TMC Candidate List 2026: ৫২ মহিলা, নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধন, প্রার্থী তালিকায় বড় চমক মমতা-অভিষেকের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে ভোটের আবহ ক্রমশ তুঙ্গে। তারই মধ্যে মঙ্গলবার বড় ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, এবারের তালিকায় যেমন অভিজ্ঞদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, তেমনই নবীন মুখদেরও সুযোগ দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রার্থী নির্বাচনে আমরা অভিজ্ঞতা ও নতুন শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছি।’ বিশেষ নজর কেড়েছে মহিলা প্রতিনিধিত্ব, মোট ৫২ জন মহিলা প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

আরও পড়ুন :Easy Virgin Mojito Recipe in Bengali | এক গ্লাসেই আরাম! ঘরেই বানান রেস্তোরাঁ স্টাইল অ্যালকোহলমুক্ত ভার্জিন মোহিতো, সহজ রেসিপি ও নিখুঁত টিপস

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

এবারের তালিকায় একটি বড় পরিবর্তন হল, টলিউড (Tollywood) থেকে নতুন করে কোনও বড় মুখকে প্রার্থী করা হয়নি। যদিও পূর্বে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রার্থী করা হয়েছিল, এবার সেই প্রবণতা থেকে কিছুটা সরে এসে সংগঠনভিত্তিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty) করিমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চমক দেখা গিয়েছে। কোচবিহার অঞ্চলে উদয়ন গুহ (Udayan Guha) দিনহাটা থেকে প্রার্থী হয়েছেন, যা আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। পাশাপাশি মেখলিগঞ্জে পরেশচন্দ্র অধিকারী (Paresh Chandra Adhikari) এবং কোচবিহার উত্তরে পার্থ রায় (Partha Roy)-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শিলিগুড়িতে গৌতম দেব (Gautam Deb) এবং আলিপুরদুয়ারে সুমন কাঞ্জিলাল (Suman Kanjilal) -এর প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণবঙ্গেও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে তালিকায়। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sobhandeb Chattopadhyay), এবং বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chattopadhyay) -এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের নগর ও শহরতলির আসনগুলিতেও দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। দমদমে ব্রাত্য বসু (Bratya Basu), কামারহাটিতে মদন মিত্র (Madan Mitra), এবং পানিহাটিতে তীর্থঙ্কর ঘোষ (Tirthankar Ghosh) -এর মতো পরিচিত মুখদের আবারও টিকিট দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick), নারায়ণ গোস্বামী (Narayan Goswami) এবং রাজু চক্রবর্তী (Raju Chakraborty) -এর মতো নাম রয়েছে তালিকায়। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সুব্রত মণ্ডল (Subrata Mondal), শওকত মোল্লা (Shaukat Molla) এবং অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) -এর মতো নেতাদের উপর আস্থা রেখেছে দল। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জাকির হোসেন (Zakir Hossain), হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এবং অপূর্ব সরকার (Apurba Sarkar)-এর মতো নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে পবিত্র কর (Pabitra Kar), খড়্গপুরে প্রদীপ সরকার (Pradip Sarkar) এবং ঘাটালে শ্যামলী সর্দার (Shyamali Sardar)-এর মতো নাম রয়েছে তালিকায়। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় আদিবাসী ও স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। বিরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda) এবং মঙ্গল সোরেন (Mangal Soren)-এর মতো নেতাদের প্রার্থী করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে দলের ভিত্তি আরও মজবুত করতে পারে। দুই বর্ধমান জেলাতেও অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের মিশেল দেখা গিয়েছে। মলয় ঘটক (Moloy Ghatak), তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় (Tapas Banerjee) এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (Narendranath Chakraborty)-এর মতো পরিচিত মুখদের আবারও প্রার্থী করা হয়েছে।

এবারের তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কয়েকজন বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে দল একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ‘পারফরম্যান্সই শেষ কথা’। একইসঙ্গে, কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরকেও প্রার্থী করা হয়েছে, যেমন দেবাশিস কুমার (Debasish Kumar), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha), এবং অতীন ঘোষ (Atin Ghosh)। উল্লেখ্য, ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি বাকি তিনটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে (Bharatiya Gorkha Prajatantrik Morcha), যার নেতৃত্বে রয়েছেন অনীত থাপা (Anit Thapa)। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং এই তিনটি পাহাড়ি আসনে তারা এককভাবে লড়াই করবে এবং তৃণমূল তাদের সমর্থন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রার্থী তালিকায় স্পষ্ট বার্তা রয়েছে দল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে এবং একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করতে আগ্রহী। ‘এই তালিকা শুধু নির্বাচন নয়, ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশও দিচ্ছে’ এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই কৌশল কতটা সফল হয় ভোটের ময়দানে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kaliganj CPIM candidate Sabina Yasmin | মেয়েকে হারানোর বেদনা থেকেই রাজনীতির ময়দানে! কালীগঞ্জে CPIM প্রার্থী তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন

Sasraya News
Author: Sasraya News