WB Elections 2026, Voting Holiday | ভোটের দিনে বেতনসহ ছুটি বাধ্যতামূলক, নির্দেশ জারি রাজ্যের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে (WB Elections 2026) সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। অর্থ দফতর (Finance Department, Government of West Bengal) -এর তরফে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বেতন-সহ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্য, প্রতিটি ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যে একাধিক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। এই দুই দিন সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ, ‘ভোটের দিন কর্মীদের উপস্থিতির জন্য কোনও চাপ সৃষ্টি করা যাবে না, প্রত্যেককে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে রিপ্রেজ়েন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১ (Representation of the People Act, 1951) -এর আওতায়। আইনের এই ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, ভোটের দিনে কর্মীদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তার দায়িত্ব। সেই নিয়ম মেনেই রাজ্য সরকার এই নির্দেশ জারি করেছে। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার হলেও অন্যত্র কর্মরত, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ছুটির সুযোগ দিতে হবে।’ অর্থাৎ, কোনও কর্মী যদি নিজের ভোট কেন্দ্রের বাইরে কাজ করেন, তবুও তাঁকে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। এতে কর্মীদের মধ্যে ভোটদানে আগ্রহ বাড়বে বলেই প্রশাসনের ধারণা। নির্দেশিকায় কড়া সুরে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি কর্মীদের ভোটদানে বাধা দেয় বা ছুটি না দেয়, তাহলে তা সরাসরি আইনভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।

ভোটের দিনগুলিকে ‘ড্রাই ডে’ (Dry Day) হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট এলাকায় মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের মতে, নির্বাচনকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা সাধারণত ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে বিবেচিত। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) -এর নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশন বারবার জোর দিয়েছে, যাতে ভোটের দিন কোনও নাগরিক তাঁর অধিকার প্রয়োগে বঞ্চিত না হন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজ্যের বিভিন্ন দফতর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প ইউনিট এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে এই নির্দেশ মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য, যা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি না পাওয়ার অভিযোগ আগে বহুবার উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের দিন ছুটি নিশ্চিত হওয়ায় তাঁরা নিশ্চিন্তে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভোটার উপস্থিতির হারও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের আশা। প্রসঙ্গত, নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা, সব ক্ষেত্রেই নজর রাখা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই ছুটির ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটদান একটি মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সেই বার্তাই তুলে ধরল রাজ্য। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল এই দুই দিন এখন শুধুমাত্র ভোটের দিন নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব পালনের দিন হিসেবেই চিহ্নিত হতে চলেছে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে গণতন্ত্রের শক্তি কতটা সুদৃঢ়।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rajasthan newborn rescue | রাজস্থানের জঙ্গলে হৃদয়বিদারক দৃশ্য, মুখে পাথর আর আঠা দিয়ে ঠোঁট বন্ধ করা অবস্থায় জীবন্ত উদ্ধার নবজাতক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন