Sasraya News

Friday, April 4, 2025

Eid : ঈদ প্রথা চালু হওয়ার নেপথ্যের কিছু কথা 

Listen

প্রথম ঈদের নামাজ হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি সনের ১ শাওয়াল, ইংরেজি ৬২৪ সালের ৩১ মার্চ। মদিনায় মুসলমানরা প্রথমবারের মতো ঈদ পালন করেন। আর মক্কায় প্রথম ঈদ পালিত হয় আরও পরে, ৮ম হিজরিতে ইংরেজি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে; মক্কা বিজয়ের পর। আলোচনায় : আবদুস সালাম

ছবি : সংগৃহীত

 

দের সামাজিক অর্থ উৎসব। আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বারবার ফিরে আসা। প্রতি বছরই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জীবনে এই দিন ফিরে ফিরে আসে। ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় সুদীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর। যাকে বলা হয়, ঈদ-উল- ফিতর (Eid-Ul-Fitar) বা রোজার ঈদ, আর অন্যটি আত্মত্যাগের। ইব্রাহিম আঃ এর আত্মত্যাগের আদর্শ কে মনে রেখে ,কোরবানীর ঈদ বা ঈদ-উল-আজহা।

 

ছবি : সংগৃহীত

 

নামকরণের তাৎপর্য 

ঈদ শব্দটি মূলত আরবি শব্দ। অর্থ খুশি, আনন্দ, অনুষ্ঠান, উৎসব, পর্ব ইত্যাদি। শব্দের মূল রূপ হল আওদ, যার অর্থ ফিরে ফিরে আসা। লিসানুল আরব অভিধানে রয়েছে, আরবেদের কাছে ঈদ বলা হয় এমন এক সময়কে, যে সময় আনন্দ ও দুঃখ ফিরে আসে। আল মুহিত অভিধানে রয়েছে, যে রোগ, দুঃখ,  দুশ্চিন্তা বা অনুরূপ কোনও কিছু বারবার ফিরে আসে তাকে ঈদ বলা হয়। আল মুনজিদ অভিধানে বলা হয়েছে, ঈদ এমন দিনকে বলা হয়, যাতে লোকজনের সমাগম হয় বা কোনও সম্মানিত ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনও ঘটনার স্মৃতিচারণা করা হয়। ঈদ প্রতি বছর সাজগোজ, আনন্দ-খুশি ও নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ফিরে আসে। এ কারণে ঈদের দিনকে আনন্দ ও খুশির দিন বলা হয়।

 

মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) আনন্দ করতেন। শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত সব আনন্দ করার অনুমতি দিতেন। বালিকা বয়সী আয়েশা (রা.)-এর মনের বাসনাও রাসুল (সা.) পূরণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছে। মহানবী (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তাঁর গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো।

 

ঈদ উল ফিতর (আরবি: অর্থ: “রোজা/উপবাস ভাঙার আনন্দ”) ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দু’টো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দ্বিতীয়টি হল ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় একে বলা হয় ‍ইয়াওমুল জায়েজ‍ (অর্থ: পুরস্কারের দিবস) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্য পালনসহ খুব আনন্দের সঙ্গে পালন করে থাকেন। এই দিনে সবাই সবাইকে “ঈদ মোবারক” বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

 

ছবি : সংগৃহীত

 

এক ঝলকে ঈদুল ফিতর সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য কিছু বিষয় 

 

সম্পর্ক : সারা মাস ধরে রোজা পালন এর বিশেষ অঙ্গ। রোজা শেষে পরের দিন ঈদ উল ফিতরের নামাজ ময়দান বা খোলা জায়গায় আদায় করা।
পালনকারী: সারা মুসলিম বিশ্ব। ধরণ: ইসলামী। তাৎপর্য : রমজানের রোজার শেষ চিহ্ন।
উদযাপন: পরিবার এবং বন্ধুদের নিয়ে কাছেপিঠে ভ্রমণ, চিরাচরিত মিষ্টি খাবার, সুগন্ধি ব্যবহার, নতুন জামা-কাপড় পরা, উপহার দেওয়া ইত্যাদি। বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে লাচ্চা, ক্ষীর, সামায় রান্না করে গরীব মিসকীনদের দেওয়া ও নিজেদের ভেতর খাওয়া। পালন: যাকাত উল (ফিতরা) ও যাকাত, ঈদের নামাজ।

তারিখ: ১ শাওয়াল

 

ছবি : সংগৃহীত

 

ঈদের প্রবর্তন

প্রথম ঈদের নামাজ হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি সনের ১ শাওয়াল, ইংরেজি ৬২৪ সালের ৩১ মার্চ। মদিনায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা প্রথমবারের মতো ঈদ পালন করেন। আর মক্কায় প্রথম ঈদ পালিত হয় আরও পরে, ৮ম হিজরিতে ইংরেজি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে; মক্কা বিজয়ের পর। ইসলামের ইতিহাস বিশেষজ্ঞদের মতে হিজরী দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল। ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ঈদ উদযাপন করা হয়েছিল।

নবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) যখন মক্কা থেকে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত করে মদিনায় যান, তখন সময়কে ভিত্তি ধরে হিজরী সাল গণনা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে অবশ্য হিজরী সাল গণনা শুরু করা হয়েছিল আরও ১৭ বছর পরে, খলিফা উমরের সময়ে।

“হিজরী প্রথম বছরের অষ্টম মাস অর্থাৎ শাবান মাসে রোজা বাধ্যতামূলক করার আয়াত নাজিল হয়, এবং তখন নবম মাস অর্থাৎ রমজান মাসে একমাস সিয়াম সাধনাকে ফরজ করা হয়।” সূরা বাকারার ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫নং আয়াতে রোজার বিধান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং বর্ণনা করেছেন।

(হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের (রোযার) বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযমশীল হতে পার। (বাকারা ১৮৩নং আয়াত)

(রোযা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে।[১] আর যারা রোযা রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রোযা রাখতে চায় না [২] (যারা রোযা রাখতে অক্ষম), তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। পরন্তু যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়।[৩] আর যদি তোমরা রোযা রাখ, তাহলে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণপ্রসূ; যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার। (১৮৪নং আয়াত সূরা বাকারা)

রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।[১] অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন তাতে রোযা পালন করে। আর যে অসুস্থ অথবা মুসাফির থাকে, তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তিনি তোমাদের কষ্ট চান না। যেন তোমরা (রোযার) নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর তকবীর পাঠ (মহিমা বর্ণনা) কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার। (১৮৫নং আয়াত সূরা বাকারা)
এর থেকে বোঝা যায় রমজান মাসের গুরুত্ব আর পালনের পন্থা পদ্ধতি।

এরপর হিজরী দ্বিতীয় সালে এসে বিধান দেওয়া হয় যে, রমজান মাস— চাঁদের হিসাবে যা ২৯ দিনেও শেষ হতে পারে বা কখনও ৩০ দিনেও শেষ হতে পারে— শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদ উদযাপন করা হবে। “ঈদের সামাজিকতা ওই সময় থেকে শুরু হয়,” সন তারিখ নিয়ে একটুখানি বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে।তবে সাল টা ৬২৩ কিংবা ৬২৪। দিনটি কিন্তু মার্চের ৩০কিংবা ৩১ অবশ্যই।

প্রথম ঈদের নামাজ হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি সনের ১ শাওয়াল, ইংরেজি ৬২৪ সালের ৩১ মার্চ। মদিনায় মুসলমানরা প্রথমবারের মতো ঈদ পালন করেন। আর মক্কায় প্রথম ঈদ পালিত হয় আরও পরে, ৮ম হিজরিতে ইংরেজি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে; মক্কা বিজয়ের পর।

 

ছবি : সংগৃহীত

 

ইসলাম ধর্মে কখন চালু হয়েছিল ঈদ

ইসলামের ইতিহাস বিষয়ক গবেষক এবং বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন যে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দেই প্রথম ঈদ উদযাপন করা হয়েছিল। তবে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে যে প্রথম ঈদের নামাজ হয়েছিল তাতে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞগণ সমর্থন করেন। এটা ছিল হিজরীর দ্বিতীয় সনে এতে কোনও সন্দেহই নেই।

নবী (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা থেকে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত করে মদিনায় যান, তখন সময়কে ভিত্তি ধরে হিজরী সাল গণনা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে অবশ্য হিজরী সাল গণনা শুরু করা হয়েছিল আরও ১৭ বছর পরে, খলিফা উমরের সময়ে। “হিজরী প্রথম বছরের অষ্টম মাস অর্থাৎ শাবান মাসে রোজা বাধ্যতামূলক করার আয়াত নাজিল হয়, এবং তখন নবম মাস অর্থাৎ রমজান মামে একমাস সিয়াম সাধনাকে ফরজ করা হয়।”

সূরা বাকারার ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫ নং আয়াতে রোজার বিধান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং বর্ণনা করেছেন।
বদর যুদ্ধের পর মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ঈদ উল ফিতর উৎসব পালিত হয়। ইবনু ইসহাক বলেন, রমাজানের শেষে বা শাওয়াল মাসে রাসূল (সা:) বদর যুদ্ধ (ইবনু হিশাম ২/৪৩) সমাপ্ত করেন। অতঃপর এ মাসেই অর্থাৎ ২য় হিজরি সনে রমাজানের সিয়াম ও যাকাতুল ফিতর ফরজ করা হয়। যাতে যাকাতের নিছাবসমূহ বর্ণিত হয় (মিরআত ৬/৩৯৯,৩)। আশ্রিত ও দুঃস্থ মুসলমানদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেয়। এ বছর ১ শাওয়াল প্রথম ঈদ উল ফিতরের উৎসব পালিত হয়, যা মুসলমানদের নিকটে সত্যিকার বিজয়োৎসবে পরিণত হয় (আর-রাহীক্ব ২৩১-৩২ পৃঃ)।

তখনকার ঈদে বর্তমান ঈদের মতো নতুন জামা-কাপড়, কেনাকাটার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ-খুশি কম ছিল না। মহানবী (সা.) ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন। মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) আনন্দ করতেন। শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত সব আনন্দ করার অনুমতি দিতেন। বালিকা বয়সী আয়েশা (রা.)-এর মনের বাসনাও রাসুল (সা.) পূরণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছে। মহানবী (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তাঁর গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে এবার যাও।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature special | 30 March 2025, Issue 58| সাশ্রয় নিউজ, রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ৩০ মার্চ ২০২৫, সংখ্যা ৫৮

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment