শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বলিউডের নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ছবি ‘কভী হাঁ কভী না’ আজও দর্শকের মনে জায়গা করে রয়েছে। সুনীল ও অ্যানার সহজ-সরল প্রেমের গল্পের মধ্যে দিয়ে শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) ও সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি (Suchitra Krishnamoorthi)-এর জুটি এক বিশেষ ছাপ ফেলেছিল। তবে এই ছবির আর একটি চরিত্রও সমানভাবে নজর কেড়েছিল শাহরুখের বোনের ভূমিকায় সাদিয়া সিদ্দীকী (Sadia Siddiqui)। বহু বছর পর সেই চরিত্রকে ঘিরে এক চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী নিজেই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া জানান, এই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রথমে তিনি গ্রহণই করতে চাননি। কারণ হিসেবে তিনি অকপটে বলেন, ‘আমি তখন শাহরুখ খানের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। ওঁকে ছাড়া আর কাউকে দেখতেই পেতাম না।’ তাঁর এই স্বীকারোক্তি ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনার ঝড় উঠেছে।

১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কভী হাঁ কভী না’ পরিচালনা করেছিলেন কুন্দন শাহ (Kundan Shah)। তাঁর নজরে প্রথম আসেন সাদিয়া, দূরদর্শন (Doordarshan)-এর ধারাবাহিক ‘হমরাহি’ (Humraahi)-তে অভিনয় দেখে। সেখানকার অভিনয়েই মুগ্ধ হয়ে তিনি সাদিয়াকে নিজের ছবিতে শাহরুখের বোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সাদিয়ার মনে তখন অন্য দ্বন্দ্ব। অভিনেত্রীর কথায়, ‘পরিচালক যখন আমাকে চরিত্রটি অফার করেন, আমি সরাসরি বলি, শাহরুখের প্রতি আমার যে অনুভূতি, তা লুকোতে পারব না। ফলে চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য হবে না।’ এই সোজাসাপটা উত্তরে পরিচালক নাকি অবাক হলেও পরিস্থিতিকে হালকা করে নিয়েছিলেন। এখানেই থামেননি সাদিয়া। তিনি বরং ছবির নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু পরিচালক তাঁকে জানান, সেই চরিত্রের জন্য তিনি তখন বয়সে অনেকটাই ছোট। সাদিয়ার কথায়, ‘আমি ভেবেছিলাম, হয়তো অন্যভাবে রাজি করানো যাবে।’ পরের দিন নিজের সেরা সাজে সেটে হাজিরও হন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলায়নি। তাঁকে বোনের চরিত্রেই অভিনয় করতে হয়।

সাদিয়া জানান, ‘আমার কাছে বিষয়টা সহজ ছিল না। কিন্তু আমি একজন অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকলেও পর্দায় তা ফুটে উঠতে দিইনি।’

তাঁর কথায়, দর্শক কখনও বুঝতেই পারেননি যে বাস্তবে তিনি শাহরুখকে অন্যভাবে ভাবতেন। ‘আমার অভিনয়ে মনে হয়েছে, শাহরুখ আমার দাদা’ বলেই তিনি জানান। শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন সাদিয়া। তাঁর মতে, সেটে শাহরুখ ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল এবং সহকর্মীদের প্রতি সংবেদনশীল। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবার সমুদ্রসৈকতে রোদের মধ্যে বসে ছিলাম। শট শেষ করে এসে শাহরুখ বলেছিলেন, রোদে কেন বসে আছ? গাড়িতে গিয়ে বসো, জল খাও।’

এই ছোট ঘটনাগুলিই তাঁর কাছে বড় হয়ে রয়েছে। আরও একটি স্মৃতি তুলে ধরেন সাদিয়া। বহু বছর পর একটি ডাবিং স্টুডিয়োতে আবার দেখা হয় তাঁদের। তখন শাহরুখ দেশের অন্যতম বড় তারকা। সাদিয়া ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো আর চিনবেন না। কিন্তু তা হয়নি। ‘আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করি, তোমার আমাকে মনে আছে? শাহরুখ বলেন, অবশ্যই মনে আছে। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরেন’। এই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে।

সাদিয়া আরও বলেন, তিনি কখনও নিজের অনুভূতির কথা সরাসরি শাহরুখকে জানাননি। তবে তাঁর বিশ্বাস, অভিনেতা বিষয়টি হয়তো বুঝতেন। ‘ওর আচরণে একটা আলাদা উষ্ণতা ছিল’ বলেই তিনি জানান। এই সাক্ষাৎকার সামনে আসার পরই নব্বইয়ের দশকের সেই ছবিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের একাংশ বলছেন, পর্দার পেছনের এই গল্প ছবিটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে। অন্যদিকে, শাহরুখ খানের ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ‘কভী হাঁ কভী না’ ছবিটি মুক্তির সময় বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের কাছেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। আজও সেই ছবির গান, গল্প এবং অভিনয় দর্শকদের মনে রয়েছে। তারই মধ্যে সাদিয়ার এই স্মৃতিচারণ নতুন করে আগ্রহ বাড়িয়েছে।

বলিউডে শাহরুখ খানের যাত্রা শুরু হয়েছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই সময়ের সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং আচরণ নিয়ে নানা গল্প আজও শোনা যায়। সাদিয়ার অভিজ্ঞতাও সেই ধারারই একটি অংশ, যা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্য একটি দিক তুলে ধরে। নব্বইয়ের সেই সময় থেকে বর্তমান দুই যুগের ব্যবধান পেরিয়েও এই গল্প দর্শকদের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। কারণ, পর্দার আড়ালের এই মুহূর্তগুলোই তারকাদের মানবিক দিক তুলে ধরে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Marriage 2026 | Who is Gauri Spratt Profession and Personal Life : তৃতীয় বিয়ের আগে চর্চায় আমির! গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরে থেকেও আলোচনায় গৌরী স্প্র্যাট, কে এই গৌরী?



