Molestation Case, Child Abuse Case West Bengal | গোপনাঙ্গে হাত বুলিয়ে নাবালিকাকে নির্যাতন, অভিযুক্তকে আরামবাগ আদালত শোনাল কড়া সাজা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ আরামবাগ : আরামবাগ (Arambag) থেকে উঠে এল নৃশংস অপরাধের রায়, যা আবারও সমাজে শিশু সুরক্ষা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিল। পর্যটনকেন্দ্রে একা পেয়ে দশ বছরের এক নাবালিকাকে হাত-পা বেঁধে শ্লীলতাহানি করার ঘটনায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আরামবাগ মহকুমা আদালত (Arambag Sub-Divisional Court)। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে দোষীকে। বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ এই সাজা ঘোষণা করেন বিচারক কিশানলাল আগরওয়াল (Judge Kishanlal Agrawal)।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দিন দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ হুগলির গোঘাট (Goghat) এলাকার একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে ঠাকুমার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল দশ বছরের ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির ফাঁকে সে পার্ক এলাকায় একা খেলছিল। ঠিক সেই সময়ই অভিযুক্ত সুযোগ বুঝে শিশুটির পিছন থেকে এসে আচমকা তাকে জোর করে ধরে ফেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত নাবালিকার হাত ও মুখ চেপে ধরে তাকে কার্যত অসহায় করে তোলে। এরপর শিশুটির গোপনাঙ্গে হাত বুলিয়ে চরম শ্লীলতাহানি চালায়। ঘটনার পর ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় নাবালিকাকে সেখানেই ফেলে রেখে অভিযুক্ত চম্পট দেয়। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় মানুষজন ওই পার্ক এলাকায় এসে কান্নার শব্দ শুনে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। খবর দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের।

বাড়ি ফিরে নাবালিকার মা গোঘাট থানায় (Goghat Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি আরামবাগ মহকুমা আদালতে বিচারাধীন ছিল। প্রসঙ্গত, এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালেই। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং মেডিক্যাল রিপোর্টসহ একাধিক নথি খতিয়ে দেখার পর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত বলে মনে করে। সরকারি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে স্পষ্টভাবে জানান, এটি শুধুমাত্র শ্লীলতাহানির ঘটনা নয়, এটি শিশু সুরক্ষা আইন ও সমাজের নৈতিকতার উপর সরাসরি আঘাত। বিচারক কিশানলাল আগরওয়াল রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘নাবালিকার বিরুদ্ধে এই ধরনের অপরাধ সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম দায়িত্ব।’ আদালতের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেই কারণেই অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, পর্যটনকেন্দ্র বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাতেও শিশুদের নিরাপত্তা যে কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।
আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় রাজ্যে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। বিশেষ করে পকসো আইন (POCSO Act) ও সংশ্লিষ্ট ধারায় দ্রুত বিচার ও কড়া শাস্তি অপরাধীদের মনে ভয় সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে নির্যাতিত পরিবারগুলির মধ্যেও আইনের প্রতি আস্থা বাড়বে বলে মত তাঁদের। এদিকে, নাবালিকার পরিবার জানিয়েছে, আদালতের রায়ে তাঁরা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করছেন। তবে ঘটনার মানসিক ক্ষত এখনও পুরোপুরি কাটেনি। শিশুটির কাউন্সেলিং ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র ও পার্কগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথতা নিয়ে। পর্যাপ্ত সিসিটিভি, নিরাপত্তারক্ষী এবং নিয়মিত টহলের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জায়গায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। তবে, আরামবাগ আদালতের এই রায় সমাজের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা যে, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly, Interim Budget 2026 | নির্বাচনের মুখে অন্তর্বর্তী বাজেট: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শেষ অধিবেশনে নজর মমতার বার্তা ও রাজনৈতিক কৌশলে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন