সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা: একটি ভুল ফোনকল কখনও কখনও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এই কথাটিই যেন নতুন করে সামনে এনেছে এক তরুণীর জীবনের ঘটনা। বিবাহিত জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের থেকে প্রায় ২৫ বছরের ছোট এক তরুণকে বিয়ে করেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো ঘিরে এই কাহিনি এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে (যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর সত্যতা সাশ্রয় নিউজ যাচাই করেনি)। তবু ঘটনাটির নানা দিক নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, এক নারী ও এক তরুণ সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলছেন। ওই নারী নিজের পরিচয় দেন ‘বিন্দু’ (Bindu) নামে। তিনি জানান, বিয়ের পরে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘সীমা প্রবীণ’ (Seema Praveen)। তাঁর দাবি, বিবাহিত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘স্বামী আমাকে মারধর করতেন, অপমান করতেন, এমনকী জোর করে অশ্লীল ভিডিয়ো তুলতেন।’
এই পরিস্থিতির মধ্যেই একদিন একটি ‘রং নম্বর’ তাঁর জীবনে অন্য এক দরজা খুলে দেয়। ভুল করে করা একটি ফোনকল থেকেই আলাপ হয় এক তরুণের সঙ্গে। বয়সে অনেক ছোট হলেও কথোপকথন ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। বিন্দুর কথায়, ‘প্রথমে সাধারণ কথা হত, পরে মনে হল এই মানুষটা আমার কথা শোনে।’ সেই ফোনালাপ একসময় এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে একে অপরকে ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, সমাজের নিয়ম, পারিবারিক সম্পর্ক সবকিছুকে পিছনে ফেলে একসময় বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী, সন্তান এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ওই তরুণের সঙ্গে পালিয়ে যান। পরে তাঁরা বিয়ে করেন এবং নতুন করে সংসার শুরু করেন। ভিডিয়োয় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়, যেখানে তাঁরা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন।
সমাজমাধ্যমে এই ঘটনাটি সামনে আসার পরেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ‘ঘর কা কলেশ’ (Ghar Ke Kalesh) নামে একটি এক্স (X) হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ ভিডিয়োটি দেখে ফেলেছেন। লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছে পোস্টটিতে। নেটাগরিকদের প্রতিক্রিয়া কিন্তু একেবারে একরকম নয়। একাংশ মনে করছেন, যদি সত্যিই ওই নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্তকে দোষ দেওয়া যায় না। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত সুখ এবং নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন বয়সের বড় ফারাক নিয়ে। তাঁদের মন্তব্য, ‘২৫ বছরের পার্থক্য একটি সম্পর্কে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।’
ঘটনাটি বিহারের জামুই (Jamui, Bihar) জেলার বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। ফলে পুরো ঘটনাটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভিডিয়োয় বিন্দু আরও জানান, তিনি নিজের পরিবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি আর সেই পুরনো জীবনে ফিরতে চাই না।’ নতুন সঙ্গীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন তাঁর ভাবনা। অন্যদিকে, ওই তরুণও জানিয়েছেন যে বয়সের ফারাক তাঁদের সম্পর্কে কোনও বাধা নয়। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে যেখানে নারী স্বাধীনতা ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়ে কথা হচ্ছে, অন্যদিকে সম্পর্কের স্থায়িত্ব, সামাজিক কাঠামো এবং পারিবারিক দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অনেকেই বলছেন, সমাজের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি সবসময় বিতর্ক তৈরি করে। বিশেষ করে যখন সেখানে বয়সের পার্থক্য এতটা বেশি হয়। তবে একই সঙ্গে এটাও উঠে আসছে যে, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তে অন্যের হস্তক্ষেপ কতটা হওয়া উচিত, সেটিও ভাবনার বিষয়। পুরো ঘটনাটি এখনও যাচাই সাপেক্ষ হলেও, একটি বিষয় পরিষ্কার, একটি সাধারণ ফোনকল যে এমনভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। ভাইরাল হওয়া এই কাহিনি এখন শুধুই একটি সম্পর্কের গল্প নয়, বরং সমাজ, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নানা দিক নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gold Extraction from Seawater | সাগরের নোনা জলে লুকিয়ে কোটি কোটি টন সোনা, বাস্তবে মিলবে তো?



