Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

SHARE:

ভারতে মোবাইল রিচার্জের ক্রমবর্ধমান খরচে বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার। সরকারের হস্তক্ষেপ না হলে আর্থিক কাঠামোতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : হঠাৎ করেই মোবাইল রিচার্জ-এর মূল্য বেড়ে যাওয়ার ফলে সাংঘাতিক ভাবেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে আমজনতার মধ্যে। সরকার এই দিকে নজর না দিলে হয়ত আন্দোলন মুখী হয়ে উঠতে পারে জনগণ। উল্লেখ্য, ভারতে মোবাইল ফোন এখন আর বিলাস নয়, জীবনের অপরিহার্য অংশ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, চিকিৎসা কিংবা সরকারি পরিষেবা সব ক্ষেত্রেই মোবাইল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মোবাইল রিচার্জের ক্রমবর্ধমান খরচ সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। বিশেষত মধ্যবিত্ত এবং দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের জন্য এই খরচ এক গভীর সংকট তৈরি করছে।

একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত নজর না দেয়, তবে দেশের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আর্থিক কাঠামোতেও প্রভাব পড়বে। গবেষণাটি দেখিয়েছে, মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রা ও আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধরা যাক, ১০০টি সাধারণ পরিবারের হিসেব। প্রতিটি পরিবারে গড়ে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য থাকেন। চারজনের হাতে চারটি স্মার্টফোন ধরা হলে, প্রত্যেককে ন্যূনতম ৩৫০ টাকার রিচার্জ করতেই হয়। অর্থাৎ মাসে একেকটি পরিবারের মোবাইল রিচার্জ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১,৪০০ টাকা। বছরে সেই অঙ্ক গিয়ে পৌঁছয় ১৬,৮০০ টাকায়। অথচ এই পরিবারগুলির অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একজন বা দুইজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকেন। কিছু পরিবারে আবার কেউ কাজ করেন না। ফলে মাসিক আয়ের তুলনায় রিচার্জের খরচ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এক বড় আর্থিক বোঝা।

ভারতে মোবাইল রিচার্জের ক্রমবর্ধমান খরচে বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার। সরকারের হস্তক্ষেপ না হলে আর্থিক কাঠামোতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ছবি: প্রতীকী

অন্যদিকে দেশের বেশিরভাগ পরিষেবা এখন ডিজিটালাইজড। যেকোনও সরকারি প্রকল্প, ব্যাংকিং কাজ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে হলে ফোনে ওটিপি (OTP) অপরিহার্য। আবার নেট ব্যাঙ্কিং, পেমেন্ট অ্যাপ, টিকিট বুকিং সবকিছুই নির্ভর করছে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর। অর্থাৎ, রিচার্জ না করলেই পরিবারগুলি মূল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে।

এমন পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদেরও উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ড. সৌমেন দত্ত বলেন, “এখন মোবাইল আর বিলাস নয়, বরং প্রয়োজন। অথচ রিচার্জের খরচ যখন প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তখন তা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে গুরুতর চাপ তৈরি করছে। সরকারের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করা। না হলে এর প্রভাব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপরও পড়বে।” শুধু তাই নয়, রিচার্জ কোম্পানিগুলির দিকেও অভিযোগের আঙুল উঠছে। অনেক টেলিকম সংস্থা একের পর এক প্ল্যানের দাম বাড়িয়ে চলেছে। একইসঙ্গে ফ্রি কলিং বা ইন্টারনেটের সীমা কমিয়ে দিয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করছেন। সমাজকর্মী অনিন্দিতা সেন বলেন, “এটা এক ধরনের অলিখিত ট্যাক্সের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ব্যবহার না করলেই মানুষ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে রিচার্জ এখন বাধ্যতামূলক খরচে পরিণত হয়েছে।”

অন্যদিকে মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র পরিবারগুলির মধ্যে নতুন আরেকটি সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি। সস্তায় ডেটা পাওয়া যাওয়ার পর থেকে মানুষ বিনোদন বা যোগাযোগের জন্য নির্ভর করছে মোবাইলের ওপর। কিন্তু রিচার্জের খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন এর আর্থিক চাপ সামলাতে না পেরে মানসিক হতাশায় ভুগছেন অনেকেই। মনোবিজ্ঞানী প্রফেসর অরুণাভ মুখার্জি বলেন, “ডিজিটাল আসক্তি এখন এক বাস্তব সমস্যা। মানুষ একদিকে যোগাযোগ ও কাজের জন্য বাধ্য হয়ে রিচার্জ করছে, অন্যদিকে এর আর্থিক চাপে মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ছে।”

অন্যদিকে মোবাইল রিচার্জ কোম্পানিগুলি কিন্তু ফুলেফেঁপে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্থাগুলি প্রতিনিয়ত গ্রাহকের সংখ্যা এবং মুনাফা বাড়াচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকেরা যে এই চাপ সহ্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা কোম্পানিগুলি প্রায় উপেক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থার দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্রেতা অসন্তোষ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব টেলিকম সংস্থার ওপরও পড়তে পারে। গবেষণাটি আরও দাবি করছে, সরকার যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভারতকে একদিকে প্রযুক্তি-নির্ভর উন্নয়ন দেখাতে হলেও অন্যদিকে আর্থিক দুর্বলতার ভার বইতে হবে। আর্থিক চাপের কারণে ঋণগ্রস্ত পরিবার বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে। আবার সামাজিক সংগঠনগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, মোবাইল রিচার্জ যেন এক মৌলিক প্রয়োজনীয় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত হয় ও এর দাম নিয়ন্ত্রণে আনে সরকার। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।

ভেবে দেখার বিষয়, ১৬,৮০০ টাকা বাৎসরিক একটি পরিবারের তাহলে ১০০ টি পরিবারের মোবাইল রিচার্জে মোট খরচ হবে ১,৬৮০, ০০০ টাকা। তাহলে ভেবে দেখুন আমাদের দেশে কোটি কোটি পরিবার এক মাসের রিচার্জে কত লক্ষ কোটি টাকা কোম্পানিগুলিকে দিয়ে দিচ্ছে। সরকারের জি এস টি দরুন টাকাও গ্রাহকের কাছ থেকেই তুলে নিচ্ছে কোম্পানি। ভারত সরকারের টেলিফোন দপ্তরে নজর প্রধানমন্ত্রীর না পড়লে খুব শীঘ্রই দেশের অর্থনীতি অনেকটাই ঢিলে হয়ে যাবে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের
এক কথায়, মোবাইল রিচার্জ এখন কেবলমাত্র একটি টেকনিক্যাল খরচ নয়, বরং দেশের সামাজিক ও আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি উঠছে দ্রুত নজর দেওয়ার। না হলে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষ আগামী দিনে আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হবেন।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sara Tendulkar viral video, Sachin Tendulkar family, Arjun Tendulkar Sania Chandok engagement | শচীন তেন্ডুলকরের পরিবারে মিষ্টি মুহূর্ত, সানিয়া চণ্ডকের সঙ্গে সারা তেন্ডুলকরের ভিডিও আবার ভাইরাল

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন