সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : মহিলাদের ডব্লুউ পি এল ২০২৬-এর লিগ পর্বের শেষ দিনে নাটকীয় মোড় নিল প্লে-অফের অঙ্ক। একটি ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করছিল দুই শক্তিশালী দলের ভাগ্য। জয় পেলে প্লে-অফ নিশ্চিত দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals), আর হারলেই সুযোগ চলে যেত গত বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) -এর হাতে। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ সেই সমীকরণ বদলে দিল দিল্লি। ইউপি ওয়ারিয়র্জকে (UP Warriorz) হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফে জায়গা করে নিল জেমাইমা রড্রিগেজের (Jemimah Rodrigues) দল। আর আগের ম্যাচের হারের খেসারত দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হল হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur) মুম্বাইকে।

লিগের শেষ ম্যাচে নামার আগে দিল্লি ও মুম্বাই দু’দলই জানত, ফল কী হলে কার ভাগ্যে কী লেখা আছে। দিল্লির সামনে ছিল ‘করো না মরো’ পরিস্থিতি। সেই চাপ সামলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে নামে তারা। অন্য দিকে, গুজরাতের কাছে আগের ম্যাচে হারের ফলে মুম্বইয়ের ভাগ্য কার্যত অন্যের হাতে চলে গিয়েছিল। দিল্লির জয়ে সেই দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইউপি ওয়ারিয়র্জ শুরু থেকেই ধাক্কা খায়। অধিনায়ক মেগ ল্যানিং (Meg Lanning) শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে চাপ আরও বাড়ে। ওপেনার দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma) কিছুটা লড়াই দেখিয়ে ২৪ রান করলেও টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। হরলীন দেওল (Harleen Deol), চার্লি নট (Charlie Knott) এবং ডিয়ান্ড্রা ডটিন (Deandra Dottin) প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। একমাত্র সিমরন শেখ (Simran Shaikh) কিছুটা দৃঢ়তা দেখিয়ে ২২ রান করেন।
দিল্লির বোলাররা এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। শিনেল হেনরি (Shenelle Henry) ও মারিজান কাপ (Marizanne Kapp) একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ইউপি’র ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। হেনরি ২টি এবং কাপ ৩টি উইকেট নেন। মাঝের ওভারে শ্রী চরণি (Shree Charani) আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়ে ইউপি’কে চাপে ফেলে দেন। শেষ দিকে ১১ নম্বরে নেমে শিখা পাণ্ডে (Shikha Pandey) সাহসী ব্যাটিং করে অপরাজিত ২৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে ইউপি কোনও রকমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলতে সক্ষম হয়। স্কোরবোর্ডে রান খুব বেশি না হলেও, চাপের ম্যাচে এই লক্ষ্যও সহজ ছিল না। ১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লির শুরুটাও মসৃণ হয়নি। ১০ রানের মাথায় আউট হন লিজ়েল লি (Lizelle Lee)। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে শেফালি বর্মা (Shafali Verma) ও লরা উলভার্ট (Laura Wolvaardt) ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেন। শেফালি আগ্রাসী মেজাজে ২৯ রান করেন, আর উলভার্টের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪৭ রান। এই জুটি দিল্লির জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
কিন্তু, এই জুটি ভাঙতেই আবার ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরে আসে। দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় দিল্লি ফের চাপে পড়ে। মারিজান কাপ ও শিনেল হেনরি ব্যাট হাতে রান পাননি। এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক জেমাইমা রড্রিগেজ। চলতি মরসুমে তাঁর ব্যাট খুব বেশি কথা না বললেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন।প্রথম বার পূর্ণ সময়ের অধিনায়কত্ব সামলাতে গিয়ে জেমাইমা দেখালেন অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। মাত্র ১৮ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে নিশ্চিত জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। ঠাণ্ডা মাথায় স্ট্রাইক রোটেশন, সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি, সব নিয়ে একটি পরিণত ইনিংস খেলেন দিল্লির অধিনায়ক। আট বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় টুর্নামেন্টের চিত্রনাট্য। গ্রুপ পর্বে চতুর্থ স্থানে শেষ করে বিদায় নিতে হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিতে হল হরমনপ্রীতের দলকে। অন্য দিকে, অভিষেক নায়ারের (Abhishek Nayar) ইউপি ওয়ারিয়র্জ় গ্রুপের একেবারে তলানিতে শেষ করে টুর্নামেন্ট শেষ করল। পাশাপাশি, প্লে-অফে পৌঁছে দিল্লি ক্যাপিটালস প্রমাণ করে দিল, সঠিক সময়ে সঠিক পারফরম্যান্সই বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে জেমাইমা রড্রিগেজের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ইনিংস আগামী দিনের ম্যাচগুলির জন্য দিল্লিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। এখন দেখার, এই ছন্দ ধরে রেখে প্লে-অফের মঞ্চে দিল্লি কত দূর যেতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jemimah Rodrigues Smriti Mandhana | বন্ধুর কান্নায় ভেঙে পড়লেন জেমিমা, স্মৃতি মন্ধানার কঠিন সময়ে বিগ ব্যাশ ছেড়ে পাশে থাকার সিদ্ধান্ত




