শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বক্সঅফিসে কার্যত ঝড় তুলে দিয়েছে রণবীর সিংহ (Ranbir Singh) অভিনীত গুপ্তচরধর্মী ছবি ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকের ভিড়, টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান এবং চর্চার নিরিখে এই ছবি এখন বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত নাম। তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি। কেউ এই ছবিকে ‘একপেশে’ বলে দাগিয়েছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। এই আবহেই ছবির প্রশংসা করতে গিয়ে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে (Deepika Padukone) টেনে এনে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন গ্র্যামি জয়ী সুরকার রিকি কেজ (Ricky Kej)।
‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রেক্ষাপট মূলত পাকিস্তানের লিয়ারি (Lyari) শহরের গ্যাং সংস্কৃতি ও সেখানকার অপরাধজগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। একই সঙ্গে ছবির কাহিনিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক চাপানউতর, গুপ্তচরবৃত্তি এবং সীমান্ত রাজনীতির ছায়াও স্পষ্ট। এই কারণেই ছবির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ তকমা লাগানোর চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ পাকিস্তানেরই একাংশের সমালোচক ও নেটপ্রভাবীরা।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় চিত্র সমালোচক ও সমাজমাধ্যমে পরিচিত মুখ ‘ব্রেকিংব্যাড’ (BreakingBad) নামের এক নেটপ্রভাবী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘এই ছবি অবশ্যই দেখা উচিত। এত ভাল অভিনয় কী করে করলেন সকলে, আমি নিজেও অবাক। এত শক্তপোক্ত ছবি সচরাচর দেখা যায় না। কেউ যদি সিনেমা ভালবাসেন, তাঁকে এই ছবি দেখতেই হবে। পাকিস্তান থেকেই এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসায় ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ তত্ত্ব কিছুটা হলেও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন সিনেমা মহল। ভারতেও প্রশংসার তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। অভিনেতা হৃতিক রোশন (Hrithik Roshan), অভিনেতা ভিকি কৌশল (Vicky Kaushal) থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani), অনেকেই প্রকাশ্যে এই ছবির প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ‘ধুরন্ধর’ শুধু একটি গুপ্তচর কাহিনি নয়, বরং সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক দ্বন্দ্বকে এক নতুন ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে। এই প্রশংসার সুরেই গলা মেলালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুরকার রিকী কেজ (Ricky Kej)।
রিকী কেজ বলেন, ‘অনেক দিন পর ভারতে সত্যিকারের উচ্চমানের একটি গুপ্তচরধর্মী ছবি তৈরি হয়েছে। যাঁরা ছবিটাকে একপেশে বা প্রোপাগান্ডা বলছেন, আমি নিশ্চিত তাঁরা ছবিটা না দেখেই সমালোচনা করছেন।’ এখানেই থামেননি তিনি। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে যোগ করেন, ‘লোকজন কি আশা করেছিলেন, অন্যান্য ছবির মতো এখানেও পাকিস্তানি গুপ্তচর বিকিনি পরে নাচবেন?’ এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি নাম না করেও অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বলে মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) অভিনীত ‘পাঠান’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘বেশরম রং’-এ দীপিকা পাড়ুকোনকে বিকিনি পরে নাচতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় ওই পোশাক ও গানের দৃশ্য নিয়ে দেশজুড়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একাংশের অভিযোগ ছিল, গুপ্তচরধর্মী ছবিতে এমন দৃশ্য নাকি চরিত্রের গুরুত্বকে হালকা করে দেয়। রিকি কেজের মন্তব্যে সেই পুরনো বিতর্কই যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।
কিন্তু, এই তুলনা মানতে নারাজ দীপিকার অনুরাগীরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিটি ছবির ভাষা ও প্রেক্ষাপট আলাদা। ‘পাঠান’ ছিল একটি বাণিজ্যিক অ্যাকশন ছবি, সেখানে গানের দৃশ্য ছবির বাজারজাতকরণের অংশ ছিল। অন্য দিকে, ‘ধুরন্ধর’ তুলনামূলক ভাবে বাস্তবধর্মী ও গাঢ় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত। তাই দুই ছবিকে এক পাল্লায় মাপা অনুচিত বলেই মত তাঁদের।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিংহের কেরিয়ারে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গুপ্তচরধর্মী ছবি। আর প্রথম বারেই তিনি দর্শক ও সমালোচকদের একাংশের মন জয় করতে পেরেছেন। তাঁর অভিনয়ে যে পরিমিতি, সংযম ও ভেতরের টানাপড়েন ফুটে উঠেছে, সেটিকে বলিউডের বহু বিশ্লেষক তাঁর কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সগুলির একটি বলে মনে করছেন। অন্য দিকে, দীপিকা পাড়ুকোন অনেক আগেই গুপ্তচর ও অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে কাজ শুরু করলেও, তাঁকে প্রায় শুরু থেকেই নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, কখনও পোশাক, কখনও চরিত্রায়ণ, আবার কখনও ‘বাণিজ্যিকতা’র অভিযোগে।
উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ শুধু বক্সঅফিস সাফল্যের গল্প নয়, সমসাময়িক বলিউডে গুপ্তচর ছবির ভাষা, রাজনীতি ও নারী-পুরুষ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে একটি বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। রিকী কেজের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন সিনেমা পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে এই আলোচনা কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা ইন্ডাস্ট্রির।
ছবি : সংগৃহীত




