সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা ছিলেন পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির বিধায়ক হরমিত সিং পাঠান মাজরা (Harmeet Singh Pathanmajra)। AAP বিধায়ক দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজেই নিজের খবর দেন বলে উল্লেখ। অস্ট্রেলিয়া (Australia) থেকে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে হরমিত জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং “জামিন পেলেই ভারতে ফিরবেন।”
পাঞ্জাবের পটিয়ালা (Patiala) জেলার পুলিশ ইতিমধ্যেই হরমিতের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি পলাতক। পরিবারকেও তাঁর অবস্থান নিয়ে কোনও তথ্য দিতে দেখা যায়নি। এদিকে, হরমিতের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই পাঞ্জাব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। ভিডিও বার্তায় হরমিত পাঠান মাজরা দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধর্ষণ মামলা সাজানো হয়েছে। আমি কোনও অপরাধ করিনি। বিচার ব্যবস্থার উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি জামিন পাওয়ার পরই ভারতে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” তিনি আরও বলেন, “পঞ্জাবের সাধারণ মানুষের কথা বলার জন্যই আমার কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। দিল্লির (Delhi) নেতারা এখন পাঞ্জাবকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যাঁরা দিল্লিতে হেরে গিয়েছিলেন, তারাই এখন আমাদের রাজ্যে নিজেদের স্বার্থে হস্তক্ষেপ করছেন।”
অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক এক পাঞ্জাবি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমিতের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে, আপ সরকারের ছত্রছায়াতেই হরমিত দেশ থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধর্ষণ মামলায় বারবার আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় পটিয়ালার আদালত (Patiala Court) এখন হরমিতকে ঘোষিত অপরাধী (Proclaimed Offender) ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্তে সহযোগিতা না করায়, তাঁর একাধিক সম্পত্তির দিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ সেপ্টেম্বর। জিরাকপুরের (Zirakpur) একজন মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে, হরমিত পাঠান মাজরা তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেন এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়।মামলা দায়েরের পর হরমিতকে গ্রেফতার করতে হরিয়ানার (Haryana) কারনাল জেলার (Karnal) ডাবরি গ্রামে অভিযান চালায় পঞ্জাব পুলিশ। খবর ছিল, সেখানে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু পুলিশ পৌঁছতেই স্থানীয় জনতা এবং বিধায়কের সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশের উপর গুলি ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই ঘটনার প্রসঙ্গে নিজের ভিডিও বার্তায় হরমিত দাবি করেন, “আমার কোনও সমর্থক গুলি চালায়নি। বরং আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভুয়ো সংঘর্ষের নাটক সাজানো হয়েছিল। আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, আমাকে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হতে পারে। তাই আত্মরক্ষার জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।” পুলিশ সূত্রের খবর, হরমিতের বিরুদ্ধে এখন একাধিক অভিযোগ চলছে, ধর্ষণ, প্রতারণা এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে পলায়নের মামলা। তাছাড়া আদালতে হাজিরা না দেওয়ায়, তাঁর জামিনের আবেদনও ঝুলে আছে।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা, হরমিত পাঠানমাজরাকে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে কি না। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা ইন্টারপোল (Interpol)-এর সহযোগিতায় অভিযুক্তকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজন হলে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হবে।” অন্যদিকে, বিরোধী কংগ্রেস (Congress) ও বিজেপি (BJP) এই ঘটনায় আপ সরকারকে কঠোরভাবে sk criticise করছে। তাঁদের দাবি, “এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, আপের (AAP) বিধায়করা নিজেদের অপরাধ থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ইচ্ছে করেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” তবে আপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আইন নিজের পথে চলবে। কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।” হরমিত সিংহ পাঠানমাজরার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের হাতে। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর স্পষ্ট, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে তুলে ধরছেন।
রাজনৈতিক সমালোচক দেবেশ ঠাকুর বলেন, “এই ধরনের ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়, এটি পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা। একজন নির্বাচিত বিধায়ক যদি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বার্তা।” এই ঘটনার পর পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বস্তরে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আইন যেন তার নিরপেক্ষ গতিতেই চলে, এবং কেউই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে না পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি




