পরিধি চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ, মুম্বাই : বলিউডের সুপারফিট অ্যাকশন হিরো জন আব্রাহাম (John Abraham) আর তাঁর স্ত্রী প্রিয়া রাঞ্চাল (Priya Runchal) দু’জনেই লাইমলাইট থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন। যদিও তাঁদের বিবাহিত জীবনের ইতিমধ্যেই ১১ বছর পেরিয়েছে, এখনও তাঁরা ‘বাবা-মা’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। এই নিয়েই ফের শিরোনামে এসেছেন জন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ‘সিস্টেম সেট না হওয়া পর্যন্ত বাবা হওয়ার কথা ভাবছেন না।’
সম্প্রতি পুরনো একটি সাক্ষাৎকারে জন তাঁর পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে খোলাখুলি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি আমার কাজের জায়গায় সমস্ত সিস্টেম ঠিকঠাক বসানোর দিকেই মন দিচ্ছি।’ জনের কথায়, ‘আমার একটি ফুটবল টিম রয়েছে—নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি (Northeast United FC)। এটা আমার মাথার উপরে সবসময়েই থাকে। পাশাপাশি, আমার একটি প্রোডাকশন হাউস আছে, আমি অভিনয় করছি সিনেমাতেও। ফলে এত কিছু চলছে যে এখন অন্য কিছু ভাবার সময়ই পাচ্ছি না।” তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন সব কিছু নিজের জায়গায় ঠিকঠাক বসে যাবে, তখনই অন্য কিছুর দিকে তাকানো যাবে। আপাতত নিজেকে সেট করা এবং সময়কে কাজে লাগানোই মূল লক্ষ্য।’
অভিনয়ের পাশাপাশি একজন দায়িত্ববান মানুষ হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে চান জন। কিন্তু শুধুমাত্র সময়ের অভাব নয়, বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আরও গভীর এক উপলব্ধি। এক সময় তারা শর্মার (Tara Sharma) শো-তে গিয়ে জন বলেছিলেন, ‘আপনি যদি প্রস্তুত না হন, তাহলে বাচ্চা নেওয়ার কথা ভাববেন না। শুধু সমাজের বা পরিবারের চাপে পড়েই বাবা-মা হওয়া ঠিক নয়। আপনি যদি সন্তানের জন্য যথেষ্ট সময়, ভালবাসা, এবং যত্ন দিতে না পারেন, তাহলে সেটা অন্যায়।’ এই বক্তব্যে জনের ব্যক্তিত্বের পরিপক্কতা স্পষ্ট। তিনি এমন একজন বাবা হতে চান, কেবল নামেই নয়, মনপ্রাণ দিয়ে সন্তান প্রতিপালনে যুক্ত থাকবেন।
জনের স্ত্রী প্রিয়া রাঞ্চালও (Priya Runchal) লাইমলাইটে না থাকার পক্ষপাতী। এ নিয়েও জন একসময় বলেছিলেন, ‘আমি বুঝেছি, আমি আদর্শ সঙ্গী নই। প্রিয়া আমাদের সম্পর্কে অনেক পরিণতিবোধ, স্থিরতা ও শান্তি এনেছে। সে একজন ভাল মানুষ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কম মানুষই আছেন যারা ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনে থাকতে চান। প্রিয়া সেটাই করে দেখিয়েছে। সে বলেছে, ‘আমি আলোয় আসতে চাই না, আমি চুপচাপ নিজের কাজ করে যেতে চাই।’ এই মানসিকতা সত্যিই বিরল।” এই কথা থেকেই স্পষ্ট, জন ও প্রিয়া দু’জনেই তাঁদের সম্পর্ককে গ্ল্যামার বা গসিপের বাইরে রেখে বাস্তব আর মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। তাঁরা কুকুর-বিড়াল পোষার মাধ্যমে ‘পেট পেরেন্ট’ (Pet Parents) হয়েছেন, সেখানে তাঁদের ভালবাসা ও দায়িত্ববোধও স্পষ্ট।
পেশাগত দিক থেকে বলতে গেলে, ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ (The Diplomat) ছবিতে জনের পারফরম্যান্স যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে। বক্স অফিসেও ছবিটি ভাল সাড়া ফেলেছে। ২০০৩ সালে ‘জিসম’ (Jism) দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করে তিনি দ্রুতই ‘ধুম’ (Dhoom), ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’ (Madras Cafe), ‘ফোর্স’ (Force), ও ‘বাটলা হাউস’ (Batla House)-এর মতো হিট ছবির মুখ হয়ে ওঠেন। জন আব্রাহামের এই স্পষ্টবাদিতা ও বাস্তবধর্মী চিন্তাধারা নিঃসন্দেহে তাঁকে বলিউডের গ্ল্যামার জগতের এক ব্যতিক্রমী চরিত্রে পরিণত করেছে। বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও তাঁর এই পরিণত মনোভাব আজকের দুনিয়ায় এক বড় শিক্ষা, পরিবার গড়ার আগে নিজেকে গড়া আরও জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত




