সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও চমক। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি (Germany) নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে টাইব্রেকারে হেরে ছিটকে গেল টুর্নামেন্ট থেকে। দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে (Paraguay) দৃঢ় মানসিকতা ও শৃঙ্খলিত ফুটবল খেলে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচের নায়ক গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল (Orlando Gill), যিনি টাইব্রেকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট আটকে জার্মানির স্বপ্ন ভেঙে দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল জার্মানি। জোসুয়া কিমিচ (Joshua Kimmich), কাই হাভার্ৎজ (Kai Havertz) ও ফেলিক্স মেচারা (Felix Nmecha) একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন। মাঝমাঠে দ্রুত পাস বিনিময় করে কখনও উইং দিয়ে, কখনও কেন্দ্র দিয়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছিল জার্মান দল। কিন্তু প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। বক্সের মধ্যে জায়গা না দিয়ে প্রতিটি আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন ডিফেন্ডারেরা।
প্রথম ৩০ মিনিটে জার্মানি গোলমুখে শট নিতে পারলেও তা কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে রক্ষণ সামলে হঠাৎ হঠাৎ পাল্টা আক্রমণে উঠে জার্মানিকে চাপে ফেলে। সেই কৌশলই ফল দেয় প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গোল করেন হুলিয়ো এনসিসো (Julio Enciso)। মাতিয়াস গালারজার (Matias Galarza) ভাসানো বলে নিখুঁত হেডে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে (Manuel Neuer) পরাস্ত করেন তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় প্যারাগুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি আক্রমণের গতি বাড়ায়। দ্রুত সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে তারা। ৫৪ মিনিটে সেই চেষ্টা সফল হয়। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ (Florian Wirtz) -এর দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন কাই হাভার্ৎজ়। ম্যাচে সমতা ফেরে ১-১। এরপর দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোল আর আসেনি নির্ধারিত সময়ে।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে নাটক আরও ঘনীভূত হয়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে জার্মানির জোনাথন তাহ (Jonathan Tah) হেড করে বল জালে জড়ালেও ‘ভার’ (VAR) হস্তক্ষেপে সেই গোল বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, হেড নেওয়ার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ফাউল করা হয়েছিল। ফলে জার্মানির সম্ভাব্য লিড বাতিল হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে জার্মানি। প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান গিল। তাঁর দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সঠিক পজিশনিং প্যারাগুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ১২০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১ থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে শুরু থেকেই চাপ তৈরি হয় জার্মানির উপর। প্রথম শটেই কাই হাভার্ৎজের প্রচেষ্টা আটকে দেন গিল। এরপর চতুর্থ শটে নিক ওল্টেমেডের (Nick Woltemade) শটও রুখে দেন তিনি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে এগিয়ে যাচ্ছিল। যদিও এক পর্যায়ে অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া (Antonio Sanabria) শট বাইরে মারায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।
জার্মানির হয়ে পঞ্চম শটে নাদিম আমিরি (Nadiem Amiri) গোল করে আশা বাঁচিয়ে রাখেন। এরপর ফাবিয়ান বালবুয়েনা (Fabian Balbuena)-র শট নয়ার আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান। প্রথম পাঁচ শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। ম্যাচ তখন টানটান উত্তেজনায়। ষষ্ঠ শটে জার্মানির জোনাথন তাহ বল বারের উপর দিয়ে মেরে বসেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোসে ক্যানালে (Jose Canale) নির্ভুল শটে গোল করেন এবং প্যারাগুয়েকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দেন। স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা। এই ম্যাচে জার্মানির পুরনো সমস্যাই আবার সামনে এল, আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও গোল করতে ব্যর্থতা। গ্রুপ পর্বেই ইকুয়েডর (Ecuador)-এর বিরুদ্ধে একই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তার খেসারত দিতে হল জুলিয়ান নাগেলসম্যান (Julian Nagelsmann)-এর দলকে।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে দলগত সংহতি এবং রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নজর কেড়েছে। গোলরক্ষক গিলের পারফরম্যান্স এই জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উঠে এসেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই তিনি একাধিক সেভ করে দলের ভরসা জুগিয়েছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে বড় চমক হিসেবে ধরা হচ্ছে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায় টুর্নামেন্টের চিত্রই বদলে দিল। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে পরবর্তী পর্বে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Neymar retirement news, Brazil top scorer Neymar World Cup | ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুখে অবসরের ইঙ্গিত, বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন




