Governor RN Ravi Action: শপথের পরই তৎপরতা, রাজভবনের শূন্যপদ পূরণে নবান্নকে চিঠি, প্রশাসনে ফের গতি আনার বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক সক্রিয়তার স্পষ্ট বার্তা দিলেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি ( R. N. Ravi)। বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাজভবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নকে (Nabanna) ইমেল পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আধিকারিকদের নাম চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা এই পদগুলি পূরণে নতুন রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

আরও পড়ুন : Women safety West Bengal, Biplab Roy Chowdhury statement | নারীসুরক্ষা নিয়ে মন্ত্রীর মুখে উদ্বেগের সুর, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক, ‘খবরের কাগজ পড়তেই ভয় হয়’ মন্তব্যে ঝড়

রাজভবন (Raj Bhavan)-এর অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, লোকভবনের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যপালের সচিব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়ছিল। সেই জায়গায় একজন অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিক (IAS officer) নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ সচিব পদে একজন প্রোমোটি আইএএস, দু’জন যুগ্মসচিব এবং ডেপুটি সচিব পদের জন্য তিনজন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিকের নাম চাওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণের লক্ষ্য নিয়েই এই তৎপরতা। রাজভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার রাজ্য সরকারের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত নবান্নের তরফে নাম পাঠানো হবে।’ প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে রাজভবনের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose) তাঁর প্রধান সচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় এই পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয় প্রশাসনিক মহলে। এর পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যপালের সচিব পদটি কার্যত ফাঁকাই পড়ে ছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রাক্তন রাজ্যপাল নতুন করে সচিব নিয়োগে আগ্রহী ছিলেন না। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে সচিববিহীন অবস্থাতেই রাজভবনের কাজকর্ম চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়ে।’

এই পরিস্থিতিতে নতুন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R. N. Ravi) -এর দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন প্রশাসনের একাংশ। তাঁদের মতে, ‘প্রশাসনে গতি আনতে এবং রাজভবনের কার্যকারিতা বাড়াতে এই পদগুলি পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।’ নবান্নের সঙ্গে সমন্বয়ও এই ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে প্রশাসনিক যোগাযোগ যত মজবুত হবে, ততই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই নিয়োগগুলি হলে নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে।’ রাজনৈতিক মহলেও এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, নতুন রাজ্যপাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছেন। ‘শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তব কাজের ক্ষেত্রেও তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী’—এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

অন্যদিকে, নবান্নের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকার কত দ্রুত এই পদগুলির জন্য উপযুক্ত আধিকারিকের নাম চূড়ান্ত করে পাঠায়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই নাম চূড়ান্ত করা হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের প্রসঙ্গ। অতীতে একাধিক ইস্যুতে রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন রাজ্যপালের এই উদ্যোগ সেই সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। কিন্তু শপথ নেওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আর.এন. রবি পরিষ্কার করে দিলেন যে তিনি প্রশাসনিক কাঠামোকে সক্রিয় ও কার্যকর করে তুলতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার, নবান্ন কত দ্রুত এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং রাজভবনের দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে প্রশাসনে নতুন গতি ফিরে আসে কি না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi, Brigade Rally | ব্রিগেডে মোদীর হুঙ্কার ‘বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে’ পরিবর্তনের ডাক, ১৮,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা 

Sasraya News
Author: Sasraya News