Handicraft News, Rural Development | গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগে খাদি-হস্তশিল্পে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : গ্রামীণ ভারতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে নতুন করে এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকার শুরু করেছে মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ (Mahatma Gandhi Gram Swaraj Initiative বা MG GSI)। খাদি (Khadi), হস্ততাঁত (Handloom) এবং হস্তশিল্পকে (Handicrafts) কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল গ্রামে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা, স্থানীয় কারিগর ও তাঁতিদের ক্ষমতায়ন এবং বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি আরও জোরদার করা। রাজ্যসভায় দেওয়া লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh) জানিয়েছেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ শিল্পকে আরও সংগঠিত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদনের মান বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা তৈরি হয়।’ তাঁর কথায়, এই পরিকল্পনা শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই নয়, তা গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দিকও খুলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হল গ্রামীণ উদ্যোগগুলিকে বড় পরিসরে উন্নীত করা। ছোট কারখানা বা কারিগরদের কাজকে স্কেলযোগ্য এবং রপ্তানিমুখী ইউনিটে রূপান্তরিত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘এক জেলা, এক পণ্য’ (One District One Product বা ODOP) কর্মসূচির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত রয়েছে, যার ফলে প্রতিটি জেলার নিজস্ব পণ্যের উন্নয়ন এবং বাজারজাতকরণে সুবিধা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Andhra Bus Fire Accident | ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ল বাস, অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যু অন্তত ১৪

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় কারিগর ও তাঁতিদের জন্য প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিপণন সহায়তা, ক্লাস্টার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনের গুণগত মান যেমন বাড়ছে, তেমনই বাজারে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। হস্তশিল্প ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন কমিশনার (হস্তশিল্প) দফতর দুটি প্রধান প্রকল্প চালাচ্ছে, ন্যাশনাল হ্যান্ডিক্রাফ্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (National Handicrafts Development Programme বা NHDP) এবং কমপ্রিহেনসিভ হ্যান্ডিক্রাফ্ট ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট স্কিম (Comprehensive Handicrafts Cluster Development Scheme বা CHCDS)। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কারিগরদের একাধিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যেমন বিপণন, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পণ্যের প্রচার। তেলাঙ্গানা (Telangana) রাজ্যে এই প্রকল্পগুলির প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) এনএইচডিপি প্রকল্পের অধীনে সেখানে মোট ৩৮টি কর্মসূচী আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলিতে প্রায় ৪.৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ১,২৪২ জন কারিগর সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। অন্য দিকে, সিএইচসিডিএস প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ সাল থেকে প্রায় ৪,০০০ কারিগরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫.৭৬ কোটি টাকা।

হস্ততাঁত ক্ষেত্রেও একই ভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন কমিশনার (হস্ততাঁত) দফতর ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (National Handloom Development Programme বা NHDP) বাস্তবায়ন করছে। তেলঙ্গানার মেদক (Medak), ওয়ারাঙ্গল (Warangal) এবং নালগোন্ডা (Nalgonda) জেলায় তাঁতিদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ‘সমর্থ’ (Samarth) প্রকল্পের অধীনে ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে তেলঙ্গানায় মোট ২,০৬৬ জন হস্ততাঁত কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেদকে ৭২ জন, ওয়ারাঙ্গলে ১৭৬ জন এবং নালগোন্ডায় ৯৬ জন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এর ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উৎপাদনের মান উন্নত হয়েছে। ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মসূচীর মাধ্যমে ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত তেলঙ্গানায় ২৬টি ক্লাস্টারের জন্য মোট ১,২২৩.৯৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে ৪,৯৭১ জন উপকৃত হয়েছেন। উন্নত লুম, সহায়ক যন্ত্রপাতি, কর্মশালা, সৌর আলো এবং ডিজাইন উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিপণনের ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁতি ও সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন প্রদর্শনী, মেলা এবং বিপণন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে তেলঙ্গানায় ১৫টি এক্সপো আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া হ্যান্ডমেড’ (IndiaHandmade) নামে একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে অনলাইনে হস্ততাঁত পণ্য বিক্রি করা সম্ভব। গুণমান ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে ‘ইন্ডিয়া হ্যান্ডলুম ব্র্যান্ড’ (India Handloom Brand) এবং ‘হ্যান্ডলুম মার্ক’ (Handloom Mark) -এর মতো স্বীকৃতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তেলঙ্গানায় ২২৮টি ইন্ডিয়া হ্যান্ডলুম ব্র্যান্ড এবং ১,৩৩৭টি হ্যান্ডলুম মার্ক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে স্থানীয় কারিগরদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Asansol Industrial Park, WB MSME | আসানসোলে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের নয়া শিল্পতালুক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিল্প-বিস্তার ও কর্মসংস্থানে জোর নবান্নের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন