



‘নারী কখনও ধর্ষক হতে পারে না বা নারী কখনও ধর্ষণ করতেই পারে না’ -এই ভ্রান্ত ধারণাটি আমার মনে হয় এবার পরিবর্তন হওয়া উচিত। তাই বলা যেতে পারে, একজন নারীও আর একজন নারীর থেকে সুরক্ষিত নয়। আবারও বলা যেতে পারে, একজন নারীও কিন্তু কোনও বিশেষভাবে সক্ষম প্রতিবন্ধী পুরুষের সঙ্গে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বলপূর্বকভাবে তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করতে পারেন। এবং তার শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে কিন্তু নারীও ধর্ষক হিসেবেই প্রমাণিত হচ্ছেন। আলোচনায় করলেন : সমাজ-মনোবিশ্লেষক জয়দেব বেরা

আমাদের একটি ভুল ধারণা বা ভাবনা রয়েছে। সেটি হল, “ধর্ষক মানেই সবসময় পুরুষ, নারীরা কখনই ধর্ষক হতেই পারেন না”। এই রকম ভাবনা কেবল আমাদের মধ্যে নয় উচ্চ শিক্ষিত এবং বিচারপতিদের মধ্যেও রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখলাম, বলা হয়েছে : “মহিলারা ধর্ষক হতে পারেন না, তবে ধর্ষণে প্ররোচনার দায়ে তাঁদের অভিযুক্ত করা যেতেই পারে: মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট (সূত্র:আনন্দবাজার,৩০ মার্চ ২০২৫)। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের এই ভাবনায় যে লাইনটি নিয়ে আমার আপত্তি রয়েছে, সেটি হল: “মহিলারা ধর্ষণ করতে পারেন না ঠিকই”। কেবল এই লাইনটি নিয়েই আমার একটু আপত্তি রয়েছে। এখানে কোনও নারীবাদ বা পুরুষবাদ এইসব নিয়ে বিতর্ক করছি না। কেবল ওই কথাটি নিয়েই বলতে চাইছি।আমার মনে হয় ধর্ষণ এর সংজ্ঞাটা আমাদেরকে ভাল করে বোঝা উচিত বা উপলব্ধি করা উচিত। ধর্ষণ হল এক যৌন নিপীড়ন। যখন কোনও বিপরীত বা সম লিঙ্গের মানুষ তার পরিচিত বা অপরিচিত যৌন সঙ্গীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বলপূর্বক বা জোর-জবরদস্তিমূলক ভাবে তার সঙ্গে যৌন মিলন করেন এবং তার শরীরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেন তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় ধর্ষণ। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি জানলাম, সেটি হল বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের পাশাপাশি সমলিঙ্গ মানুষদের কথাও। অর্থাৎ সবসময় যে একজন/একাধিক পুরুষ একজন/একাধিক নারীকে ধর্ষণ করেন তা কিন্তু নয়। আমার মনে হয়, এই বিষয়টিকে আরও গভীর প্রেক্ষাপটে ভাবা উচিত।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, একজন নারীও আর একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বলপূর্বকভাবে তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করতে পারেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে লেসবিয়ান নারীদের কথা বলছি।যেখানে একজন লেসবিয়ান নারী অন্য লেসবিয়ান নারী বা লেসবিয়ান নয় এমন নারীকেও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার সঙ্গে বলপূর্বক এবং জোর-জবরদস্তিমূলক ভাবে তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করতে পারেন এবং তার শরীরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন।তাহলে এই ঘটনাটিকে কেন ধর্ষণ বলা যাবে না? ধর্ষণের ক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলো থাকে সেই সেই বিষয়গুলো কিন্তু এই ক্ষেত্রেও লক্ষণীয় হতে পারে।তাহলে ‘নারী কখনও ধর্ষক হতে পারে না বা নারী কখনও ধর্ষণ করতেই পারে না’ -এই ভ্রান্ত ধারণাটি আমার মনে হয় এবার পরিবর্তন হওয়া উচিত। তাই বলা যেতে পারে, একজন নারীও আর একজন নারীর থেকে সুরক্ষিত নয়। আবারও বলা যেতে পারে, একজন নারীও কিন্তু কোনও বিশেষভাবে সক্ষম প্রতিবন্ধী পুরুষের সঙ্গে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বলপূর্বকভাবে তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করতে পারেন। এবং তার শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে কিন্তু নারীও ধর্ষক হিসেবেই প্রমাণিত হচ্ছেন।

সমাজ বিশ্লেষক হিসাবে তাই আমার মনে হয় : “একজন নারী ধর্ষণ করতে পারবে না বা পারে না তা কিন্তু সঠিক ভাবনা নয়। ধর্ষণ নারী ও পুরুষ উভয়ই করতে পারেন।

আমাদেরকে যে বিষয়টির উপর জোর দিতে হবে তা হল, ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনা। সেটা নারী দ্বারা হোক কিংবা পুরুষ দ্বারাই হোক।” সুতরাং আমার মনে হয়, ধর্ষণেরর ঘটনা নারী ও পুরুষ উভয় দ্বারাই সংঘটিত হতে পারে, উভয়ই ধর্ষক হিসাবে সমাজ ও আইনের চোখে অপরাধী হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন।🍁
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
