Neymar retirement, Neymar Jr Brazil | চোখের জলে শেষ বাঁশি: নরওয়ের কাছে হার, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন নেমার, ব্রাজ়িলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আবেগঘন অবসর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক, ৬ জুলাই ২০২৬  : বিশ্বকাপ মঞ্চে স্বপ্নভঙ্গের রাত। শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর থেমে গেল ব্রাজিলের যাত্রা, আর সেই সঙ্গেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ালেন দেশের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা নেমার (Neymar Jr)। ম্যাচ শেষের পর মাঠেই ভেঙে পড়েন তিনি, চোখের জল লুকোতে পারেননি। সতীর্থরা এগিয়ে এসে তাঁকে ঘিরে ধরেন, কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ম্যাচের পর মিক্সড জ়োনে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে নেমার নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি বার বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ বার থামার সময় এসেছে। এখানেই শুরু করেছিলাম। এখানেই শেষ করলাম।’ তাঁর এই মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানছেন তিনি।

আরও পড়ুন : Lionel Messi World Cup goals, Argentina vs Cape Verde match | মেসির ম্যাজিকে রোমাঞ্চকর জয়, বিশ্বকাপে টানা গোলের রেকর্ডে ইতিহাস : কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

চলতি বিশ্বকাপে নেমারের খেলা নিয়ে শুরুর দিকেই প্রশ্ন উঠেছিল। চোটের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তবু ব্রাজ়িল দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি (Carlo Ancelotti) অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখে তাঁকে দলে রাখেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন নেমার, কিন্তু পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হতে সময় লাগে। টুর্নামেন্টের প্রথম চারটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একবার মাঠে নামার সুযোগ পান, তাও পরিবর্ত হিসেবে। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামানো হয় তাঁকে। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেমার, কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ব্রাজ়িল ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি, বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপ থেকে।

খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই আবেগে ভেঙে পড়েন নেমার। দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে খেলার স্মৃতি, সাফল্য আর অপূর্ণতার মিশেল যেন এক মুহূর্তে ফিরে আসে তাঁর চোখে। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশই দেখা যায় মাঠে। ক্যামেরার সামনে তাঁর অশ্রুসিক্ত মুখ ফুটবলপ্রেমীদের মনেও দাগ কেটে যায়। ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল নেমারের। তারপরের ১৬ বছরে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম সফল ফুটবলার। মোট ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি করেছেন ৮০টি গোল, যা ব্রাজ়িলের ইতিহাসে সর্বাধিক। এই রেকর্ড তাঁকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। নেমারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়, দলগত সাফল্যেও ভরপুর। ২০১২ সালের অলিম্পিকে রুপো জিতেছিল ব্রাজ়িল, আর ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে অলিম্পিক্সে সোনা জয়ের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

বিশ্বকাপের মঞ্চে চারবার খেলেছেন নেমার। প্রতিবারই তাঁকে ঘিরে ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি তাঁর হাতে ওঠেনি। এ বারও অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যে দলভুক্ত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেও গল্পটা সুখের হল না। দল বিদায় নিল, আর সেই সঙ্গে শেষ হল তাঁর আন্তর্জাতিক পর্ব। ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে নেমারের নাম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হবে। তাঁর দক্ষতা, গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। তবে তাঁর বিদায়ের মুহূর্তটা হয়ে রইল আবেগে ভরা। বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষবার দেশের জার্সিতে দেখা গেল তাঁকে। এই অবসরের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ব্রাজ়িল দল নতুন করে নিজেদের গড়ে তুলবে কীভাবে। তরুণদের উপর ভরসা রাখতেই হবে কোচিং স্টাফকে। অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলে নেমারের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাও নজরে থাকবে ফুটবল বিশ্বের। নেমারের বিদায় একটি যুগের সমাপ্তি। তাঁর খেলার স্মৃতি, গোল, মুহূর্ত, ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে এই নাম।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Neymar donation, Venezuela earthquake news | ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলায় মানবিক নেমার, বিশ্বকাপের মাঝেই ২.৫ কোটি টাকার সাহায্য, মাঠের বাইরে নজির গড়লেন ব্রাজিল তারকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন