Mamata Banerjee Durga Puja 2025 | চেতলা অগ্রণীতে চক্ষুদান করলেন মমতা, একসঙ্গে উদ্বোধন হল কলকাতা ও জেলার একাধিক পুজো

SHARE:

দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণীতে দেবীর চক্ষুদান করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধন করলেন যোধপুর পার্ক, ৯৫ পল্লী-সহ জেলার একাধিক দুর্গাপুজো। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন হল মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক গ্রাম চাকাইপুরের পুজোও।

কৌশিক রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দুর্গোৎসবের আমেজে ভাসছে রাজ্য। আর সেই উৎসবের সূচনায় প্রতিবারের মতো এ বছরও একাধিক পুজোমণ্ডপের উদ্বোধনে শামিল হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার থেকেই তিনি কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে পুজো উদ্বোধন শুরু করেছেন। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণীতে দেবীর চক্ষুদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) পুজো বলে পরিচিত। দেবী দুর্গার প্রতিমার চক্ষুদান প্রতিষ্ঠার ওই মুহূর্তে ভিড় জমে যায় এলাকায়। চেতলা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় জেলার একাধিক পুজোও।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু কলকাতার জনপ্রিয় পুজো নয়, জেলার প্রতিটি গ্রাম ও শহরের মানুষের সঙ্গেও উৎসব ভাগ করে নিতে চান। সেই লক্ষ্যেই রবিবার তিনি উদ্বোধন করেছেন যোধপুর পার্ক সর্বজনীন, ৯৫ পল্লী, সেলিমপুর পল্লী, বাবুবাগান, বান্ধন সম্মিলনীর মতো নামী মণ্ডপ। একই মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি সূচনা করেছেন নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজোরও। শুধু শহর নয়, জেলার মানুষের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন উৎসবের আনন্দ। বীরভূমের রামপুরহাট ১ ব্লকের কুসুম্বা গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকাইপুর মহামায়া ক্লাবের দুর্গোৎসবেরও তিনি ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। আবেগঘন মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার জীবনে আজ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। কিন্তু চাকাইপুর গ্রাম আমার পিতার জন্মস্থান, পিতৃভূমি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এবার সশরীরে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা হয়নি। তবে বীরভূম সফরে গেলে অবশ্যই সেখানে যাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

চেতলা অগ্রণীতে মণ্ডপ উদ্বোধন সেরে সেখান থেকেই জেলার একাধিক পুজোতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) দলীয় মুখপত্রের উৎসব সংখ্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও পুজোর আবহ ছড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পর তিনি লেখেন, “মায়ের পুণ্যাশিস সকলের জীবনে বয়ে আনুক আনন্দধারা। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাংলায়, দুর্গোৎসবে সকল মানুষ একসঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হোক। বাংলার প্রতিটি মানুষের জীবন হয়ে উঠুক আলোকোজ্জ্বল- মা ত্রিভুবনেশ্বরীর চরণে এই প্রার্থনা আমার। উৎসব আর আনন্দে আলোকিত হয়ে উঠুক এই মঙ্গলালোক, এই বাংলা।”

শনিবারও মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেছিলেন হাতিবাগান সর্বজনীন, টালা প্রত্যয় ও শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মতো বিখ্যাত পুজো। সামনে সোমবার তাঁর আরও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে। আলিপুর সর্বজনীন, বেহালা নূতন জল, বরিষা, অজেয় সংহতি, বোসপুকুর শীতলা মন্দির, বোসপুকুর তালবাগান, গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান ক্লাব, কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ, চেতলা কোলাহল গোষ্ঠী, হরিদেবপুর ৪১ পল্লীর একাধিক পুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গত, শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি মানুষকে দুর্গাপুজোর আনন্দে সামিল করার বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উপস্থিতি মণ্ডপে ভিড় বাড়াচ্ছে, আবার ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমেও পৌঁছে যাচ্ছে উৎসবের আলো। ফলে উৎসবকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ হচ্ছে শহর কলকাতা থেকে বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত।

ছবি : সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee new book on Prime Ministers | প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন বই আনছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন