Secularism in India : ভারত ধর্মনিরপেক্ষ কেন

SHARE:

রীতা বিশ্বাস পান্ডে : ভারতেও ধার্মিক হওয়া বা ধর্মনিরপেক্ষ (Secularism) থাকার যুক্তিসঙ্গতা নির্ভর করে বেশ ক’য়েকটি বিষয়ের উপর, যেমন— ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সাংবিধানিক নীতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা। ক’দিন ধরে ভাবছি এসব নিয়ে। আজ সারাদিনের ভাবনার ফলাফল স্বরুপ এই লেখাটা নামানো গেল।

ভারতীয় সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর অর্থ হল রাষ্ট্র কোনও বিশেষ ধর্মকে সমর্থন করে না এবং সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করে।

১. ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য : ভারত একটি বহু ধর্মীয় দেশ এবং ধর্ম এখানকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে আসছে। তাই, ধার্মিক হওয়া অনেকের কাছে তাদের শিকড় এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

২.ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক তৃপ্তি: ধর্ম অনেক মানুষের জীবনে শান্তি, সান্ত্বনা ও আধ্যাত্মিক পথের দিশা দেখায়। যেমন আমাকে। আমার বন্ধুরা বলে রীতা তুই অতি ধার্মিক। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আমি নৈতিক মূল্যবোধ ও জীবনের অর্থ খুঁজে পায়।
৩.সামাজিক সংহতি ও সম্প্রদায়: ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলি প্রায়শই সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহায়তার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষ একত্রিত হয় এবং একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়।
৪.নৈতিক ভিত্তি: অনেক ধর্মই ন্যায়বিচার, সততা, দয়া ও সহানুভূতির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক মূল্যবোধের উপর জোর দেয়, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক।
৫.সাংবিধানিক নীতি: ভারতীয় সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর অর্থ হল রাষ্ট্র কোনও বিশেষ ধর্মকে সমর্থন করে না এবং সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করে।
৬.সমতা ও ন্যায়বিচার: ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রের চোখে সকল নাগরিক সমান, তাদের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে। এর ফলে ধর্মীয় ভেদাভেদ বা বৈষম্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
৭.বহুত্ববাদ ও সহিষ্ণুতা: ভারত একটি বহু ধর্মীয় ও বহু সংস্কৃতির দেশ। ধর্মনিরপেক্ষতা বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহিষ্ণুতাকে উৎসাহিত করে।
৮.আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ: ধর্মনিরপেক্ষতা একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজের ভিত্তি স্থাপন করে, যেখানে রাষ্ট্র ধর্মীয় গোঁড়ামি বা কুসংস্কার দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি অনুসরণ করে।
৯.ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা: ধর্মনিরপেক্ষতা প্রত্যেক নাগরিককে তার নিজস্ব বিশ্বাস অনুসরণ করার বা কোনও ধর্ম অনুসরণ না করার স্বাধীনতা দেয়। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কোনও প্রকার হস্তক্ষেপ করে না।
১০.উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য: ভারতে ধার্মিক হওয়া বা ধর্মনিরপেক্ষ থাকার মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট বিভাজন টানা কঠিন। অনেক মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শকে সমর্থন করেন। আবার, যারা প্রকাশ্যে ধর্মনিরপেক্ষ, তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও না কোনও ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থাকতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Special | 4th May 2025, Issue 63 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | সংখ্যা ৬৩ | ৪ মে ২০২৫, রবিবার

 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী কোনও সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

 

 

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন