সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস -এর ভবিষ্যৎ ঘিরে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক নাকি দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস (Congress) -এর সঙ্গে বৈঠক করছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে তৃণমূলের বহু বিধায়ক দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল যদি কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রিত হয়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত তৃণমূল। দলের অন্দরেই চলছে দফায় দফায় বৈঠক, কালীঘাট (Kalighat)-এ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত। একই সঙ্গে দলের একাংশ নেতার অসন্তোষও প্রকাশ্যে আসছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগের খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক মহল আরও কৌতূহলী হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মই হয়েছিল কংগ্রেস ভেঙে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একসময় কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। সেই সময় থেকে দুই দলের সম্পর্ক নানা ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। কখনও সহযোগিতা, কখনও বিরোধ, এই দুইয়ের মিশ্রণই দেখা গেছে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায়।
ইন্ডিয়া জোট (INDIA Alliance) গঠনের সময়েও তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। জানা যায়, একাধিক ক্ষেত্রে কংগ্রেসের উদ্যোগে সাড়া দেয়নি তৃণমূল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে দুই দল বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। তবে রাজনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে খবর। একটি সূত্রের কথায়, ‘দুই শিবিরের মধ্যে আলোচনা নতুন কিছু নয়, তবে এখন তা অন্য মাত্রা পাচ্ছে।’ বিশেষ করে ‘ভোট চুরি’ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর অবস্থানের প্রতি তৃণমূলের সমর্থনও আলোচনায় এসেছে। শুধু বিরোধী দলের অভিযোগ নয়, তৃণমূলের অন্দর থেকেও কিছু তথ্য সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, মালদহ (Malda) -এর দুই সংখ্যালঘু বিধায়ক ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। যদিও এই বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এই ঘটনাই জল্পনাকে আরও জোরদার করেছে।
বিজেপির তরফে এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘তৃণমূলের ভিতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ফলেই এই ধরনের যোগাযোগ হচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘দলের অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এবং নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজ করছেন।’ অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা হলেও, অভ্যন্তরীণ স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরাজয়ের পর তৃণমূলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংগঠনকে ধরে রাখা এবং কর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এই অবস্থায় অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগের খবর সামনে এলে তা দলের ভিতরে প্রভাব ফেলতেই পারে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবিরের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছেই। সেই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও জোট বা সমঝোতার সিদ্ধান্ত সহজ হবে না। কারণ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবুও জাতীয় স্তরে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যেখানে বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই যোগাযোগ আরও দৃশ্যমান হয় কি না, বা তা কোনও আনুষ্ঠানিক রূপ পায় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। রাজ্যের রাজনীতিতে এখন অনিশ্চয়তার আবহ। একদিকে দলের ভিতরে বৈঠক, অন্যদিকে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। দিল্লিতে বৈঠকের এই খবর কতটা বাস্তব আর কতটা রাজনৈতিক কৌশল, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই ইস্যু ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee protest, Samik Bhattacharya statement | হাই কোর্ট চত্বরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ঘিরে তোলপাড়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ, বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যর পাল্টা দাবি ‘তৃণমূলের কৃতকর্মের ফল’



