সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি : ৪৩ তম উওরবঙ্গ বইমেলায় শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ১২ ই নভেম্বর শুক্রবার কোচবিহার নিবাসী কবি ছবি ধরের পঞ্চম ও ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ দু’টি সাড়ম্বরে প্রকাশ হল । ত্রিপুরার স্বনামধন্য পত্রিকা ও প্রকাশক দৈনিক বজ্রকণ্ঠ থেকে কবির পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ “ভাববার সময় এসেছে” ও ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিন্দিতে লেখা “দিল সে দিল তক কা দাস্তান” প্রকাশ হয়েছে।

এদিন অনুষ্ঠানে কবি ছবি ধর সহ উপস্থিত ছিলেন উওরবঙ্গ বইমেলার আহ্বায়ক শ্রী মধুসূদন সেন, ভাস্কর বাগচী এডিটর পাহাড়িয়া টাইমস পত্রিকা,কবি রিমি দে, কবি অলোক চক্রবর্তী, কবি পরাগ মিত্র, কবি মানসী কবিরাজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সবাইকে
কবি ছবি ধর উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন। এর পর উপস্থিত বিশিষ্টদের হাতে নিজের কাব্যগ্রন্থ তুলে দেন। পাহাড়িয়া টাইমস এর সম্পাদক ভাস্কর বাগচী বলেন, বইটি গুণ ও মানসম্পন্ন হয়েছে। রিমি দে একখানি কবিতা পাঠ করেন ছবি ধরের কাব্যগ্রন্থ “ভাববার সময় এসেছে” থেকে। কবিতার নাম “ভয় পেয়ো না অন্ধকারে”। কবি অলোক চক্রবর্তী কবির বইয়ের প্রকাশক দৈনিক বজ্রকণ্ঠ নিয়ে বলেন দু’টি বইয়ের প্রচ্ছদ ও প্রিন্ট খুব সুন্দর হয়েছে। তিনি কবি ছবি ধরের পরিচিতি বিষয়ে আলোকপাত করেন। ছবি ধর উচ্চাঙ্গ সংগীত সহ রবীন্দ্র সংগীত ও পঞ্চ কবির গান নিয়ে আলোচনায় না করেন। কবি আরও বলেন, সংগীত ও কবিতা দু’টিই মানুষের মনের আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে। উভয় ক্ষেত্রেই ছন্দ (rhythm)একটি অপরিহার্য উপাদান, যা শুনতে বা পড়তে ভালো লাগে। সংগীত ও কবিতা পাঠের মধ্যে মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কবি ও গায়িকা নিজের গানের স্কুল এর মাঝেও সাতটি কাব্যগ্রন্থ ও লালনের গান ও জীবন দর্শন নিয়ে লেখা গবেষণা মূলক “মননে লালন”বইয়ের লেখিকা তাঁর ভাবনা ব্যক্ত করেছেন নিজের মতাদর্শে।
কাব্যগ্রন্থ “ভাবনার সময় হয়েছে” ও হিন্দি “দিল সে দিল তক কা দাস্তান” কবিতার বই এর মোড়ক উন্মোচনে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বই মেলায় অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, কবি ছবি ধর তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে কবি সুন্দরভাবে জীবনের সুখ দুঃখ আবেগ ,শহর গাঁ গঞ্জের মানুষের কথা লেখা কবিতা গুলো দাগ কাটে মনে। সাবলীল লেখনীতে সাধারণ মানুষের রাগ অনুরাগ, জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের কথা তুলে ধরেছেন “। বক্তব্য শেষে হাততালির গুঞ্জন ধ্বনিত হয়।
এর পর মঞ্চে কবি ছবি ধর নিজের হিন্দি কবিতার বই ” দিল সে দিল তক কা দাস্তান”থেকে “তুম সে তুম তক” শিরোনামের কবিতাটি পড়ে শোনান।
কোচবিহার জেলায় ১৯৭২ সালে ৩০ শে সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন কবি ছবি ধর। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও সংগীত বিশারদ ছবি ধর বর্তমানে কোচবিহারে বাস করেন। শখ ভ্রমণ করা ,বই পড়া ও গান শোনা। কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লেখেন। সৃজনী পত্রিকা , দৈনিক বজ্রকণ্ঠ পত্রিকা, সাশ্রয় নিউজ পত্রিকা, টঙলক, বিশ্বায়নে বাংলা, বঙ্গ সাহিত্য পত্রিকা, মুজনাই, টঙলক, নেট ফড়িং ও
হিন্দি “সরিতা” সহ বহু ক্ষুদ্র পত্র পত্রিকায় লেখেন।
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের আয়োজিত “উত্তরের হাওয়া” লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় অংশ নেম্ন। কবি ছবি ধরের কাব্যগ্রন্থ সংখ্যা গুটি গুটি পায়ে ক্রমে বাড়ছে। আনন্দ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় দুটি কাব্যগ্রন্থ–
১) “অন্তহীন উড়ান” ২) “আত্মপ্রেরণা”।
বাকবিকল্প প্রকাশনী থেকে
৩) “প্রজ্ঞানম মধুরম” প্রকাশিত হয়।
৪)”মননে লালন ” স্বীকৃতি প্রকাশনী থেকে ৫) “ভাববার সময় এসেছে “৬) “দিল সে দিল তক কা দাস্তান ” প্রকাশ হয় দৈনিক বজ্রকণ্ঠ পত্রিকা প্রকাশনী থেকে ৭) “রাজবংশী হাইকু ” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিতব্য। পাইকান প্রকাশন। এছাড়াও কবি ছবি ধর বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম যেমন- দৃষ্টি, পান, দেহতরী, সংস্থিতা, ঢেউ, শিক্ষা, থ্যাংকস গিভিং শর্ট ফিল্ম নির্দেশনা করে পুরস্কৃত হয়েছেন।

বিশিষ্ট কবি ও সংগীত শিল্পী ছবি ধর পঞ্চকবির গান,লোক সংগীত ও ভজন চর্চা করেন ও
শেখান। তিনি “বলাকা সাংস্কৃতিক মঞ্চে”র সভাপতি। প্রতিকূলতাকে ধৈর্যের সঙ্গে কাটিয়ে ওঠাকে জীবন মনে করেন। অত্যন্ত সহজ সরল ও দৃঢ় মানসিকতার
মানুষ। লেখা ও সংগীত চর্চার মাধ্যমে জীবন কাটান।
স্বামীর কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে বসবাস কালে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা ও বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের পাঠ দান করার সময় হিন্দি ভাষা রপ্ত করেন। পরবর্তীতে বেশ কিছু হিন্দি কবিতা লিখে ফেলেন। ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বরচিত হিন্দি কবিতা পাঠ করায় গ্রহণ যোগ্যতা পায়। “সরিতা” হিন্দি পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে। হিন্দি ভাষাভাষীর মাঝে থেকেও বাংলা ভাষাকে আঁকড়ে ধরে বাংলা সাহিত্য পড়া থেকে বিরত থাকতে পারেন নি। কবির লেখা লেখির সময়কাল প্রায় দুই যুগ। ভারতীয় মানবাধিকার রক্ষা পরিষদ থেকে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মহাজাতি সদনে সম্মানিত হন। কামাক্ষাগুড়িতে ২০১৬সালে মাদক দ্রব্য বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে দোকানপাট ভাঙচুর করেন ওই এলাকার মহিলারা। মদ্যপান করে পুরুষরা বাড়ির মহিলাদের ওপর অত্যাচার ও মারপিট করায় অতিষ্ট মহিলারা ক্ষিপ্ত হয়ে একজোট হয়ে পথ অবরোধ করেন। ভারতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্পাদক শ্রী যুক্ত চন্দ্র শেখর দে মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে লেখিকা ছবি ধর একটি জনসভায় সেই সব ভুক্তভুগী মহিলাদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে শান্ত করেন ও আন্দোলন রোধে সমর্থ হন। পুরুষদের মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে অনুরোধ করেন। মদ্যপান কখনও একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের অংশ হতে পারে না সে বিষয়ে সচেতন করেন ছবি ধর। কলকাতার হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার হেড অফিসের তরফ থেকে লিখিত ও সরকার অনুমোদিত নোটিসের মাধ্যমে উওরবঙ্গের কোচবিহার মাথাভাঙ্গা তুফানগঞ্জ এর সব কটি সংশোধনাগারে রাখি বন্ধন ও ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের চন্দনের তিলক এঁকে হাতে রাখি পরিয়ে মিষ্টি মুখ করান ও কয়েদি ভাইদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে বলেন। কয়েদি ভাইদের নিজেদের কবিতা, গান ও তাদের মনের কথা শোনেন ও নিজে সংগীত পরিবেশন করে প্রতি বছর এই বিশেষ দিনগুলোকে স্বরনীয় করেন। মাননীয় জেলার সাহেবের উপস্থিতিতে সমগ্র অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে এই অনুষ্ঠানের বিষয়।

কবি ছবি ধর বর্ধমানের সৃজনী ও একাগ্ঘনী পত্রিকা থেকে ২০১৯ সালে সারাভারত কবি সম্মেলনে
“ক্ষেত্ৰনাথ দেবনাথ” স্মৃতি সম্মাননা। সৃজনী পত্রিকা থেকে২০২৪ সালে “সৃজনী” সম্মাননা পান।
আশাকরি পাঠক বই গুলো পড়লে বুঝতে পারবেন।
উত্তরবঙ্গ বইমেলায় মুক্তমঞ্চে দর্শকের করতালির মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।




