা দেয়, কাঠগড়ায় দাঁড় করায়
কেউ বোঝার নেই, কেউ নেই আমার
আমি নিজেও নিজেকে বুঝিনি কোনোদিন,
তাই হয়তো আস্ফালন করেছি কৃত্রিম জীবন / পাথরের সংসার
বারবার বন্দী হয়েছি চক্রবুহ্যে
বেরোবার উপায় কি একদমই নেই?
কেউ নেই, কিছু নেই আমার-
নিকষ কালো আঁধারের মাঝে পশু হয়ে নিজেকে শিকার করি বারবার
দাঁত নখ রক্তের ভয় দ্যাখায় মিথ্যা শান্তির পরিহাস
আমি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারাচ্ছি দিন দিন
নিজেকে বোঝার অবহেলায়-
বোঝা হয়ে যাচ্ছে বোঝার ক্ষমতা
উন্মুক্ত বিশৃঙ্খলা
কেঁপে ওঠো সন্ধ্যে – হরিতের ভিড়ে যুক্তাক্ষর থেকে বর্ণমালা হয়ে উঠছে ভিক্ষুক
তার তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক – উন্মুক্ত বিশৃঙ্খলা বলে ডাকতে পারি কি তাকে?
সন্ধ্যা কেঁপে উঠছে তার কর্ষণে – যন্ত্রণায়
আমি বারবার দেখছি কত ধর্ম ধার দিচ্ছে তারারা –
এক সূর্যকে ভালোবেসে তৈরি করছে হাজার
-তার তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে চতুর্দিকে-
বিকিরণ করে বিন্দু শীতল বুদবুদ হয়ে যাচ্ছে তারারা
আমি হতবাক হয়ে দেখি
কেবল নির্বাক বসন্ত পাক খেয়ে উঠছে পাখি-
লক্ষ ছায়া পথ জুড়ে
কেঁপে ওঠো সন্ধ্যে-
আজ, ভিক্ষুকের ধর্ম জাগরণ
এক উন্মুক্ত বিশৃঙ্খলা
বৃত্ত নিনাদ
রাস্তার পাশে লাল নীল আলো দিয়ে কতরকম সৌখিনতা ঝুলে আছে, আমি আষাঢ়ে গল্পের মধ্যে কালকের বাসী মাংস লুকিয়ে রেখে হাঁটছি। মাংসগুলো যখন আগুনে যাচ্ছে, সবাই সুন্দর গন্ধ পাচ্ছে কিন্তু আমি দেখছি কত অভিমান, দুঃখ, অপমান, না খেতে পাওয়ার গল্প করছে তারা নিজেদের মধ্যে। রূপকথা না খেতে খেতে শীর্ণ কায় হয়ে নেমে আসছে শহরের বুকে, যত দূরে যাচ্ছি লাল নীল আলোগুলো আমার দৈনন্দিন হয়ে উঠছে – পুড়ছে আরও পুড়ছে।
আমি শহরের ইন্টারভিউ নেব বলে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা গোলাপী যুবকের জামার ছেঁড়া বোতামে আটকে আছে, হয়তো অপেক্ষা করছে আমার হাত আর একটা ছুঁই সুতোর। আমি রূপকথা বা আষাঢ়ে গল্প ফাঁদতে বেরোয়নি, বেরিয়েছিলাম তোমার চোখে ঘুমাবো বলে, কিন্তু বুঝতে পারিনি আমার মধ্যে কিভাবে একটা গোটা শহর ঘুমিয়ে থাকে রোজ।
অঙ্কন : প্রীতি দেব
🦋 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ, স্বরচিত কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ফিচার… ★ ই-মেল : sasrayanews@gmail.com





