সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফের বিতর্কে সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার পলাশ মুচ্ছল (Palash Muchhal)। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) -এর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাঁর। এ বার পলাশের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন স্মৃতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মরাঠী ছবির প্রযোজক বৈভব মানে (Vaibhav Mane)। অভিযোগ, একটি ছবির কাজের নাম করে প্রযোজকের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন পলাশ, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত না দিয়েই তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পলাশ নিজেই।
সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে এগিয়ে আসেন পলাশ মুচ্ছল। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, ‘সাংলির বৈভব মানে আমার বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে যে সব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তথ্যগত দিক থেকেও ভুল। ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই এবং এটি একটি পরিকল্পিত প্রচার।পলাশ এখানেই থামেননি। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে। নিজের পোস্টে পলাশ লেখেন, ‘আমার আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিঠারে (Shreyansh Mithare) বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। আইন মেনেই এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়া হবে।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কী নিয়ে এই আর্থিক টানাপড়েন এবং কেন হঠাৎ করে প্রকাশ্যে এল অভিযোগ।
অভিযোগকারী বৈভব মানে জানিয়েছেন, পলাশের সঙ্গে যৌথ ভাবে তিনি ‘নজ়ারিয়া’ (Nazariya) নামে একটি ছবির কাজ শুরু করেছিলেন। এই ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল পলাশের হাতে। প্রযোজকের দাবি, ছবিটি তৈরির সময় পলাশ তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তিনি ধাপে ধাপে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পলাশকে দেন। বৈভবের অভিযোগ অনুযায়ী, ছবির শুটিং ও অন্যান্য কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মুক্তি নিয়ে কোনও স্পষ্ট উদ্যোগ নেননি পলাশ। শুধু তা-ই নয়, টাকা ফেরত চাওয়া হলে নাকি তিনি এড়িয়ে যান। অভিযোগ, এক সময় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন পলাশ, যা থেকে প্রযোজকের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। বৈভবের বক্তব্য, ‘আমি বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর কোনও স্বচ্ছতা পাইনি।’
এই অভিযোগ ঘিরে বিনোদন মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ এর আগেও পলাশ মুচ্ছলের নাম জড়িয়েছিল ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত বিতর্কে। স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও সেই সম্পর্ক ভাঙার সময়ও প্রকাশ্যে খুব কমই মুখ খুলেছিলেন পলাশ। এ বার আর্থিক প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আইনজ্ঞদের মতে, যদি এই অভিযোগ আদালতে গড়ায়, তা হলে প্রমাণ ও নথিপত্রই হবে মূল বিষয়। আদৌ টাকা কোন খাতে দেওয়া হয়েছিল, চুক্তির শর্ত কী ছিল, এবং ছবির মুক্তি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি লিখিত আকারে ছিল কি না, এই সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। অন্য দিকে, পলাশের তরফে অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বস্তুত, বর্তমানে এই বিতর্কে দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এক দিকে প্রযোজকের অভিযোগ, অন্য দিকে সঙ্গীতশিল্পীর পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি। শেষ পর্যন্ত এই আর্থিক লেনদেনের সত্যতা কী এবং ‘নজ়ারিয়া’ ছবির ভবিষ্যৎই বা কী, তা সময়ই বলবে। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পলাশ মুচ্ছলের জীবনে এই মুহূর্তে সুরের চেয়ে বিতর্কের সুরই বেশি শোনা যাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana Palash Muchhal Wedding | বিয়ে বাতিলের পর আরও কঠোর সিদ্ধান্ত! স্মৃতি মন্ধানা ও পলাশ মুচ্ছল নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন




