Primary teacher recruitment WB, interview postponed TET | প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধাক্কা: ইন্টারভিউ স্থগিত, ‘এপ্রিল ফুল’ বলছেন চাকরিপ্রার্থীরা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নতুন নিয়োগের আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীদের জন্য পয়লা এপ্রিল যেন এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হয়ে এল। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ -এর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার (Primary teacher recruitment WB) প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ছড়িয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। যাঁরা এত দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে কটাক্ষ করছেন। আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হবে সাক্ষাৎকার পর্ব এবং তা চলবে মে মাস পর্যন্ত। সেই অনুযায়ী বহু প্রার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে কলকাতায় আসার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু আচমকাই জানানো হয়, আপাতত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে। যদিও পর্ষদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি, তবে ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই-কে এগিয়ে? (আজ দ্বিতীয় কিস্তি)

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৩ হাজার ৪২১ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কবে আবার ইন্টারভিউ শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলের অনুমান, আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরেই হয়তো ফের সাক্ষাৎকার শুরু হতে পারে। একজন চাকরিপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল (Gautam Pal) বলেছিলেন, বছরে অন্তত দু’বার নিয়োগ হবে। টেট পাশ কেউ বসে থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে তিন বছর পর বিজ্ঞপ্তি এল, তার পর ইন্টারভিউর তারিখও ঘোষণা হল। এখন হঠাৎ করে তা বন্ধ হয়ে গেল। মনে হচ্ছে আমরা এপ্রিল ফুল হয়ে গেলাম।’ এই বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর মনের অবস্থা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোতে শুরু করেছিল, তখনই এই স্থগিতাদেশ তাঁদের হতাশ করেছে।

উল্লেখ্য, শেষবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের টেট (TET) উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। তবে ২০২২ ও ২০২৩ সালের টেট উত্তীর্ণ এবং ডিএলএড (D.El.Ed) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু প্রার্থী এখনও পর্যন্ত সুযোগ পাননি। ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে চলছে। কখনও বিজ্ঞপ্তি দেরিতে প্রকাশ, কখনও আইনি জটিলতা, আবার কখনও প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব, এই সব মিলিয়ে তাঁদের কেরিয়ার পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে।

অনেক প্রার্থী ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘যে ভাবে ইন্টারভিউর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল এবার অন্তত প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে। কিন্তু হঠাৎ করে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে বড় ধাক্কা লাগছে।’ শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচন আসন্ন থাকায় প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন সেই প্রার্থীরা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র শিক্ষকতার চাকরির আশায় অন্য পেশায় যাননি। তাঁদের অনেকেই বয়সসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন। ফলে এই বিলম্ব তাঁদের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করছে।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, দ্রুত নতুন করে ইন্টারভিউর সময়সূচি ঘোষণা করা হোক এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হোক। তাঁদের মতে, ‘বছরের পর বছর অপেক্ষার পর এ ভাবে প্রক্রিয়া থমকে গেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে।’ প্রসঙ্গত, বর্তমান পরিস্থিতিতে চোখ এখন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Primary Education) -এর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কবে আবার শুরু হবে সাক্ষাৎকার, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া সব সময়ই সংবেদনশীল বিষয়। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Leander Paes BJP join news, WB Elections 2026 | নিউ টাউনের গোপন বৈঠক থেকে দিল্লির মঞ্চ : বিজেপিতে লিয়েন্ডার পেজের যোগ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন