সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ডালাস : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) -এর মঞ্চে পর্তুগাল (Portugal)-এর অভিযান থামতেই কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। স্পেন (Spain) -এর বিরুদ্ধে হারের পর মাঠ ছাড়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ম্যাচ শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। সেই ঘোষণার পর বিদায়ের মুহূর্ত আরও ভারী হয়ে ওঠে। শেষ বাঁশি বাজার পর ডালাস স্টেডিয়ামে কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন রোনাল্ডো। মুখে কোনও অভিব্যক্তি ছিল না, চোখে ছিল হতাশার ছাপ। চারপাশে সতীর্থদের সান্ত্বনা, প্রতিপক্ষের সহানুভূতি। এসবকিছুর মাঝেও যেন তিনি নিজের ভাবনায় ডুবে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়ার সময় দেখা যায়, চোখ ভিজে উঠেছে তাঁর। খেলার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তেই আবেগঘন কণ্ঠে রোনাল্ডো বলেন, ‘এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি আমার সবটা দিয়েছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার এখানেই শেষ।’ তবে সেখানেই তিনি থেমে থাকেননি। কিছুটা সময় নিয়ে যোগ করেন, ‘দেশের হয়ে অবসর নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় নিয়ে ভাবব, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ব্রাজিল (Brazil) -এর তারকা নেমার (Neymar Jr.)। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রোনাল্ডোও কী একই পথে হাঁটবেন? যদিও তাঁর মন্তব্যে আপাতত তেমন কোনও ইঙ্গিত নেই। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। ৪১ বছর বয়সেও তাঁর আত্মবিশ্বাস অটুট। রোনাল্ডো বলেন, ‘আমি আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব দিক ভেবে তবেই সিদ্ধান্ত নেব। আমি এখনও পর্তুগালের হয়ে খেলতে পারি, দলকে সাহায্য করতে পারি।’ তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। ম্যাচের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়া খুব কষ্টের। আমাদের দল ভাল খেলেছে। ম্যাচের ফল অন্য দিকেও যেতে পারত। ভাগ্য আমাদের পাশে ছিল না।’ তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে গোল হজম করাই পর্তুগালের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
বাড়তি সময়ে স্পেনের হয়ে মিকেল মেরিনোর (Mikel Merino) গোল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তারপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি পর্তুগাল। এই হারের পরও দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন রোনাল্ডো। ডালাসের সেই রাত যেন ফুটবল ইতিহাসে থেকে যাবে। রেফারি অ্যান্টনি টেলর (Anthony Taylor) -এর শেষ বাঁশি বাজার পর রোনাল্ডোর প্রতিক্রিয়া ছিল অনেক কিছু বলার মতো। প্রথমে স্থির, তারপর ধীরে ধীরে হাঁটা, এবং শেষ পর্যন্ত আবেগের বিস্ফোরণ, সব মিলিয়ে এক গভীর মুহূর্তের সাক্ষী থাকল স্টেডিয়াম।
রোনাল্ডোর কেরিয়ারে আবেগঘন মুহূর্তের অভাব নেই। ইউরো ২০১৬ (Euro 2016) -এর ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখের জল বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। তবে সেই টুর্নামেন্টেই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতে পর্তুগাল। অন্যদিকে কাতার (Qatar) বিশ্বকাপ থেকেও বিদায়ের সময় তাঁকে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল। সেই তালিকায় যুক্ত হল ডালাসের রাত। এই বিশ্বকাপ ছিল তাঁর কাছে আর এক সুযোগ। দীর্ঘ কেরিয়ারে অনেক ট্রফিই তিনি জিতেছেন, কিন্তু বিশ্বকাপ অধরাই থেকে গেল। ভক্তদের আশা ছিল, হয়ত শেষবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলল। অন্যদিকে, মাঠের বাইরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও নজর কেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে রোনাল্ডোর সমর্থনে ভরে গিয়েছে পোস্ট। অনেকেই লিখেছেন, ‘তিনি যা দিয়েছেন, তা কোনও ট্রফির চেয়ে কম নয়।’ আবার অনেকে মনে করছেন, তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় খুব কাছেই।
পর্তুগাল দলের ভিতরে তাঁর প্রভাব এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ফুটবলারদের কাছে তিনি অভিজ্ঞতার প্রতীক। শুধু গোল নয়, নেতৃত্বও দলের জন্য বড় সম্পদ। তাই তাঁর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ফুটবল দুনিয়া। ডালাসের সেই আবেগঘন দৃশ্য এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। চোখ ভেজা এক কিংবদন্তি, যিনি হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তিনি নিজেই জানিয়ে দিলেন, গল্প এখনও শেষ হয়নি। এখন অপেক্ষা, তিনি কোন পথে এগোন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi World Cup goals, Argentina vs Cape Verde match | মেসির ম্যাজিকে রোমাঞ্চকর জয়, বিশ্বকাপে টানা গোলের রেকর্ডে ইতিহাস : কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার



