West Bengal Weather Today | Cyclone Arnab 2026 : পুজোর আগে বঙ্গোপসাগরে ফের চোখ রাঙানি, ‘অর্ণব’ কি আসছে? বাংলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি যখন ধীরে ধীরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে, ঠিক তখনই বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ায় (Weather) নতুন করে নজর পড়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ, মণ্ডপ সাজানো, পুজোর বাজার ইত্যাদি সবকিছুর মধ্যেই ফের বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা। সেটি পরবর্তী সময়ে শক্তি বাড়ালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে বিভিন্ন আবহাওয়া বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। সম্ভাব্য সিস্টেমটির গতিপথ, শক্তি ও শেষ পর্যন্ত কোথায় প্রভাব ফেলবে, তা আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করছে। আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উত্তর আন্দামান সাগরকে ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উত্তর থাইল্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তর আন্দামান সাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্কাইমেটের ১৮ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পরে সেটি মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। ২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ সেটি গভীর নিম্নচাপ বা নিম্নচাপের আরও শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার পর সেটি আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন : Annapurna Yojana fourth installment, Annapurna Yojana September 2026 | অন্নপূর্ণার চতুর্থ কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা, দেড় কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অর্থ! বাংলায় ‘কাটমানি’ নিয়েও প্রধাএনরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষ

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত বর্তমান বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিস্টেমটি যদি ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছয় এবং নাম দেওয়ার ক্রমে পরবর্তী নামটি প্রয়োগ হয়, তখন তার নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। এই নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলেই তার নাম ‘অর্ণব’ হয়ে যায় না। সেটিকে নির্দিষ্ট শক্তিতে পৌঁছে ঘূর্ণিঝড়ের মর্যাদা পেতে হবে। ফলে এই মুহূর্তে ‘অর্ণব’কে তৈরি হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সম্ভাব্য সিস্টেমটির গতিপথ এখনও বদলাতে পারে। বর্তমান কিছু আবহাওয়া বিশ্লেষণে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও সম্ভাব্য প্রভাবের আওতায় থাকতে পারে, কিন্তু এখনই বাংলার উপকূলে সরাসরি আছড়ে পড়ার কোনও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নেই। আগামী কয়েক দিনে নিম্নচাপটি কোথায় তৈরি হচ্ছে, কতটা শক্তি সঞ্চয় করছে ও কোন দিকে এগোচ্ছে, এই তিনটি বিষয় পরিস্থিতির ছবি অনেকটাই বদলে দিতে পারে।

এর মধ্যেই অবশ্য বাংলার আকাশে বৃষ্টির দাপট রয়েছে। পুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস সামনে এসেছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার কথা জানানো হয়েছে। রবিবারের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পরিস্থিতি পুজোর প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি হলে রাস্তার জমায়েত, বাজার এবং মণ্ডপ তৈরির কাজে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতিমধ্যে শহর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে মণ্ডপ তৈরির কাজ থেকে শুরু করে খোলা জায়গায় প্রতিমা রাখা সব ক্ষেত্রেই আয়োজকদের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন : India New Zealand trade deal, India New Zealand FTA 2026 | নিউ জিল্যান্ডের পার্লামেন্টে ভারত-এফটিএ পাস, অক্টোবরে বদলাতে পারে বাণিজ্যের ছবি! কতটা লাভবান হবে নতুন দিল্লি?

এদিকে বর্ষা বিদায়ের সময়ও এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু পূর্ব ও মধ্য ভারতের আবহাওয়ায় নতুন করে বঙ্গোপসাগরীয় সিস্টেমের প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পূর্ব ভারতের আকাশ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। তবে পুজোর ঠিক আগে এমন কোনও সিস্টেম শক্তিশালী হলে তার প্রভাব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা, কলকাতা এবং মণ্ডপ তৈরির কাজে যুক্ত মানুষের কাছে আবহাওয়ার প্রতিটি পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির সঙ্গে যদি দমকা হাওয়া যুক্ত হয়, তা হলে অস্থায়ী কাঠামো এবং খোলা জায়গায় থাকা সামগ্রী নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ‘অর্ণব’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেয়ে নজর রাখা বেশি জরুরি। কারণ আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণে কোনও সিস্টেমের প্রাথমিক অবস্থান থেকে পরবর্তী গতিপথ অনেক সময় পরিবর্তিত হতে পারে। এখন যে সম্ভাব্য নিম্নচাপের কথা বলা হচ্ছে, সেটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তার শক্তি কতটা হবে এবং কোথায় গিয়ে প্রভাব ফেলবে, এই প্রশ্নগুলির উত্তর আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার তথ্যেই পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, পুজোর আগে বাংলার মানুষ অবশ্যই স্বস্তির আবহাওয়া চাইছেন। কিন্তু আপাতত সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কিন্তু আগামী কয়েক দিন বঙ্গোপসাগরের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। উত্তর আন্দামান সাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপ থেকে যদি শক্তিশালী সিস্টেম তৈরি হয়, তার প্রভাব ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়তে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আশঙ্কা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই বাংলার আকাশে ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকছে, কিন্তু ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে, এমন কোনও তথ্য নেই। বরং উত্তর আন্দামান সাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপের বিকাশ এবং তার পরবর্তী গতিপথই এখন মূল নজরে। আগামী কয়েক দিনে সিস্টেমটির চরিত্র বদলালে বাংলার পুজোর আগের আবহাওয়ার ছবিও বদলে যেতে পারে। তাই আপাতত আতঙ্ক নয়, নিয়মিত আবহাওয়া দফতরের আপডেটের দিকে নজর রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL 2027 Auction India | তিন বছর পর ভারতেই IPL নিলাম? ডিসেম্বরেই বড় আয়োজন! কোন শহর পাবে দায়িত্ব?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন