West Bengal Weather Friday : শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া :গভীর নিম্নচাপ দুর্বল হচ্ছে, তবুও শুক্রবারও ৯ জেলায় ভারী বৃষ্টি, কলকাতায় ঝড়ের সতর্কতা! স্বস্তি কবে?

SHARE:

স্থলভাগে ঢোকার পর শক্তি হারাতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ (West Bengal Weather)। উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করা এই নিম্নচাপ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে। তবে তার প্রভাব একেবারে কাটছে না। শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: স্থলভাগে ঢোকার পর শক্তি হারাতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ (West Bengal Weather)। উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করা এই নিম্নচাপ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে। তবে তার প্রভাব একেবারে কাটছে না। শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ। কলকাতাতেও থাকছে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD) সূত্রে খবর, শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে সতর্কতার মাত্রা কমবে। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি পুরোপুরি থামতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বৃহস্পতিবারের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘণ্টায় প্রায় ৭ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সেটি উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল। কোলিঙ্গপটনম (Kalingapatnam) থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে, রায়গড়া (Rayagada) থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোরাপুট (Koraput) থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে ছিল নিম্নচাপের কেন্দ্র।

আরও পড়ুন : India Women Asian Games Gold | India vs Sri Lanka Women Final : এশিয়ান গেমসে সোনার মঞ্চে ভারতের মেয়েরা, শেফালি-স্মৃতি-রিচার ব্যাটিং ঝড়ে শ্রীলঙ্কা অলআউট মাত্র ৬৯ রানে

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ক্রমশ শক্তি হারিয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। গভীর নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও তার জেরে তৈরি হওয়া মেঘপুঞ্জ এবং আর্দ্রতার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। কলকাতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কলকাতা কেন্দ্রের পূর্বাভাসে শুক্রবার আকাশ মূলত মেঘলা থাকার পাশাপাশি এক-দু’দফা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় অঞ্চলের জন্য ওই দিন ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনও কোনও জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলির জন্য পরিস্থিতি আরও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝোড়ো হাওয়ার গতি তুলনামূলক ভাবে বেশি হতে পারে। ফলে শুক্রবার ওই জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমুদ্র-নির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতিও পুরোপুরি শান্ত নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে বলে আবহাওয়া দফতরের সামুদ্রিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের জন্যও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে দমকা হাওয়ার গতি আরও বেশি হয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সমুদ্রের অবস্থা উত্তাল থাকায় ছোট ও মাঝারি নৌকার ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গও শুক্রবার বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong) ও আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) কিছু এলাকায় আরও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক সতর্কতায় উত্তরবঙ্গের জন্য শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা রয়েছে। জলপাইগুড়িতে শনিবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

কলকাতার ক্ষেত্রে শুক্রবার বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াই প্রধান উদ্বেগ। বৃহস্পতিবারও শহরে বৃষ্টি হয়েছে এবং আলিপুর কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী কলকাতায় ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৬ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকার কারণে দিনের তাপমাত্রাতেও খুব বেশি বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবারের পর আর বড় কোনও সতর্কতা নেই। শনিবার থেকে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে তার অর্থ বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে শহর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টি বা বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পর্ব চলতে পারে।

আরও পড়ুন : India Russia Oil 2026, India US relations | Randhir Jaiswal statement : রাশিয়ার তেল নিয়ে ট্রাম্পের চাপ, নতুন দিল্লির জবাব ‘ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’

কলকাতায় ২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য আলিপুর কেন্দ্রের পূর্বাভাসে মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে ও কোনও সতর্কতা রাখা হয়নি। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও শহরের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও সতর্কতা নেই। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের তুলনায় সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিতই মিলছে। তবে আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার বদলে মেঘলা পরিবেশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির প্রকোপ ধীরে ধীরে কমবে। শুক্রবারের পর শনিবারও জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু পরবর্তী দিনগুলিতে সতর্কতার মাত্রা নেমে আসার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে পাহাড় ও ডুয়ার্স এলাকায় শুক্রবার-শনিবার বৃষ্টির দাপট থাকলেও সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আবহাওয়ার পিছনে মূল ভূমিকা নিচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের গভীর নিম্নচাপ। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সিস্টেমটি স্থলভাগে ঢোকার পর ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের সামুদ্রিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তার পর আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এখন মূল লক্ষ্য, শুক্রবারের বৃষ্টির উপর। গভীর নিম্নচাপের শক্তি কমলেও পশ্চিমবঙ্গে তার প্রভাব আরও এক দিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বর্ষণ এবং উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হলেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে পরবর্তী কয়েক দিন। অর্থাৎ বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা কমলেও শুক্রবার পর্যন্ত আবহাওয়ার দিকে দৃষ্টি রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Budget 2026, Nirmala Sitharaman-Swapan Dasgupta meeting | বাজেটের আগে দিল্লিতে স্বপন-নির্মলা বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে বড় ইঙ্গিত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন