Siliguri red light area incident : শিলিগুড়ির নিষিদ্ধপল্লিতে রক্তাক্ত হামলা
সাশ্রয় নিউজ ★ শিলিগুড়ি : রাতের অন্ধকারে হঠাৎই রক্তাক্ত চিৎকারে কেঁপে উঠল শিলিগুড়ির নিষিদ্ধপল্লি (Siliguri red light area incident)। অভিযোগ, এলাকা ঘেঁষা খালপাড়া অঞ্চলের এক বাসিন্দা সাহিল (Sahil) নামের এক যুবক মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশ করে এক তরুণীর ওপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হঠাৎ এই নৃশংস হামলায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাহিল ওই তরুণীর ওপর একের পর এক কোপ মারতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় রক্তাক্ত তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণীর অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়, তাঁর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খালপাড়া ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে সাহিল গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিন্টু ঘোষ (Pintu Ghosh) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “সাহিল এর আগেও একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। আমি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। রাতে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। তবে ঠিক কী কারণে ওই তরুণীকে এমনভাবে আক্রমণ করা হল, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের রাত্রিকালীন টহলদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। নিষিদ্ধপল্লির এক বাসিন্দা জানান, “ওই তরুণীর চিৎকার শুনেই আমরা ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, মেয়েটির শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, সে প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন একটি স্পর্শকাতর এলাকায় রাতের সময় পুলিশের টহলদারি নেই কেন?” ঘটনার পর থেকেই নিষিদ্ধপল্লির বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সাহিল নামে ওই যুবক এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মাদক সেবন থেকে শুরু করে মহিলাদের উত্যক্ত করা, সব কিছুতেই তার নাম জড়িয়েছে। কিন্তু বারবার পুলিশে অভিযোগ করেও কাজ হয়নি বলে তাঁরা দাবি করছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও যারা প্রত্যক্ষদর্শী, তাঁদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হিংসাত্মক মনোভাব থেকে এমন কাজ করা হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। কারণ, সাহিল এবং ওই তরুণীর মধ্যে আগে কোনও ব্যক্তিগত বিবাদ ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সমাজকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন ওই সংবেদনশীল অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র পুলিশি টহল নয়, এই ধরনের এলাকায় নিয়মিত মনিটরিং ও নজরদারি জরুরি। তবে এক তরুণীর ওপর প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হামলা, এবং তার পরেই অভিযুক্তের গা ঢাকা দেওয়া, গোটা ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে: শহরের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত? সাধারণ নাগরিকেরা কি আদৌ সুরক্ষিত রইলেন? পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়ির এই সংবেদনশীল এলাকায় আর যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মত শিলিগুড়ির বিদ্বজ্জনদের।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন :




