সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : আইপিএল (IPL 2026) -এর মঞ্চে ব্যাটের ঝলকানি নতুন কিছু নয়, কিন্তু রবিবার ওয়াংখেড়েতে যা ঘটল, তা রীতিমতো ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) -এর করা ২২০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য অনায়াসে টপকে ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians বা MI)। এই জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), যার ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শনিবার বিরাট কোহলি (Virat Kohli) -এর পর রবিবার রোহিত, দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আবারও মনে করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে সরে গেলেও তাঁদের ব্যাট এখনও সমান কার্যকর। এই ম্যাচে রোহিত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। মাত্র ৩৮ বলে ৭৮ রান করে তিনি এমন ভিত গড়ে দেন, যার উপর দাঁড়িয়ে সহজেই জয় তুলে নেয় মুম্বাই।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা। ওপেনার অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane) ও ফিন অ্যালেন (Finn Allen) পাওয়ার প্লে-তেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। প্রথম ছ’ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৭৮ রান তুলে নেয় কেকেআর। অ্যালেনের ব্যাটে আগ্রাসী শটের ঝড় দেখা যায়। তিনি ১৭ বলে ৩৭ রান করেন। রাহানেও ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলছিলেন। প্রথম ধাক্কা দেন শার্দূল ঠাকুর (Shardul Thakur)। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে অ্যালেন ফিরে যান। পরে ক্যামেরন গ্রিনকেও (Cameron Green) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৮ রান করে আউট হন গ্রিন। মাঝের ওভারে কিছুটা গতি হারালেও রাহানে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং ৪০ বলে ৬৭ রান করে আউট হন। এরপর অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (Angkrish Raghuvanshi) আবার ইনিংসে গতি ফেরান। তরুণ এই ব্যাটার ২৯ বলে ৫১ রান করে নজর কাড়েন। শেষদিকে রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh) ২১ বলে ৩৩ রানের ঝটপট ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান তোলে কেকেআর, যা যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু, এই লক্ষ্যকে কঠিন করে তুলতে পারেনি কলকাতার বোলিং আক্রমণ। মুম্বইয়ের হয়ে ওপেন করতে নেমে রোহিত শর্মা ও রিকেলটন (Ryan Rickelton) শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন। তৃতীয় ওভারেই বৈভব অরোরাকে (Vaibhav Arora) টানা তিনটি ছক্কা মারেন তাঁরা। সেখান থেকেই ম্যাচের গতি বদলে যায়।
রোহিত মাত্র ২২ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি বেরোতে থাকে। কেকেআরের প্রধান স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) ও সুনীল নারাইনকে (Sunil Narine) বিশেষ কোনও সমস্যা ছাড়াই খেলেন মুম্বাইয়ের ব্যাটাররা। রোহিত বিশেষভাবে বরুণকে নিশানা করেন। রিকেলটনও পিছিয়ে ছিলেন না। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৪৩ বলে ৮১ রান করে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি ছক্কা। যদিও শেষদিকে একটি দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হন তিনি, কিন্তু তখন ম্যাচ প্রায় মুম্বাইয়ের মুঠোয়।

রোহিত আউট হওয়ার পরও চাপ তৈরি হয়নি। তিলক বর্মা (Tilak Varma), হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও রাদারফোর্ড (Sherfane Rutherford)-এর উপস্থিতিতে রান তাড়া করা সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ৫ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মুম্বাই। এই জয় একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলের ইতিহাসে এটি মুম্বইয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। পাশাপাশি ২০১২ সালের পর প্রথম ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করল তারা। দীর্ঘদিন ধরে প্রথম ম্যাচে হারার ধারা ভেঙে দিল এই জয়। অন্যদিকে, ওয়াংখেড়ে-তে কেকেআরের হতাশাজনক রেকর্ড আরও খারাপ হল। ১৩ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হারল তারা। বোলিং ও ফিল্ডিং, দুই বিভাগেই দুর্বলতা ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। রোহিত শর্মার ফিটনেসও এই ম্যাচে নজর কেড়েছে। আগের তুলনায় অনেক হালকা দেখাচ্ছিল তাঁকে, যা তাঁর ব্যাটিংয়েও প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই ছন্দ তিনি বজায় রেখে খেলেছেন। কিন্তু, মোটের উপর, প্রায় ৪৫০ রানের ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীরা পেলেন ব্যাটিংয়ের এক দারুণ প্রদর্শনী। তবে শেষ হাসি হাসল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, আর সেই হাসির কেন্দ্রে ছিলেন রোহিত শর্মা।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL 2026 Comeback Players | আইপিএল ২০২৬: জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে পাঁচ তারকা ব্যাটার, কোহলি-রোহিতের নজরেও কারা?




