শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বলিউডের পর্দায় তিনি মানেই অট্টহাসি, চেহারায় সরলতা আর অভিনয়ে নিখুঁত কৌতুকের ছোঁয়া। ছোটখাটো গড়ন, তীক্ষ্ণ এক্সপ্রেশন এবং স্বতন্ত্র ডায়লগ ডেলিভারিতে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন বহু আগেই। সেই জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) এখন আবার শিরোনামে। তবে এবার কোনও নতুন ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর আর্থিক অবস্থা, সম্পত্তির পরিমাণ এবং আইনি জটিলতা নিয়ে রাজপাল নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
২০২৬ সালে এসে রাজপাল যাদবের মোট সম্পত্তির অঙ্ক ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার মধ্যে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য হিট ছবিতে কাজ, বিজ্ঞাপন, মঞ্চ-শো এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ মিলিয়েই এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত আয় সত্ত্বেও কেন তাঁকে ঋণ ও আইনি মামলার জালে জড়াতে হল?প্রসঙ্গত, বলিউডে রাজপাল যাদবের উত্থান ছিল ধীরে ধীরে কিন্তু স্থির। ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু করে তিনি ক্রমে হয়ে ওঠেন ‘কমেডির কিং’। বড় বাজেটের ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও তিনি নজর কাড়তেন। বিশেষ সূত্রে খবর, জনপ্রিয়তার শীর্ষ সময়ে প্রতি ছবির জন্য তিনি ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিতেন। চরিত্রের গুরুত্ব ও প্রযোজনার বাজেট অনুযায়ী সেই অঙ্ক আরও বাড়ত বলেও শোনা যায়। মঞ্চ-অনুষ্ঠান ও লাইভ শোতেও তাঁর উপস্থিতির জন্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নির্ধারিত হত। আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ের অঙ্কও ছিল বিশাল। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের উদ্যোগ নেন রাজপাল যাদব। সেই সময় বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আর্থিক দায় মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চেক বাউন্স মামলায় তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। সূত্রের খবর, এই মামলাতেই তাঁকে তিহার জেল (Tihar Jail) পর্যন্ত যেতে হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই নেটমাধ্যমে একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে, ‘৮০ কোটির সম্পত্তি থাকলে ঋণ শোধে সমস্যা কোথায়?’ অর্থবিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পত্তির মূল্য এবং তরল অর্থ একই বিষয় নয়। সম্পদের বড় অংশ যদি স্থাবর সম্পত্তি, বিনিয়োগ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রকল্পে আটকে থাকে, তা হলে তাৎক্ষণিক ঋণ শোধে সমস্যা দেখা দিতেই পারে। চলচ্চিত্র প্রযোজনা একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র। ছবি ব্যর্থ হলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রাজপালের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মত। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ‘রাজপালজি কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে কারও টাকা আটকে রাখেননি। প্রযোজনার ক্ষতি সামলাতে গিয়েই সমস্যার সূত্রপাত।’ যদিও এই বিষয়ে অভিনেতার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজপাল যাদবের অভিনয়-জীবন কিন্তু থেমে নেই। নতুন প্রজন্মের নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে সমান তালে তিনি কাজ করছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ছে। কমেডির পাশাপাশি চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বলিউডে আজও তাঁর চাহিদা রয়েছে বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। ব্যক্তিগত জীবনে বিতর্ক থাকলেও দর্শকের মনে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীরা লিখছেন, ‘ভুল হতেই পারে, কিন্তু রাজপাল যাদবের মতো প্রতিভা বারবার জন্মায় না।’ আবার কেউ কেউ মত দিয়েছেন, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ভুল সিদ্ধান্তই তাঁকে বিপদে ফেলেছে।’
সূত্রের খবর, অভিনেতার সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মুম্বাইয়ে (Mumbai) একাধিক ফ্ল্যাট, উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) পৈতৃক সম্পত্তি এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ। গাড়ির সংগ্রহেও রয়েছে বিলাসবহুল মডেল। তবে এসবের পরও আইনি ঝামেলা তাঁর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকে। কিন্তু ২০২৬ সাল রাজপাল যাদবের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। একদিকে আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে নতুন কাজের সম্ভাবনা, দু’য়ের টানাপোড়েনে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। বলিউডের বহু সহকর্মী ইতিমধ্যেই তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘পর্দায় রাজপাল মানেই দর্শকের হাসি, আর সেই হাসির মূল্য অপরিসীম।’ কিন্তু, রাজপাল যাদবের আর্থিক উত্থান-পতনের কাহিনি যেন একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যই। সাফল্য, ঝুঁকি, ব্যর্থতা ও লড়াই, এসব নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল বাস্তব। কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ভুলে কীভাবে বিপাকে পড়তে হয়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। এখন দেখার, আইনি জট কাটিয়ে আবারও পুরনো ছন্দে ফিরতে পারেন কি না এই জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajpal Yadav Cheque Bounce Case | চেক বাউন্স মামলায় শেষমেশ জেলযাত্রা, তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করলেন রাজপাল যাদব




