london plane accident news | লন্ডনে বিমান দুর্ঘটনা: ওড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে আছড়ে পড়ে আগুনের গোলা, দাউদাউ করে জ্বলল রানওয়ে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ লন্ডন : লন্ডন থেকে শুরু হওয়া একটি যাত্রা শেষ হল মৃত্যু ও বিভীষিকার আশঙ্কায়। রবিবার রাতে লন্ডনের (London) সাউথএন্ড বিমানবন্দরে (Southend Airport) ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ব। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার কিছু পরে উড্ডয়নের মুহূর্তেই একটি ছোট আকারের বিমান রানওয়েতে আছড়ে পড়ে। তারপরই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বিমানটি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাতের এই দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে লন্ডনজুড়ে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “বিমানটি রানওয়ে থেকে উঠতেই পারল না। মুহূর্তের মধ্যে শব্দ করে মাটিতে পড়ল। তারপর আগুনের গোলার মতো ছুটে গেল।” উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বিমানবন্দরের একাংশ। এসেক্স পুলিশ (Essex Police) ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। তবে কতজন আরোহী ছিলেন ও তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, বিমানটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ মিটার। সর্বাধিক ১১ জন যাত্রী বহনে সক্ষম এই ছোট বিমানে এদিন কতজন ছিলেন, তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। সূত্রের খবর, বিমানটি নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে আকাশে পা রাখতেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পুলিশ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট। তবে প্রাথমিক অনুমান, টেকঅফের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনও মেকানিক্যাল ফেইলিউরের জেরে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের বক্তব্য, দুর্ঘটনার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, বিমানটিতে থাকা আরোহীদের কেউই হয়তো প্রাণে বাঁচেননি। “দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও আগুনের মাত্রা দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভিতরে কেউ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ,” জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত রানওয়ে পরিষ্কার ও অন্যান্য ফ্লাইটের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে। এদিকে, দুর্ঘটনার তদন্তে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা (Air Accident Investigation Branch) নামানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, “এক মুহূর্তে সব শেষ। জ্বলন্ত বিমান রানওয়ে জুড়ে ছুটছিল। বিস্ফোরণের শব্দ এত তীব্র ছিল যে কানে তালা লেগে গিয়েছিল।” দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। লন্ডনের (London) মেয়র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি দুর্ঘটনা। আমরা প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সহায়তা করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।” এর আগে ইউরোপের (Europe) বিভিন্ন দেশে ছোট আকারের চার্টার্ড ফ্লাইট বা প্রাইভেট জেট দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি নজির রয়েছে। ২০২৪ সালেই এমন এক দুর্ঘটনায় জার্মানিতে মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। এদিনের দুর্ঘটনাও সেই স্মৃতিকে ফিরিয়ে দিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বিমানের ক্ষেত্রে উড়ানের প্রাথমিক মিনিটগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রযুক্তিগত খুঁত বা হঠাৎ ইঞ্জিন ফেইলিউর হলে পাইলটের কাছে তেমন সময় থাকে না। ঠিক কী কারণে এই বিমানটি ভেঙে পড়ল, তা জানতে ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ হবে।

দুর্ঘটনার পর থেকে বিমানবন্দরের যাত্রীরা আতঙ্কিত। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছেন, “রানওয়েতে আগুন জ্বলছিল। গোটা এলাকা কেঁপে উঠেছিল।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।বিশ্লেষকদের ধারণা, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এক বিশেষজ্ঞ জানান, “ছোট বিমানগুলোতেও সর্বোচ্চ মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রুটি ধরা পড়লে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।” ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও বিমান দুর্ঘটনার এই কালো ইতিহাস আরও দীর্ঘ করল রবিবারের রাত।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Zero-Sum Thinking America | আমেরিকায় বাড়ছে ‘জিরো-সম থিংকিং’-এর ঝোঁক

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন