সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সান ফ্রান্সিসকো: নতুন বছরের শুরুতেই কর্মী মহলে দুঃসংবাদ। বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স ও প্রযুক্তি সংস্থা অ্যামাজন (Amazon) ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে সংস্থার অন্দরমহলের একাধিক সূত্রে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই ১৪ থেকে ১৬ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা। গত বছর শুরু হওয়া ছাঁটাই পর্বের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও অ্যামাজনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবু সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিদের দাবি, এই দফায় মূলত কর্পোরেট স্তরের কর্মীদের উপরই কোপ পড়তে চলেছে। বিশেষ করে পিপল এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (People Experience and Technology) ডিভিশন এবং মানব সম্পদ বা হিউম্যান রিসোর্স (Human Resources) টিমেই ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

অ্যামাজনে ছাঁটাই নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে সংস্থাটি প্রায় ২৭ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে ছেঁটে ফেলেছিল। সেই সময় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মন্দা, অতিরিক্ত নিয়োগ এবং খরচ কমানোর চাপকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল সংস্থা। গত বছরের অক্টোবর মাসে ফের খবর আসে, প্রায় ৩০ হাজার কর্পোরেট কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে অ্যামাজন। প্রথম ধাপে তখন প্রায় ১৪ হাজার কর্মী চাকরি হারান। এ বার দ্বিতীয় দফায় সেই সংখ্যাই আবার সামনে আসছে—১৪ থেকে ১৬ হাজার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক (Newsweek) -এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই এক থেকে দু’হাজার কর্মীকে ওয়ার্ন নোটিস (WARN Notices) পাঠানো হয়েছে। এই নোটিসের মাধ্যমে কর্মীদের আগাম সতর্ক করা হয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের চাকরি চলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নোটিস পাঠানো মানেই ছাঁটাই প্রায় নিশ্চিত।
কেন ফের এত বড় ছাঁটাইয়ের পথে অ্যামাজন? সংস্থার অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, এর নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence)। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অ্যামাজন যেভাবে এআই ভিত্তিক অটোমেশন, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডেটা চালিত সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে, তাতে বহু প্রশাসনিক ও কর্পোরেট ভূমিকার প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। এক প্রযুক্তি বিশ্লেষকের কথায়, ‘যে কাজ এক সময় দশ জন করতেন, এখন এআই সেই কাজ অনেক কম সময়ে ও কম খরচে করে দিতে পারছে।’
শুধু আমেরিকা নয়, এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। অ্যামাজনের ভারতীয় শাখায় বিপুল সংখ্যক কর্পোরেট কর্মী কাজ করেন। বিশেষ করে বেঙ্গালুরু (Bengaluru), হায়দরাবাদ (Hyderabad) ও চেন্নাই (Chennai) -এর অফিসগুলিতে কর্মরত বহু কর্মীর মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও ভারতীয় কর্মীদের ক্ষেত্রে ঠিক কতজন ছাঁটাই হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সংস্থার বৈশ্বিক সিদ্ধান্তের আঁচ যে এ দেশেও লাগবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ছাঁটাইয়ের ঢেউ চলছে। গুগল (Google), মেটা (Meta), মাইক্রোসফট (Microsoft) থেকে শুরু করে একাধিক স্টার্টআপ, সবাই কোনও না কোনও পর্যায়ে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর চাহিদা কমে যাওয়া, বিনিয়োগে ভাটা এবং এআই নির্ভর কাজের প্রসার, সব মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অ্যামাজনের ক্ষেত্রে আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি সম্প্রতি এআই ও ক্লাউড পরিষেবায় বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (Amazon Web Services) বা এডব্লিউএস-এ (AWS) নতুন এআই টুল, জেনারেটিভ এআই পরিষেবা এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম গড়ে তুলতে প্রচুর অর্থ ঢালা হচ্ছে। সেই বিনিয়োগের ভার সামলাতেই খরচ কমানোর কৌশল হিসেবে কর্মী ছাঁটাইকে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক প্রাক্তন অ্যামাজন কর্মীর দাবি, ‘এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষতা বাড়ানো ও অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানো। উচ্চপদস্থ ম্যানেজমেন্ট ও প্রশাসনিক স্তরে ছাঁটাই হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ সূত্রের খবর, এ বার জুনিয়র স্তরের তুলনায় সিনিয়র ও মিড, লেভেল ম্যানেজারদের উপরই বেশি নজর রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নতুন বছরের শুরুতেই এই সম্ভাব্য ছাঁটাই প্রযুক্তি ক্ষেত্রের চাকরি বাজারে ফের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। কর্মী সংগঠনগুলির মতে, এআই-এর অগ্রগতি যেমন সুযোগ এনে দিচ্ছে, তেমনই বহু মানুষের জীবিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলছে। অ্যামাজনের মতো সংস্থা যদি এ ভাবে ধারাবাহিক ছাঁটাই চালিয়ে যায়, তবে গোটা প্রযুক্তি শিল্পেই তার প্রভাব পড়বে, এমনটাই আশঙ্কা। এখন দেখার, আগামী সপ্তাহে অ্যামাজনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় কি না এবং সেই ঘোষণায় ঠিক কতজন কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Father kills daughter in Bankura | পারিবারিক বিবাদে ভয়াবহ পরিণতি: বাবার হাতে প্রাণ গেল বিবাহবিচ্ছিন্না তরুণীর, কুয়ো থেকে মিলল দেহ




