সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জুরিখ: সুইজারল্যান্ড (Switzerland) নামটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ছবির মতো দেশ তুষার ঢাকা পাহাড়, নীলাভ হ্রদ, সবুজ উপত্যকা আর নিখুঁত পরিকাঠামোর সমন্বয়। সেই দেশের অন্যতম প্রধান শহর জুরিখ (Zurich) যেন এই সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু জুরিখ শুধু প্রকৃতির জন্যই পরিচিত নয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ভারতীয় সিনেমার স্মৃতিতে গাঁথা এক অনন্য শহর হিসেবেও বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ভারতীয় দর্শকদের কাছে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আকর্ষণের একটি বড় কারণ বলিউড (Bollywood)-এর সঙ্গে এই দেশের দীর্ঘ সম্পর্ক। রাজ কাপুর (Raj Kapoor)-এর সময় থেকে শুরু করে যশ চোপড়া (Yash Chopra)-এর সিনেমা বারবার সুইস প্রাকৃতিক দৃশ্য উঠে এসেছে রূপালি পর্দায়। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ (Dilwale Dulhania Le Jayenge)-এর মতো কালজয়ী ছবির দৃশ্য আজও দর্শকদের মনে অম্লান। অনেকের কাছেই সুইজারল্যান্ড মানেই সেই সিনেমার রোম্যান্টিক লোকেশন।
টিটলিস (Titlis), ইয়ুংফ্রাউ (Jungfrau) এবং সুইস আল্পস (Swiss Alps)-এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য জুরিখ থেকে সহজেই পৌঁছনো যায়। ফলে পর্যটকদের কাছে এই শহর একটি আদর্শ বেস হিসেবে কাজ করে। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন, যাঁদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাঁদের অনেকেই সেই সিনেমার দৃশ্যের বাস্তব রূপ দেখতে চান। তবে জুরিখ (Zurich)-এর আসল শক্তি শুধু পর্যটনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। শহরে অবস্থিত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার ক্ষেত্রে জুরিখের প্রতিষ্ঠানগুলির সুনাম বিশ্বজোড়া। ভারত থেকেও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য জুরিখে পাড়ি দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই জানান, ‘এখানে পড়াশোনার পরিবেশ এবং গবেষণার সুযোগ অসাধারণ।’ আধুনিক ল্যাবরেটরি, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক এবং বহুজাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনা শেষ করে বহু শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি জুরিখ শহর সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সমৃদ্ধ। শহরের জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি এবং সংগীত উৎসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত। ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়। পুরনো স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক নগর পরিকল্পনার সমন্বয় জুরিখকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। শহরের জীবনযাত্রার মানও বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, গণপরিবহণ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিক থেকে জুরিখ বহু দেশের কাছে উদাহরণ। এই সব কারণেই এটি শুধু পর্যটকদের নয়, স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় প্রবাসীদের একটি বড় অংশও এখন জুরিখে বসবাস করছেন। তাঁদের মতে, ‘এখানে কাজের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই জীবনযাত্রার মানও খুব উন্নত।’ ফলে অনেকেই পড়াশোনা শেষে এই শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পর্যটন, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির এই ত্রিবেণী সংযোগ জুরিখকে বিশ্ব মানচিত্রে একটি বিশেষ জায়গা দিয়েছে। একদিকে সিনেমার স্মৃতি, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষার কেন্দ্র, এই দ্বৈত পরিচয়ই শহরটিকে আলাদা করে তোলে। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সুযোগ বৃদ্ধির ফলে জুরিখ (Zurich)-এর প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ছে। ভারতীয়দের কাছে এটি শুধুমাত্র ভ্রমণের গন্তব্য নয়, বরং একটি সম্ভাবনার শহর হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই শহরের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রকৃতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন এখানে রয়েছে, তা বিশ্বে বিরল। জুরিখ যেন এক বাস্তব স্বপ্নপুরী, যেখানে সিনেমার দৃশ্য, পড়াশোনার লক্ষ্য এবং জীবনের নতুন দিগন্ত একসঙ্গে মিশে যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sara Ali Khan bungalow lease news | শিক্ষার জন্য নিজের বাংলো ছাড়লেন সারা আলি খান! আন্ধেরিতে ‘নবাবকন্যা’র বড় সিদ্ধান্তে চর্চা তুঙ্গে



