সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : যৌন অপরাধে দণ্ডিত Jeffrey Epstein -এর সঙ্গে যোগাযোগ ঘিরে বহুদিনের বিতর্কে ফের মুখ খুললেন বিল গেটস (Bill Gates)। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Bill & Melinda Gates Foundation -এর কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নাকি বলেছেন, ‘যা হয়েছে, তার দায় আমার।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে (Reuters) এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থার এক মুখপাত্র। একই সঙ্গে মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal)-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কর্মীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন গেট্স। তবে এই বিতর্ক নতুন নয়। অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর একাধিক সাক্ষাতের কথা স্বীকার করেছিলেন গেট্স। অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ওঁর সঙ্গে কাটানো প্রত্যেকটি মিনিটের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি দুঃখিত।’ যদিও কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তিনি বরাবর অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই বৈঠকগুলি দাতব্য প্রকল্প ও ফাউন্ডেশনের সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই হয়েছিল।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে দাবি, সাম্প্রতিক টাউন হল বৈঠকে গেট্স কর্মীদের সামনে স্বীকার করেন যে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সংস্থাকে সেই বিতর্কের কেন্দ্রে টেনে আনা ছিল ‘বড় ভুল’। তিনি নাকি বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্তের জন্য সংস্থার সহকর্মীদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’ যদিও এই দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র। তবে তিনি জানিয়েছেন, বৈঠকে গেট্স খোলাখুলি ভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় স্বীকার করেছেন। মার্কিন বিচারবিভাগীয় দফতর সম্প্রতি এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ্যে আনে। সেখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এপস্টিন কারাদণ্ড ভোগের পরেও তাঁর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছিলেন গেট্স। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক নতুন করে উসকে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, কেন এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল, যিনি যৌন অপরাধে দণ্ডিত? প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাউন হল বৈঠকে গেট্স কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলাম না। কোনও অন্যায় কাজও দেখিনি।’ তিনি এ-ও বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাঁর সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ছিল এবং সংস্থার কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবু বিতর্কের অভিঘাত যে ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তিতে পড়েছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বৈঠকে গেট্স দুই রাশিয়ান মহিলার সঙ্গে অতীত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন, যা পরে এপস্টিন জানতে পেরেছিলেন। সেই সম্পর্কের সঙ্গে এপস্টিন-সংক্রান্ত মামলার কোনও যোগ ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গেট্সের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও একই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আস্থা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রযুক্তি জগতে তাঁর প্রভাব যেমন বিপুল, তেমনই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পে গেট্স ফাউন্ডেশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব সংস্থার ওপর পড়লে তা আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত হওয়াই স্বাভাবিক।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র বলেন, ‘টাউন হলে বিল খোলামেলা ভাবে কথা বলেছেন। একাধিক প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন এবং নিজের কাজের দায় নিয়েছেন।’ তবে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি। এর ফলে বিতর্কের জল্পনা আরও বেড়েছে। উল্লেখ্য, গেট্স অতীতে স্বীকার করেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ছিল ‘ভুল বিচারবুদ্ধির ফল’। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, দাতব্য প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’ এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থেকে যায় যে, কেন এমন একজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত? আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিতর্কের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। কর্পোরেট নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত নৈতিকতা এবং জনআস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে গেট্সের স্বীকারোক্তি ও দায় গ্রহণ, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণের অভাব—এই দ্বৈত বাস্তবতায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, গেট্সের এই পদক্ষেপ কি বিতর্কের ইতি টানবে? নাকি নতুন নথি ও তথ্য সামনে এলে প্রশ্ন আরও বাড়বে? আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কর্মীদের সামনে দায় স্বীকার করে তিনি অন্তত বিতর্কের মুখোমুখি হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। কিন্তু জনমত ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এই চ্যাপ্টার এখনও শেষ হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Epstein Girlfriend Revealed | জেফ্রি এপস্টিনের প্রেমিকা কারিয়ানা শুলিয়াক, তাঁকেই মৃত্যুর আগে শেষ ফোন করেছিলেন এপস্টিন




