সংগ্রাম রাহা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আজ বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (২০২৬-২৭) পেশ করেছেন (West Bengal Budget 2026)। এই বাজেটে যেমন বিপুল কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনই একগুচ্ছ নতুন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের বড় প্রস্তাব আনা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই প্রথম বাজেটের মূল ঘোষণা, বড় বরাদ্দ এবং প্রস্তাবগুলি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
প্রধান রাজনৈতিক ও নীতিগত ঘোষণা
কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়: অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে “ডবল ইঞ্জিন” সরকারের সুবিধা নিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
ঋণের বোঝা: বর্তমানে রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ ৮,১৫,৮৯১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই আর্থিক চাপ সামলাতে একটি ডেট ম্যানেজমেন্ট বা ঋণ নিয়ন্ত্রণ মেকানিজম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইন সংস্কার: শহরাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দীর্ঘদিনের ‘আর্বান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট, ১৯৭৬’ পুনর্বিবেচনা করার ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঘোষণা
২০% ডিএ (DA) বৃদ্ধি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) একধাক্কায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে মোট ডিএ ১৮% থেকে বেড়ে ৩৮% হচ্ছে। পেনশনভোগীরাও একইভাবে ২০% অতিরিক্ত মহার্ঘ ত্রাণ পাবেন।
১ লক্ষ সরকারি চাকরি: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ২০,০০০ পুলিশ কর্মী এবং ৫০,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে।
মহিলা সংরক্ষণ: নতুন সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
বেকার ভাতা: ‘ভরসা কর্মসাথী’ প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন : El Nino impact India monsoon, Narendra Modi NITI Aayog meeting 2026 | এল নিনোর ছায়া, বর্ষায় ঘাটতির আশঙ্কা! নীতি আয়োগ বৈঠকে রাজ্যগুলিকে কড়া সতর্কবার্তা মোদীর
সামাজিক কল্যাণ ও ভাতার বড় ঘোষণা
অন্নপূর্ণা যোজনা (৩৬,০০০ কোটি বরাদ্দ): পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আগের চেয়েও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি: আইসিডিএস (ICDS) এর আওতাধীন আশা কর্মী, প্যারা-টিচার এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক বেতন ৫,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ড: সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এবং হোমগার্ডদের মাসিক বেতন আগস্ট ২০২৬ থেকে ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে।
মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস (₹৫৫০ কোটি বরাদ্দ): রাজ্যের মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করতে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা: পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য কার্ড নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য সামাজিক ভাতা: রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ করা ব্যক্তিদের জন্য মাসে ১০,০০০ টাকা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য ৫,০০০ টাকা মাসিক পেনশনের ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এবং প্রস্তাব
শিক্ষা ক্ষেত্র: মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি: পিএম পোষণ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পে প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে এবং রান্নার কাজে যুক্ত কর্মীদের ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। খাবার তৈরি ও বণ্টনে ইসকন (ISKCON) সহায়তা করবে।
নবোদয় বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ: রাজ্যে নতুন নবোদয় বিদ্যালয় তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে এবং বেশ কিছু নতুন মহিলা কলেজ স্থাপন করা হবে। প্রতিটি কলেজে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।
কলেজ পড়ুয়াদের আর্থিক সাহায্য: সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৩০,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্র: ৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ: আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানে নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে।
উত্তরবঙ্গে এইমস (AIIMS): উত্তরবঙ্গে একটি নতুন এইমস এবং ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
আসন বৃদ্ধি: রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে এমবিবিএস (MBBS) আসন ৬৫০টি এবং স্নাতকোত্তর (MD/MS) আসন ৪৫০টি বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে একটি নতুন ‘আয়ুষ’ (Ayush) দপ্তর তৈরি করা হবে।
কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও পরিকাঠামো
গ্রামীণ কর্মসংস্থান (১৪,০০০ কোটি বরাদ্দ): ১০০ দিনের কাজের স্থবিরতা কাটাতে ‘ভিবি-জি রাম জি’ (VB-G RAM G) প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য ১৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব রয়েছে।
পিএম আবাস যোজনা: বাংলায় আরও ২৫ লক্ষ মানুষকে পিএম আবাস যোজনার অধীনে পাকা বাড়ি দেওয়া হবে।
নতুন বিমানবন্দর ও বন্দর:
কলকাতার চাপ কমাতে কল্যাণীর কাছে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমিতে একটি নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরি হবে।
উড়ান (UDAN) প্রকল্পের অধীনে পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদা বিমানবন্দর সচল করা হবে এবং কোচবিহার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিপ সি পোর্ট (গভীর সমুদ্র বন্দর) তৈরি করা হবে।
শিল্প ও প্রযুক্তি: দুর্গাপুরে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং শিলিগুড়িতে একটি আইটি পার্ক তৈরি করা হবে। দুর্গাপুর, আসানসোল ও শিলিগুড়িতে মেট্রো পরিষেবার জন্য সমীক্ষা চালানো হবে।
ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান): মেদিনীপুর অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সুন্দরবন ও মুর্শিদাবাদ: সুন্দরবনের যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা এবং মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে গঙ্গা ভাঙন রোধ ও পুনর্বাসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
কলকাতার নতুন উড়ালপুল: চিঙ্গরিঘাটা থেকে নিউ টাউন পর্যন্ত এলিভেটেড করিডোরের জন্য ৯०० কোটি টাকা এবং ভাগীরথী নদীর ওপর নতুন সেতুর জন্য ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অন্যান্য প্রস্তাব
উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম: উত্তরবঙ্গের শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক প্রসারে সেখানে নতুন আইআইটি (IIT) ও আইআইএম (IIM) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি ও পর্যটন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ‘টেগোর কালচারাল সেন্টার’ তৈরি হবে। রাজ্যের প্রধান মন্দিরগুলিকে যুক্ত করে একটি ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
এমএলএ ফান্ড বৃদ্ধি: বিধায়কদের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল (MLA LAD) বার্ষিক ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
ক্রীড়া: একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি তৈরি হবে এবং জাতীয় গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি ক্লাবকে ১ কোটি টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
এই বাজেটটি একদিকে যেমন একগুচ্ছ মেগা প্রজেক্ট ও সামাজিক ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই এর বাস্তবায়ন বা মাঠপর্যায়ে রূপায়ণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত নিজেই বাজেট বক্তৃতার শুরুতে স্বীকার করেছেন যে রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
১. বিপুল ঋণের বোঝা ও সুদের কিস্তি (Debt Overhang)
রাজ্যের সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকট হলো এর ক্রমবর্ধমান ঋণ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণের পরিমাণ ৮,১৫,৮৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা রাজ্যের জিএসডিপি (GSDP)-র প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ।
চ্যালেঞ্জ: প্রতি বছর বাজেটের একটি বিশাল অংশ চলে যায় শুধুমাত্র আগের নেওয়া ঋণের সুদ এবং আসল মেটাতে। এই বিপুল দেনা মাথায় নিয়ে নতুন বড় প্রজেক্টগুলির জন্য তহবিল জোগাড় করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
২. রাজস্ব বাড়ানোর সীমিত সুযোগ (Revenue Mobilisation)
বাজেটের ঘোষণাগুলি কার্যকর করতে গেলে রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব (Own Tax Revenue) বাড়ানো জরুরি। কিন্তু জিএসটি (GST) জমানায় রাজ্যগুলির নিজস্ব কর বসানোর ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন কোনো কর না চাপিয়ে রাজস্ব বাড়াতে হবে। এর জন্য বালি বা খনিজ সম্পদের ই-নিলাম, সরকারি বাড়তি জমি লিজ দেওয়া এবং জিএসটি ফাঁকি রোখার ওপর নির্ভর করতে হবে, যা রাতারাতি বিপুল রাজস্ব এনে দেবে না।
৩. ‘ক্যাশ ট্রান্সফার’ এবং ভাতার বিপুল খরচ (Welfare vs Growth)
বাজেটে সামাজিক কল্যাণমূলক স্কিমে বিপুল বরাদ্দ করা হয়েছে। যেমন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র জন্য ৩৬,০০০ কোটি টাকা, বেকার যুবকদের জন্য ‘ভরসা কর্মসাথী’ প্রকল্প, এবং আশা, অঙ্গনওয়াড়ি ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন বৃদ্ধি।
চ্যালেঞ্জ: বাজেটের সিংহভাগ টাকা যদি শুধুমাত্র নগদ অর্থ বিতরণ (Cash Transfer) এবং বেতন-পেনশন মেটাতেই খরচ হয়ে যায়, তবে রাস্তাঘাট, বন্দর বা বিদ্যুৎ পরিকাঠামো তৈরির মতো মূলধনী খরচ (Capital Expenditure)-র জন্য খুব কম টাকাই অবশিষ্ট থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন।
৪. ২০% ডিএ বৃদ্ধি এবং সরকারি কোষাগারের চাপ
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বাড়ানো হয়েছে, যা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে মোট ডিএ ৩৮% হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ: এই ২০% ডিএ বৃদ্ধি এবং পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণ দেওয়ার কারণে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। এই বাড়তি স্থায়ী খরচ সামলাতে গিয়ে অন্য উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৫. জমি অধিগ্রহণ নীতি (Land Acquisition)
বাজেটে কল্যাণী গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর (১,০০০ – ১,৫০০ একর জমি), দাদনপাত্রবাড় গভীর সমুদ্র বন্দর এবং দুর্গাপুর সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটের মতো মেগা প্রজেক্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ: পশ্চিমবঙ্গে জমি অধিগ্রহণ সবসময়ই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিক ইস্যু। সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের অতীত ইতিহাস মাথায় রাখলে, কোনো রকম সামাজিক বা রাজনৈতিক সংঘাত ছাড়া এই মেগা প্রজেক্টগুলির জন্য হাজার হাজার একর জমি মসৃণভাবে জোগাড় করা নতুন সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রীয় সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
এই বাজেটের অনেক বড় বড় প্রস্তাব, যেমন উত্তরবঙ্গে আইআইটি, আইআইএম ও এইমস স্থাপন, বা পিএম আবাস যোজনায় ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি, সবই কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অনুদান এবং সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
চ্যালেঞ্জ: ডবল ইঞ্জিন সরকারের কারণে কেন্দ্রের থেকে টাকা পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হলেও, দিল্লির আর্থিক অনুমোদন, আমলাতান্ত্রিক ছাড়পত্র এবং যৌথ তহবিলের (Center-State funding ratio) সঠিক বণ্টন সময়মতো না হলে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে।
নতুন ৫টি জেলা গঠনের প্রশাসনিক খরচ
বাজেটে সুন্দরবন, বসিরহাট, জঙ্গিপুর, আরামবাগ এবং কলকাতা বিভাজন করে ৫টি নতুন প্রশাসনিক জেলা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ: নতুন জেলা তৈরি মানেই তার জন্য নতুন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারের (SP) অফিস, আবাসন, প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরি এবং নতুন কর্মী নিয়োগ। এই পুরো ব্যবস্থার জন্য যে বিপুল প্রাথমিক ও স্থায়ী খরচের প্রয়োজন, তা বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠে সরকার কীভাবে আর্থিক শৃঙ্খলা (Fiscal Discipline) বজায় রাখে এবং শিল্পের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে, তার ওপরেই এই বাজেটের সাফল্য নির্ভর করছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী



