সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এক তরুণী। সেই ‘না’-এর জেরেই ভয়াবহ সাইবার অপরাধের অভিযোগ সামনে এল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে ওই তরুণী এবং তাঁর মায়ের একাধিক বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিয়ো তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি (Delhi) থেকে একজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম সুমিত নেমচাঁদ শর্মা (Sumit Nemchand Sharma)। ঘটনাটি সাইবার অপরাধের নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে এবং সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তরুণী গুজরাতের আহমদাবাদ (Ahmedabad) -এর বাসিন্দা। কিছু দিন আগে সমাজমাধ্যমে তাঁর কাছে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠান দিল্লির বাসিন্দা সুমিত। কিন্তু সেই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। এর পর থেকেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকেই সুমিত ওই তরুণীকে লক্ষ্য করে অনলাইনে অনুসরণ শুরু করেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে (Instagram) তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন সুমিত। প্রথম দিকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথাবার্তা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্তরে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তরুণী তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণীর সমাজমাধ্যম প্রোফাইল থেকে তাঁর এবং তাঁর মায়ের একাধিক ছবি সংগ্রহ করেন সুমিত। সেই ছবিগুলিকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে আপত্তিকর রূপ দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০০-রও বেশি ছবি এবং ভিডিয়ো তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলি বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই কাজের জন্য সুমিত তিনটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। শুধু ইনস্টাগ্রামেই নয়, আরও কয়েকটি সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ওই আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়। এর ফলে তরুণী এবং তাঁর পরিবারের মানসিক চাপে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তরুণী বিষয়টি নজরে আসার পর দেরি না করে সাইবার ক্রাইম শাখার দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ডিজিটাল ট্রেইল খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর আহমদাবাদ পুলিশের একটি দল দিল্লিতে গিয়ে সুমিতকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে গুজরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হচ্ছে, কীভাবে তিনি এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং আর কেউ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না। তদন্তকারীরা তাঁর ব্যবহৃত ডিভাইসও পরীক্ষা করে দেখছেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের লক্ষ্য করে এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে বলে অভিযোগ। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। আইটি অ্যাক্ট (IT Act) এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত অভিযোগ জানানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকার কথা বলা হয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের উদাহরণ নয়, বরং প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াবহ দিকও তুলে ধরছে। সমাজমাধ্যমে সম্পর্কের জটিলতা থেকে কীভাবে অপরাধের জন্ম হতে পারে, তার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং পুলিশ অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রুখতে আরও কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya BJP statement | দিল্লিতে গোপন বৈঠক! কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শমীক ভট্টাচার্য



