তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ : মা (Amrita Singh) কষ্ট পান, তাই মেয়ের সামাজিক মাধ্যমে ঢোকা একপ্রকার বন্ধ। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সারা আলি খান (Sara Ali Khan)। বলিউডে যিনি এক সময়ের অন্যতম ‘পাওয়ার প্যাকড ডেবিউ’ দিয়েছিলেন, আজ তিনিই নেটিজেনদের লাগাতার কটাক্ষের শিকার। অভিনেত্রীর এই সিদ্ধান্তে অবাক অনুরাগী থেকে সহকর্মী অনেকেই।

সাইফ আলি খান (Saif Ali Khan) ও অমৃতা সিংহ (Amrita Singh)-এর মেয়ে সারা। বলিউডে অভিষেকের পরেই ‘কেদারনাথ’ ও ‘সিম্বা’-র সাফল্যে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন। হাসি, প্রাণবন্ত ব্যবহার, স্পষ্ট কথা বলার ধরণে সহজেই মন জিতে নিয়েছিলেন সকলের। কিন্তু পরবর্তী কালে একের পর এক ছবিতে প্রত্যাশা মতো ফল না পেয়ে, উল্টে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কখনও সংলাপ বলার ভঙ্গি, কখনও সাজগোজ, কখনও আবার তাঁর শিবভক্তি, সবেতেই সমালোচনা থেমে নেই। মিম থেকে ট্রোল, কটাক্ষের ঝড় সামলাতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে।কিন্তু সারা জানিয়েছেন, এ সব নেগেটিভ মন্তব্য তাঁকে আটকাতে পারবে না। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা আছে আমার। তবে মা (Amrita Singh) সব মন্তব্য পড়েন। ওগুলো ওঁর মনে লাগে। মুখে কিছু বলেন না ঠিকই, কিন্তু আমি বুঝতে পারি কতটা কষ্ট পান। তাই ভাবছি ওঁকে ব্লক করব।

যাতে ও এগুলো না দেখেন।’ সারার কথায়, ‘‘আমি চাই না মা কষ্ট পাক। মা-ই আমার শক্তি।’’ ইনস্টাগ্রামে (Instagram) সারার অনুরাগীর সংখ্যা আকাশছোঁয়া। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের ছবি, ভিডিও, শ্যুটিংয়ের মুহূর্ত, ট্র্যাভেল ডায়েরি সবই ভাগ করে নেন অনুরাগীদের সঙ্গে।

তাঁর শিবরাত্রির ব্রত পালন, কাশী যাত্রা, বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়া নিয়েও ট্রোলের শেষ নেই। আবার কখনও মুম্বইয়ের (Mumbai) রাস্তা দিয়ে বেরোলেই পাপারাজ্জির (Paparazzi) ফ্ল্যাশের আলোয় আটকে যায় পথ। যদিও সারা বেশির ভাগ সময়ই এই সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে যেতে শিখেছেন। তবে মায়ের উপর প্রভাব ফেলুক, তা তিনি চান না।

সারা বলেন, ‘মা তো আমার সব কিছু। ও যদি মন থেকে ভেঙে পড়ে, আমি থাকতে পারব না। তাই যতটা সম্ভব ওঁকে এই সব থেকে দূরে রাখতে চাই।’ এক সময়ের উজ্জ্বল নায়িকার এমন সিদ্ধান্ত বলিউডে এক অন্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একাংশ বলছে, বলিউডে টিকে থাকার লড়াইয়ে মানসিক স্থিতি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা অমৃতা সিংহ (Amrita Singh) একা হাতে মেয়েকে বড় করেছেন, তাঁর উপর সারার ভাল-মন্দের প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক। আবার অনেকেই বলছেন, সারার এমন স্পষ্ট বক্তব্যই তাঁকে আলাদা করে দেয়। অভিনেত্রী সম্প্রতি ‘অ্যায় ওয়াতন মেরে ওয়াতন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই ছবির প্রচারেও মা অমৃতা সিংহ ছিলেন না। তবে সারা বলেন, ‘মা সব সময় পাশে থেকেছে। ওঁর আশীর্বাদ ছাড়া এক পাও নড়তে পারি না। তবে কিছু কিছু জিনিস থেকে ওঁকে দূরে রাখাটাই ভাল।’ এই স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে দেখিয়ে দিল, সারা আলি খান শুধু স্টার কিড নন, একজন মেয়ে, যে মায়ের চোখের জল দেখতে পারেন না। বলিউডের চাপে, ট্রোলের দাপটে বদলেছে তাঁর কাজের ধরণ, ভাবনা, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে মায়ের প্রবেশাধিকারও। তবে অনুরাগীরা বলছেন, এই সৎ অনুভবই সারাকে আরও মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Special | Issue 71, 29th June 2025 | Sunday | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ২৯ জুন ২০২৫, সংখ্যা ৭১| রবিবার




