প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : জিয়াগঞ্জের শান্ত গ্রাম্য পরিবেশে নেমে এল বলিউড রোশনাই। লাল ভেজা কাপড়ে মোড়া একগুচ্ছ পান, গাড়ির সিটে যত্ন করে রাখা, উদ্দেশ্য একটাই, ‘বন্ধু’র জন্য উপহার। সেই উপহার হাতে করেই সোমবার অরিজিৎ সিং-এর (Arijit Singh) বাড়িতে পৌঁছলেন আমির খান (Aamir Khan)। মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন দুনিয়ায়। প্রশ্ন একটাই, এ কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, না কী বড় কোনও কাজের ইঙ্গিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমির খান নাকি দিন দু’য়েক জিয়াগঞ্জেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। সোমবার গোটা দিন প্রায় তিনি কারও নজরেই পড়েননি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে অরিজিতের স্টুডিয়োর দিকে যাওয়ার পথে আচমকাই ক্যামেরাবন্দী হয়ে যান অভিনেতা। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, চামড়ার জ্যাকেট গায়ে, চুলে হেয়ারব্যান্ড বেঁধে দ্রুত পায়ে গাড়িতে উঠছেন আমির। চারপাশে নিরাপত্তারক্ষীরা, তবু উপস্থিত মানুষের দিকে হাত নাড়তে তিনি ভোলেননি। এই উপস্থিতির পর থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনার ঝড়। জানা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই এক নতুন হিন্দি ছবির দ্বিতীয় পর্যায়ের শুটিং শুরু হওয়ার কথা। সেই ছবিতে অরিজিৎ সিংহ প্রথমবারের মতো হিন্দি ছবির সংগীত পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, এমনটাই শোনা যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। কিন্তু হঠাৎ করেই গান গাওয়া থেকে অরিজিতের অবসর ঘোষণায় নাকি বিপাকে পড়েছেন একাধিক বড় প্রযোজক। এই তালিকায় বলিউডের তাবড় নামের পাশাপাশি রয়েছেন টলিউডেরও কয়েকজন প্রভাবশালী প্রযোজক।
বিশেষ সূত্র বলছে, ছবির সঙ্গে আগাম চুক্তি থাকলেও শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই গান গাওয়া নিয়ে নাকি টালবাহানা শুরু করেন অরিজিৎ। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, বোলপুরে শুটিং চলাকালীন মুম্বাই থেকে উড়ে আসতে হয় বিশাল ভরদ্বাজ (Vishal Bhardwaj) -সহ একাধিক প্রযোজক ও পরিচালককে। সেই সূত্র ধরেই অনেকে মনে করছেন, এই সমস্যার সমাধান করতেই হয়তো জিয়াগঞ্জে হাজির হয়েছেন আমির খান। অন্যদিকে, আমির খান ও অরিজিৎ সিংহের বন্ধুত্ব অবশ্য নতুন নয়। ‘দঙ্গল’ ছবিতে কাজের সূত্রেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। ছবির নায়ক ছিলেন আমির, আর তাঁর ঠোঁটে যে গান দর্শক শুনেছিলেন, তা ছিল অরিজিতের কণ্ঠে। সেই সময় থেকেই দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি অরিজিতের গানের বড় ভক্ত। অরিজিতের সংগীতবোধ ও কাজের প্রতি নিষ্ঠাকে তিনি বারবার কুর্নিশ জানিয়েছেন।
এই বন্ধুত্বের কারণেই কী তবে এত গোপন সফর? নাকি নতুন কোনও ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি? বিনোদন মহলের একাংশের দাবি, আমির খান নিজে প্রযোজক হিসেবে কোনও প্রকল্পে যুক্ত হতে পারেন, যেখানে সংগীতের দায়িত্ব থাকবে অরিজিতের হাতে। আবার কারও মতে, শুধুই পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতেই এই সফর। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অরিজিৎ সিং বা আমির খান দু’জনের কেউই। তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলও মুখে কুলুপ এঁটেছে। ফলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনুরাগীরা নানা তত্ত্ব খাড়া করছেন। কেউ বলছেন, এটি আসন্ন কোনও বড় ঘোষণার পূর্বাভাস। আবার কেউ মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রির জটিলতা মেটাতেই এই বৈঠক।
জিয়াগঞ্জবাসীর কাছেও আমিরের এই সফর একেবারেই অপ্রত্যাশিত। হঠাৎ করে বলিউড সুপারস্টারের উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এত সতর্কতার পরেও শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার চোখ এড়ানো যায়নি। আর তাতেই রহস্য আরও বেড়েছে। লাল কাপড়ে মোড়া পান থেকে শুরু করে গোপন বৈঠক, সবকিছুই যেন বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু সেটি কী, তা জানতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত সময়ের হাতেই সবটা ছেড়ে দিয়েছেন আমির ও অরিজিৎ, আর তাঁদের অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী চমকের।
ছবি : সংগৃহীত



