Indian Pharmacopoeia Commission MoU | ওষুধের গুণমান ও রোগী সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই করল ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ওষুধের নিরাপত্তা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশন (Indian Pharmacopoeia Commission -IPC)। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) অধীনস্থ এই স্বশাসিত সংস্থা সম্প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এই তিনটি চুক্তি হয়েছে গোয়া স্টেট ফার্মাসি কাউন্সিল (Goa State Pharmacy Council বা GSPC), কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (Quality Council of India বা QCI) এবং এইচএলএল ইনফ্রা টেক সার্ভিসেস লিমিটেড (HLL Infra Tech Services Limited বা HITES) -এর সঙ্গে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও ফার্মাসিউটিক্যাল মানদণ্ডকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাবে। আইপিসি ও গোয়া স্টেট ফার্মাসি কাউন্সিলের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ-টির মূল লক্ষ্য হল ফার্মাকোভিজিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করা, যুক্তিসঙ্গত ওষুধ ব্যবহারের প্রচার এবং গোয়া রাজ্যে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের পেশাগত দক্ষতা উন্নত করা। এই চুক্তির আওতায় নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টদের মধ্যে ন্যাশনাল ফর্মুলারি অফ ইন্ডিয়া (National Formulary of India বা NFI) আরও সক্রিয়ভাবে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি ফার্মাকোভিজিল্যান্স প্রোগ্রাম অফ ইন্ডিয়া (Pharmacovigilance Programme of India বা PvPI) -এর অধীনে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স ড্রাগ রিঅ্যাকশন (ADR) রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই মউ অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত এডিআর মনিটরিং সেন্টার স্থাপন ও শক্তিশালীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফার্মাসিস্টদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচী, কর্মশালা ও কন্টিনিউয়িং এডুকেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে। ওষুধের নিরাপত্তা, ফার্মাকোপিয়াল মানদণ্ড এবং টেকসই ফার্মাকোপিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও এই সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, আইপিসি ও কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ দেশের স্বাস্থ্যখাতে মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগকে আরও গতি দেবে। এই চুক্তির আওতায় ফার্মাকোভিজিল্যান্স এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে। দুই সংস্থার প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পরিকাঠামোগত সম্পদ ব্যবহার করে জাতীয় মান ও সুরক্ষা লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই মউ-কে একটি নমনীয় কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কাজের অর্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন : Indian Talent in USA, Elon Musk Immigration Comment | আমেরিকার উন্নয়নে ভারতীয়দের বিশাল অবদান : অভিবাসন নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্য আলোচনায়

স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, এই উদ্যোগগুলি শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা জরুরি। সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের যুগ্মসচিব হর্ষ মাংলা (Harsh Mangla) -এর বক্তব্যে। মউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক ক্ষেত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আইপিসির সেক্রেটারি-কাম-সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ড. ভি. কলাইসেলভান (Dr. V. Kalaiselvan) এবং গোয়া স্টেট ফার্মাসি কাউন্সিল ও ন্যাবেট, কিউসিআই (NABET, QCI)-এর প্রতিনিধিদের এই উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন জানান।।হর্ষ মাংলা আরও বলেন, ‘এই ধরনের মউ যেন প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, পাশাপাশি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবে সফলভাবে রূপায়িত হয়, সেটাই সবচেয়ে জরুরি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে আইপিসি ইতিমধ্যেই অতীতে চারটি মউ স্বাক্ষর করেছে, যা নিয়ন্ত্রক ও পেশাগত সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্থার ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হর্ষ মাংলা। তাঁর কথায়, ‘ফার্মাসিস্টদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি রোগী সুরক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।’ তিনি জানান, ভারত সরকার নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে বদ্ধপরিকর। তাঁর মতে, এই মউ-গুলি ফার্মাসিস্টদের প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক পেশাগত শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে।

আইপিসি সূত্রে খবর, ভবিষ্যতেও তারা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পেশাদার কাউন্সিল, মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। উদ্দেশ্য একটাই যে, সারা দেশে ওষুধের মান ও রোগী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একক ও সমন্বিত মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Medical Termination of Pregnancy Act, Supreme Court of India | ‘গর্ভধারণ চালিয়ে যেতে নারীকে বাধ্য করা তাঁর দেহগত স্বাধিকারের লঙ্ঘন’ : দিল্লি হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন