Sasraya News Sunday’s Literature Special, 17th May 2026 | Sunday, Issue 110| সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ১৭ মে ২০২৬, রবিবার, সংখ্যা ১১০

SHARE:

সম্পাদকীয়

রসা যেন না হারিয়ে যায়। একটা বিষয় নিয়ে খুবই তোলপাড় চলছে। সময়ের স্রোতে পরিবর্তন মানে এই নয় যে অবুঝ মানুষগুলোর উপস্থিতি ঘটবে। তাদের জন্য সংগ্রশালা করা দরকার। চিহ্নত করে উপযুক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন। জনসাধারণকে যে ভাবে পাশে পেয়েছেন সে ভাবেই পাশে রাখতে গেলে অন্ততঃ ধামা ধরাদের সঙ্গে নেবেন না। আর যদি দলে তা ঘটেছে তাহলে বিপর্যয় নিশ্চিৎ।

সাহিত্য পেজে এ হেন সম্পাদকীয় অনেকের। বুকের কাঁটা হয়ে বিঁধবে। আগের সরকার আসার পর এক শ্রেণীর কবি লেখকরা বঞ্চিত ছিল। এবং যারা কবিতার আঙিনায় নতুন তাদেরও পলোভন দেখিয়ে বিশেষ ভাবে সাহিত্যের কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখেছিল। এ নজর করার মত ঘটনা। এমন ঘটনা বিতর্ক তৈরী করেছে। কবিতা আকাডেমি নিয়ে যে চিন্তা ভাবনা ও সংগঠন তা রাজনৈতিকভাবে একটি বিশেষ পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই পদে বর্তমান তাকে সরিয়ে নতুন সরকারের কোন সংস্কৃতি মনস্ক কবি সাহিত্যিককে বসানো উচিৎ বলেই মনে করি। বুদ্ধিজীবী মহল এই বিষয়ে ক্লু আটলেও এটাই সত্য যে প্রকৃত ভাবে যারাই সাহিত্য চৰ্চার মধ্যে আছেন তাঁদের এই সংগঠনে নিয়ে আসা হোক। না পারলে জানানো হোক সহজ পথের অনুসন্ধান দেবে সাশ্রয় নিউজ।
আসলে আজ একটু অন্যরকম সম্পাদকীয় লিখতে বাধ্য হলাম। বর্ষীয়ান কবি বা সাহিত্যিক পরলোকে গমন করলে তাঁদের যথাযত সম্মান দেওয়া হয় না। এই বিষয় একটু নজর হলে বাংলা ও বাঙালি কবি– সাহিত্যিকদের মান থাকে।🍁

 

 

 

🍂মহামিলনের কথা
প্রাণ উৎক্রমণকালে জীবের কর্মচক্র সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হয়—- সে চক্রে তাহার সারাজীবনের সমস্ত পাপপুণ্যের চিত্র কর্ম্ম কতভাবে অঙ্কিত আছে তাহা দেখিয়া সে শিহরিয়া উঠে। জীবনে তাহার যদি পাপ অধিক থাকে তাহা হইলে কেবল পাপ দেখিতে দেখিতে পাপযোনি প্রাপ্ত হয়। আর যদি তিনি পুণ্যবান নামকারী হন তাহা হইলে কর্ম্মচক্রের মধ্যে কেবল নাম কেবল নাম দেখিয়া নামীর সহিত মিলিত হন।

 

শেষ পাথেয় 

অনন্তশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

লিলে পথিক! এ সংসার-দীর্ঘপথ ভ্রমণে ক্লান্ত হইয়া সংসার হইতে এবারকার মতো চলিলে—- সংসারের শোক দুঃখ অভাব জ্বালা যন্ত্রণা সব এখানে ফেলিয়া রাখিয়া কোথায় কোন অজ্ঞাত প্রদেশে চলিয়া যাইলে? এই ত তোমার কথা শুনিতেছিলাম, এই ত রাম রাম সীতারাম বলিলে। তোমার মুখের নাম মুখে রহিল, তোমার আত্মীয় স্বজনের কথা একবার ভাবিবার অবসরও পাইলে না, নীরবে চলিয়া যাইলে।
যাও তুমি যাও, আমিও যাইব; তোমার আত্মীয়-স্বজন শত্রু মিত্র সকলেই যাইবে, কবে কোন দিন যাইতে হইবে তাহার কোন স্থিরতা নাই।

এ রাজ্য ত্যাগ করিয়া অজ্ঞাত রাজ্যে যাইতে হইলে পাথেয়ের প্রয়োজন। সে পাথেয় সংসারের কোন জড় বস্তু নয় সে পাথেয় হইল নাম। যাহারা চতুর তাহারা সারাজীবন সেই পাথেয়রই সংগ্রহ করেন, প্রাণের সহিত নামকে মাখাইয়া ফেলেন, প্রাণের সঙ্গে নাম অহর্নিশি যাতায়াত করিতে থাকে, প্রাণ নামময় হইয়া যায়। সারাদিন কঠিন পরিশ্রমে যখন সমস্ত ইন্দ্রিয়গণ ঘুমাইয়া পড়ে, সুষুপ্তি জননী যখন আপনার শান্তিময় ক্রোড়ে টানিয়া তাহার সব ব্যথা দূর করিয়া দেন, জাগ্রত-রাজ্য এবং স্বাপ্ন্য-রাজ্য যখন থাকে না তখনও সেই প্রাণ আপনভাবে কাজ করে, একক্ষণও বিশ্রাম করে না।
সেই প্রাণকে নামময় করিতে পারিলে আর শেষের দিনের পাথেয়ের জন্য ভাবিতে হয় না। প্রাণের সঙ্গ করিতে পারিলে সহস্র লোকের সঙ্গে থাকিলেও নিঃসঙ্গ থাকিতে পারা যায়, বহিঃপ্রাণে নাম করিলে কিছুদিনের মধ্যে সূক্ষ্ম প্রাণের সংবাদ পাওয়া যায়। সুক্ষ্মপ্রাণ অর্থাৎ মুখ্যপ্রাণ অর্থাৎ সুষুম্নায় জপে মোহনিদ্রায় নিদ্রিত জীব জাগিয়া উঠিয়া শ্রীরাধার মত প্রিয়তমের নিকট যাইবার অন্য অভিলাষ করে। শ্রীরাধার মত প্রিয়তমের স্পর্শে সব ভুলিয়া গিয়া নিজের অস্তিত্ব হারাইয়া ফেলে, জীব তখন শিব হইয়া যায়। যাইবার সময় সুষুম্না অবলম্বনে ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদ করিয়া যায়, তাহার যাতায়াত নিবৃত্তি হয়।

বন্ধু। তুমি কি এইরূপ অভিসার করিতে শিখিয়াছ?
— না তাহাত শিখ নাই। তুমি যে এখনও স্হুলেই ডুবিয়া আছ। প্রাণপণ কর! সদাসর্ব্বদা প্রাণের সঙ্গে থাকিবার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও, এইবারেই তোমার লক্ষ্যে উপস্থিত হইতে পারিবে, তোমার জনম-মরণ থাকিবে না।
পথের মাঝে বাধা পাইয়া যেন ধাঁধা না লাগে। তোমার হৃদয়ে একজন তোমার আপনার জন আছেন, তুমি যখন যে বাধা পাইবে তখন তাঁহাকে জানাইয়া দিও, তিনি তোমার সমস্ত অসুবিধা দূর করবেনই। জানাও তাঁহাকে তোমার আবেদন অভিযোগ জানাও।

হ্যাঁ পাথেয়ের কথা হইতেছিল। আমাদের শেষ পাথেয় মন্ত্রটি বড় সুন্দর—- “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম”।
এই মহামন্ত্রটির সম্বন্ধে সাধুগণ এই কথা বলেন— ইহার তিনটি স্তর আছে। প্রথম জড়, দ্বিতীয় সাকার চেতন, তৃতীয় নিরাকার ব্রহ্ম। মরণ-যাত্রী কোন স্তরের উপাসক তাহাত জানা যায় না – সেইজন্য “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম” তিনটিই বলা হয়। যদি মরণযাত্রী প্রথম স্তরের সাধক হন অর্থাৎ বৃক্ষ লতা নদ-নদীকেই ঈশ্বরবোধে আজন্ম উপাসনা করিয়া থাকেন তাহা হইলে সৰ্ব্ব নদ-নদীশ্রেষ্ঠা সুরধুনি পতিতপাবনী শিবশিরবিহরিনী গঙ্গার নাম তাঁহার শেষসময়ে কর্ণমূলে উচ্চারণ করিয়া তাঁহার আজন্ম সাধনার কথা স্মরণ করাইয়া দেওয়া হয়, তিনি গঙ্গা স্মরণে দেহত্যাগ করিয়া উচ্চগতি লাভ করেন। আর যদি মরণযাত্রী সাকার উপাসক হন তাহা হইলে তাহার কর্ণমূলে “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম” উচ্চারণ করিলে তৎক্ষণাৎ তিনি সবিতৃমণ্ডল-মধ্যবর্তী সরসিজাসনে আসীন কেয়ূর ও কনককুণ্ডলবান্ হিরণ্ময়বপু শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী নারায়ণকে স্মরণ করিয়া বৈকুণ্ঠে গমন করেন।
আর যদি মরণ-যাত্রী শেষস্তরের সাধক হন, তাহা হইলে এই “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম” উচ্চারণে তাঁহার চিত্ত দৃশ্য- প্রপঞ্চের কথা স্মরণ করে না, যে চিৎ সমুদ্রে এই দৃশ্য তরঙ্গ উঠিয়াছে সেই চিৎ সমুদ্রে সেই অনাম-নামীতে সেই অরূপ-রূপের রূপসাগরে ডুবিয়া যায়, তাঁহার ভ্রমণ শেষ হয়। সেই জন্যই মরণ যাত্রীকে “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম” এই মহা পাথেয় দান করা হয়। এই মন্ত্রটি সাৰ্ব্বজনীন মন্ত্র সাধক যে স্তরের সাধক হউন না কেন, যাইবার সময় এ মন্ত্র শ্রবণে তিনি কৃতার্থ হয়েন।

“যং যং বাপি স্মরন্ ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্”।
যে যে ভাব স্মরণে জীব দেহ ত্যাগ করে সেই সেই ভাবই প্রাপ্ত হয়।
প্রাণ উৎক্রমণকালে জীবের কর্মচক্র সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হয়—- সে চক্রে তাহার সারাজীবনের সমস্ত পাপপুণ্যের চিত্র কর্ম্ম কতভাবে অঙ্কিত আছে তাহা দেখিয়া সে শিহরিয়া উঠে। জীবনে তাহার যদি পাপ অধিক থাকে তাহা হইলে কেবল পাপ দেখিতে দেখিতে পাপযোনি প্রাপ্ত হয়। আর যদি তিনি পুণ্যবান নামকারী হন তাহা হইলে কর্ম্মচক্রের মধ্যে কেবল নাম কেবল নাম দেখিয়া নামীর সহিত মিলিত হন।
সে স্হলেও ফাঁকি চলে না। পাপী আজন্ম পাপ করিয়া মরণ-মূহুর্ত্তে নাম শুনিয়া উর্দ্ধগতি লাভ করিবে এমনটি হয় না। নাম শুনিবার যোগাযোগ তাহার হয় না। নাম স্মরণ করিবে কি! মুগুর হাতে যমদূতকে দেখিয়া কাঁদিয়া আকুল হয়।

আর ত সময় হইয়া আসিল, এতদিন যদি পাথেয় সংগ্রহ না হইয়া থাকে আজ হইতেই আরম্ভ করিয়া দাও, কেবল কতকগুলো বড় বড় শাস্ত্রবাক্য শিখিলে কোন লাভ নাই। তুমি যদি অবিরাম নাম করিবার জন্য প্রাণপণ না কর তাহা হইলে সব ব্যর্থ হইয়া যাইবে। রাম রাম সীতারাম।

স্বর্গীয় অগ্রজ ৺বঙ্কিমচন্দ্রের ‘শেষ পাথেয়’ কবিতাটি মনে পড়িল :-

“হে বিষয় বিমূঢ় মরণ যাত্রী,
তোমার বৃথা গত কত দিবস রাত্রি।
কত বৰ্ষ মাস গত বিফল রঙ্গে,
পিতা মাতা পুত্র রমণী সঙ্গে।
বিত্ত-চরণ সেবি অতৃপ্ত চিত্তে,
কত দণ্ড মুহূর্ত্ত পল যাপিলে মিথ্যে।
হে ভ্রান্ত! কৃতান্ত এবে আগত দ্বারে.
প্রস্তুত হও মহাপ্রস্থান তরে
পরিহর ধন জন যৌবন দম্ভ,
বল অন্তে “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম”।
অদূরে মুমুর্ষু তব অজ্ঞাত দেশ,
আসন্ন এবে তব মুহূৰ্ত্ত শেষ।
মুহূর্ত্তে উড়িবে প্রাণ-বিহঙ্গ বন্য,
লুন্ঠিবে ধুলিমাঝে পিঞ্জর শূন্য।
এ অন্তে আর কেন ধন জন চিন্তা
কে মাতা কে পিতা কে ভব কান্তা?
শেষ সম্পদ তব মৃত্তিকা কুম্ভ,
জপ অন্তে “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম।”
(দেখ) তোমার কণ্ঠ ঘড় ঘড় কম্পিতকায়,
নাভিস্হলোত্থিত নিশ্বাস বায়।
স্থির নয়ন তব দর্শন হীন,
আজি তব ভবলীলা-অবসান দিন।
শিথিল বিকল তব দেহ-যন্ত্র,
তাই বলি একবার জপ সেই মন্ত্র।
পরজন্মে আপন মঙ্গল চাও,
এ অন্তে “গঙ্গা নারায়ণ ব্রহ্ম”—গাও
বলিতে না পার শুন সময় কই,
তব শিয়রে শমন দাঁড়ায়ে ওই ৷
অনন্তে মিশিছে জীব জীবন-বিম্ব।
শুন অন্তে “গঙ্গা নারায়ন ব্রহ্ম”!

জয় সীতারাম, রাম রাম ।

“উৎসব” পৌষ, ১৩৩৬ সাল
শ্রীপ্রবোধচন্দ্র পুরাণতীর্থ

পুনর্মুদ্রণ “পথের আলো“🍁

 

 

 

🍂ধারাবাহিক পন্যাস। ১

 

কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।

 

শব্দদের রাত্রি হয়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

 

২৮

ডায়েরির অনিবার্য কথা

 

দিশা মিত্র যখন কথা শুরু করল, তখন ঘরের ভেতরে উপস্থিত তিনজন মানুষই বুঝতে পারছিল—এই গল্প শোনা মানে কেবল তথ্য জানা নয়, একটি দীর্ঘ সময়ের ভিতর দিয়ে হাঁটা। এমন কিছু গল্প আছে, যা একবার বলা শুরু হলে আর মাঝপথে থামানো যায় না; কারণ তারা কেবল ঘটনার ধারাবিবরণী নয়, তারা মানুষের ভিতরের নৈতিকতা, সিদ্ধান্ত, ভয়, একাকীত্ব এবং অস্বীকার না করার এক দুর্লভ শক্তির ইতিহাস।
দিশা খুব ধীরে বলছিল। তার কণ্ঠে কোনও কৃত্রিম আবেগ নেই। বরং এমন এক সংযত বোধ, যা দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পরে আসে, যেখানে কান্না আর উত্তেজনা দুটোই ক্লান্ত হয়ে নীরব হয়ে যায়।
—তখন আমি দ্বিতীয় বর্ষে। বয়সটা এমন, যেখানে মানুষ নিজেকে খুব নিশ্চিত ভাবে, অথচ আসলে সবচেয়ে অনিশ্চিত থাকে। আমরা ভাবি, আমরা জানি আমরা কী চাই। কিন্তু জানি না, আমরা যা চাই, তার পরিণতি কী।

দিশা এবার একটু সামনে ঝুঁকল।
—তিতাস খুব সংবেদনশীল ছিল ছোট থেকেই। বেশি প্রশ্ন করত না, কিন্তু খুব গভীরভাবে দেখত।
—তুমি ভয় পেতে? সোমদত্তা জিজ্ঞেস করলেন।
—হ্যাঁ। কারণ আমি জানতাম, এই ধরনের মানুষ সহজে ভেঙে যায় না, কিন্তু একবার ভাঙলে পুরোপুরি ভেঙে যায়।

সে একটু থামল।
—রণজয় সান্যাল। নামটা বলছি, কারণ এই গল্পে তার উপস্থিতি মুছে ফেললে গল্প অসম্পূর্ণ থাকবে। যদিও সে নিজে খুব সহজেই নিজেকে মুছে ফেলতে পেরেছিল।

সোমদত্তা চোখ নামিয়ে শুনছিলেন। অনীক লক্ষ্য করল—মায়ের আঙুলগুলো টেবিলের উপর স্থির নেই, খুব সূক্ষ্মভাবে নড়ছে। এটি তার অস্থিরতার একমাত্র প্রকাশ।
—রণজয় খুব স্বাভাবিকভাবে আমার জীবনে ঢুকেছিল। প্রথম দিন কোনও বিশেষ কিছু মনে হয়নি। তারপর ধীরে ধীরে ওর কথা বলার ভঙ্গি, যুক্তি, হাসি সবকিছু আলাদা লাগতে শুরু করল। আমরা অনেক কথা বলতাম কেবল পড়াশোনা নয়, জীবন, সমাজ, ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতা… এমন সব বিষয়, যেগুলো নিয়ে সেই বয়সে কথা বললে নিজেকে বড় মনে হয়।

দিশা একটু হাসল।

—আমরা ভাবতাম, আমরা অন্যরকম। আমরা বাকিদের মতো না।
এই ‘অন্যরকম’ শব্দটি উচ্চারণের সময় তার চোখে এক ঝলক তিক্ততা দেখা গেল।
—আমরা ক্যান্টিনে বসতাম, ক্লাস ফাঁকি দিতাম, লাইব্রেরির পেছনের করিডোরে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতাম। তখন মনে হতো, এই কথাগুলোই ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

অনীক অনুভব করছিল, এই অংশে দিশার কণ্ঠে এখনও এক ধরনের কোমলতা আছে। স্মৃতি কখনও পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয় না।
—আমি ধীরে ধীরে ওর উপর নির্ভর করতে শুরু করলাম। এটা বুঝতে পারিনি প্রথমে। নির্ভরতা খুব নিঃশব্দে তৈরি হয়। তুমি টের পাও না, কখন তুমি নিজের সিদ্ধান্তের জায়গায় অন্য একজনের উপস্থিতি বসিয়ে ফেলেছ।

একটু নীরবতা।
—তারপর একসময়… সম্পর্কটা অন্য দিকে গেল।”
দিশা এই অংশে বিস্তারিত বলল না। তার প্রয়োজনও ছিল না। তার কণ্ঠের সংযমেই বোঝা যাচ্ছিল, এই অংশ তার কাছে কেবল ঘটনা নয়, অভিজ্ঞতা।
—আমি ভেবেছিলাম, এটাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা তো একসঙ্গে থাকবই।

সোমদত্তা মাথা একটু তুললেন।
—সে কি বলেছিল, বিয়ে করবে?
—হ্যাঁ। দিশা বলল,
–বলেছিল। খুব স্পষ্ট করে না, কিন্তু এমনভাবে, যে আমি ধরে নিয়েছিলাম সেটাই সত্যি।
এই ‘ধরে নেওয়া’ শব্দটির ভিতরেই ছিল ট্র্যাজেডির বীজ।

দিশা এবার সরাসরি বলল,
—তারপর আমি জানতে পারলাম, আমি প্রেগন্যান্ট। এইবার ঘরের বাতাস যেন থমকে গেল। “তিন মাস।”
সে আবার বলল, যেন সংখ্যাটিকে স্পষ্ট করে দিতে চায়।
–প্রথম দিন আমি ভেবেছিলাম, এটা ভয়ঙ্কর কিছু না। আমি রণজয়কে বলব, আমরা বিয়ে করব, সব ঠিক হয়ে যাবে

সে সামান্য মাথা নাড়ল।
—আমি তখনও বুঝিনি সবকিছু সবসময় ‘ঠিক’ হয় না।
অনীক নিঃশ্বাস আটকে শুনছিল।
—রণজয় শুনে প্রথমে চুপ করে ছিল। তারপর বলল, অ্যাবরশন করাও।
এই কথাটি বলার সময় দিশার গলায় কোনও কাঁপন নেই। যেন সে বহুবার নিজের মধ্যে এই বাক্যটি পুনরাবৃত্তি করেছে, যতক্ষণ না তা আবেগহীন হয়ে গিয়েছে।
—আমি বললাম, না। আমি বিয়ে করতে চাই।
—সে কী বলল?
সোমদত্তা জিজ্ঞেস করলেন।
—সে বলল, এখন সম্ভব না।
—কেন?
—কারণ তখন ‘সময়’ ঠিক না।
দিশা এবার সরাসরি তাকাল।
—এই ‘সময় ঠিক না’ কথাটা খুব বিপজ্জনক। কারণ এর কোনও নির্দিষ্ট মানে নেই। এর মানে হতে পারে, আজ না, কাল। আবার এর মানে হতে পারে, কখনওই না।

একটু নীরবতা।
—আমি তখনও আশা ছাড়িনি। ভাবছিলাম, সে বুঝবে। সময় নেবে। তারপর সব ঠিক হবে।
—হয়নি, সোমদত্তা বললেন ধীরে।
—না।
একটি ছোট্ট শব্দ। কিন্তু তার ভিতর সম্পূর্ণ ভাঙন।
—রণজয় ধীরে ধীরে দূরে যেতে শুরু করল। ফোন ধরত না। দেখা করত না। তারপর একদিন, পুরোপুরি অদৃশ্য।
—কোনও ব্যাখ্যা?
—না।
—কোনও চিঠি?
—না।
—কোনও শেষ কথা?
দিশা মাথা নাড়ল।
—কিছু মানুষ শেষ কথা বলারও প্রয়োজন মনে করে না।
এই বাক্যটি ঘরের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে স্থির হয়ে রইল।
এরপর দিশার জীবনের যে অংশ, তা আরও কঠিন।
—আমি বাড়িতে বলিনি। বলতে পারিনি। কারণ জানতাম, ওরা আমাকে গ্রহণ করবে না।
—তুমি একাই সিদ্ধান্ত নিলে? সোমদত্তা জিজ্ঞেস করলেন।
—হ্যাঁ।
—ভয় লাগেনি?
দিশা একটু হাসল।
—লেগেছিল। কিন্তু ভয়কে যদি গুরুত্ব দাও, সে তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমি ঠিক করেছিলাম, আমি ভয়কে সময় দেব না।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে যে মানসিক শক্তি, তা স্পষ্ট।
—আমি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। খুব নাটকীয় কিছু নয়—কেউ জানল না, কেউ আটকায়নি। আমি শুধু চলে গেলাম।
—কোথায়?
—একটা ছোট ঘর ভাড়া নিলাম। এক বান্ধবী সাহায্য করেছিল প্রথমে। তারপর নিজের মতো।
—চাকরি?
—যা পেয়েছি—টিউশন, ডে-কেয়ার, ছোটখাটো কাজ। শরীর তখন ভারী হচ্ছে, তবু কাজ থামাইনি।
দিশার চোখে এখন আর কষ্ট নেই। আছে একধরনের দৃঢ় স্মৃতি।
—গর্ভের সময়টা খুব কঠিন ছিল। শারীরিক কষ্ট আলাদা, মানসিক কষ্ট আলাদা। কিন্তু আমি একটা জিনিস খুব পরিষ্কার জানতাম, আমি এই বাচ্চাটাকে রাখব।
সে এবার একটু ঝুঁকে বলল,
—কারণ সে কোনও ভুল নয়।
সোমদত্তা তাকিয়ে রইলেন।
— রণজয় ভুল হতে পারে। আমার সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। কিন্তু একটি জীবন, ভুল হতে পারে না।
এই বাক্যের পর দীর্ঘ নীরবতা।
অনীকের মনে হচ্ছিল, এই একটি বাক্যেই দিশার পুরো চরিত্র ধরা আছে।
—বাচ্চাটা জন্মাল, দিশা বলল।
তার কণ্ঠ নরম হয়ে এল। —মেয়ে।
—তুমি একাই ছিলে? সোমদত্তা জিজ্ঞেস করলেন।
—হ্যাঁ। একজন ধাত্রী ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তটা পুরোটাই একা।
—নাম?
—তিতাস।
—কেন?
দিশা একটু হাসল।
—কারণ নদী থামে না। বাঁক নেয়, পথ বদলায়, কিন্তু থামে না। আমি চাইছিলাম, ও–থেমে না যাক।

এই নামের ভিতরেই যেন দিশার জীবনদর্শন। এরপরের অংশ আরও কঠিন, আরও বাস্তব।
—আমি ওকে একা বড় করেছি।
—সমাজ? সোমদত্তা প্রশ্ন করলেন।
—সমাজ সবসময় থাকে। প্রশ্ন করে বাবা কে? কেন নেই? তুমি কী করেছ?… কিন্তু আমি কোনও উত্তর লুকাইনি।
—তুমি বলেছিলে?
—হ্যাঁ। আমি বলেছি, আমি একা। আমার মেয়ে আছে। এইটাই যথেষ্ট।
—মানুষ মেনে নিয়েছিল?
—প্রথমে না। তারপর ধীরে ধীরে—চুপ করে যায়। কারণ সত্যি নিয়ে খুব বেশি তর্ক করা যায় না।

দিশা এবার একটু সামনে ঝুঁকল।
—তিতাস খুব সংবেদনশীল ছিল ছোট থেকেই। বেশি প্রশ্ন করত না, কিন্তু খুব গভীরভাবে দেখত।
—তুমি ভয় পেতে? সোমদত্তা জিজ্ঞেস করলেন।
—হ্যাঁ। কারণ আমি জানতাম, এই ধরনের মানুষ সহজে ভেঙে যায় না, কিন্তু একবার ভাঙলে পুরোপুরি ভেঙে যায়।

অনীকের মনে হঠাৎ তিতাসের চোখ ভেসে উঠল।
—তিতাস যখন ক্লাস ফাইভে উঠল, তখন আমি ঠিক করলাম—ওকে ভাল স্কুলে ভর্তি করাব।
দিশা এবার সরাসরি সোমদত্তার দিকে তাকাল।
—আপনার স্কুলে।
সোমদত্তার চোখে স্মৃতি স্পষ্ট।
—আমি প্রথমে চিনিনি, তিনি বললেন।
—হ্যাঁ, দিশা মাথা নাড়ল, আপনি চেনেননি। কিন্তু আমি চিনেছিলাম।
—তারপর?
—একদিন… আমি আপনার কাছে গিয়েছিলাম।
দিশার কণ্ঠ নরম হয়ে এল।
—আমি বলেছিলাম—আমি দিশা।
সোমদত্তা চোখ বন্ধ করলেন এক মুহূর্তের জন্য।
—আমি মনে করতে পারছি…
—আমি তখন আপনাকে সব বলেছিলাম, দিশা বলল। রণজয়, আমার সন্তান, আমার সিদ্ধান্ত…
—আর তিতাস, সোমদত্তা বললেন।
—হ্যাঁ।
দিশা ব্যাগ থেকে ডায়েরিটা বের করল।
—আর এটা দিয়েছিলাম।
খাতাটি টেবিলে রাখা হল।
ঘরের ভেতর যেন সময় জমে গেল।
—আমার ডায়েরি।
অনীক তাকিয়ে আছে।
—আমি জানতাম, আপনি পড়বেন।
—আমি পড়েছিলাম, সোমদত্তা ধীরে বললেন।
—আর কিছু বলেননি।
—কিছু বলার ছিল না।
দিশা মাথা নেড়ে বলল,
—আপনার চুপ থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি ছিল।

এই বাক্যের পর—
ঘরের ভেতর তিনজন মানুষ, তিনটি সময়, একটি ডায়েরি, আর একটি নাম, তিতাস! যে এখন কেবল একজন মেয়ে নয়, বরং তিনটি জীবনের সংযোগবিন্দু। 🍁 (ক্রমশঃ)

 

🍂কবিতা

 

 

অশোক কুমার রায় -এর একটি কবিতা 

শকুন ও নীল আকাশ

ভাবছো শকুনেরা দেশ ছেড়ে চলে গেছে?
এবার হয়তো মৃতপ্রায় লাশ
জেগে উঠবে সুদিনের ঘ্রাণে।
কিন্তু তাই কি?
শকুনেরা যে রেখে গেছে বস্তি
তোমার প্রাসাদের কোণে কোণে
সেখানে গুমড়ে গুমড়ে আগুনের ফুলশয্যা, রচে গোপনে।
ঘুমিয়ে আছো বেশ!
ঘুমিয়ে থাকো।
হঠাৎ দেখবে অনাহুত চিতার আগুনে হবে তুমি লাশ।

গন্ধ পেয়েই শকুনে শকুনে
ছেয়ে যাবে নীল আকাশ।

 

 

শর্বাণীরঞ্জন কুণ্ডু -এর একটি কবিতা 

নীতিহীনতা 

ধর আমি একটা সামাজিক কাজ করি।
ব্যক্তিগত উদযাপনে আমার আত্মীয় গুরুত্ব পাবে
না কী সামাজিক কাজের মানুষগুলো গুরুত্ব পাবে?
আমি যদি আমার ব্যক্তিগত উদযাপনে
সামাজিক কাজের মানুষগুলোকে বেশী গুরুত্ব দিই,
এমনকি আমার আত্মীয়দের সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করি,
তবে বুঝতে হবে আমি ভ্রষ্ট হয়ে গেছি।
আমি পারতপক্ষে নিজেই নিজেকে সমাজচ্যুত করলাম।
রক্তের সম্পর্ক ভুলে যাওয়ার অর্থ
নিজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলা।
নীতিহীন মানুষ আজকাল এসব করছে।
‘অদ্ভুত আঁধার’ পৃথিবীকে গ্রাস করেছে আজকাল।
যত অনর্থ দেখা যায় বিশ্বব্যপি বিশ্বব
নীতিহীনতাই তার জন্য দায়ী।

 

 

বৃন্দাবন দাস -এর একটি কবিতা

অতএব

কেই জলে পড়ে গেলে
খুব দুঃখ হয়
কেননা জলে না পড়লে
তুলে আনা সম্ভব নয়

তাই বলে এত এত জল
এত এত পাঁকের আবর্ত

এতদিন যে চায়ের দোকানে
এত এত নরক ঘাঁটা
তাও বেমালুম হাওয়া

আজকাল ক্ষণজন্মা প্রতিবাদী খুঁজছি
খুঁজছি বাপ ঠাকুরদার ঘোলাজল ঘেঁটে যে
তুলে আনবে তলিয়ে যাওয়া কেচ্ছা
আর ঈশ্বরের দেবদূত পাঠানোর গল্প

অতএব বোশেখের দুপুররোদে মান্ধাতার
বিছানা না ঘাঁটাই ভালো —

 

জয়তী কাঞ্জিলাল-এর একটি কবিতা

 

কোনো এক বাড়ি জোনাকি জ্বালিয়ে রাখবে ভালোবাসা ***

হারানো সন্ধে, হারানো পথের প্রান্তে
মায়া গড়া ঘর ভেঙে যায় তুমি জানতে?

পালকের মতো ভারহীন সব তুচ্ছ
জীবনের মানে ভালোবাসা আজও খুঁজছো ?

কেন যে বোঝো না অতীত বিষাদে ভাস্বর
অ্যালবাম ছবি ধূসর সবই যে নশ্বর।

মেঘ সরে গেলে রোদ্দুর ছুঁয়ে যায় তাই…
আজ আছি কাল এই আমি দূরে চলে যাই।

রাত হয়ে গেলে গলির আলোটা জাগবে
কোনো এক বাড়ি জোনাকি জ্বালিয়ে রাখবে।

ভালোবাসা মানে অভিমান এটা বোঝোনি
তাই বুঝি আজও সেরকম করে খোঁজোনি।

সয়ে যেতে যেতে ব্যথারা পড়েছে ঘুমিয়ে
দিন চলে গেছে রাতের প্রদীপ নিভিয়ে।

যতটুকু ছিল সবটুকু দিয়ে নিঃস্ব
গান থেমে গেলে রেশটুকু শোনে বিশ্ব।।

কোনো এক বাড়ি জোনাকি জ্বালিয়ে রাখবে

ভালো বাসা

 

 

মিঠুন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা 

ফাগুন কতটা একলা

ফাগুনে দেখেছ শিমুল পলাশ
পাতাঝরা কেউ দেখে না!
হাওয়ার ভেতরে দীর্ঘশ্বাসের
লুকানো কাহিনী লেখে না…

কিছু কিছু কথা এমন-ই থাকে
নীরবে রক্তক্ষরণ!
রঙিন আকাশে সুতো কাটা ঘুড়ি
লাটায়ের মন কেমন।

ঝাপসা রঙের বালিশের বুকে
আঁকিবুঁকি নীল কুয়াশায়,
হেঁটে চলে যায় বিষণ্ণ চাঁদ
অন্দর ভরা পিয়াসায়…

রাতজাগা চুপ দিনের মিছিলে
মুখে রঙ মাখা জেল্লা
কেউ না জানুক, বিচ্ছেদ জানে
ফাগুন কতটা একলা!

 

 

গৌতম কুমার কুণ্ডু -এর একটি কবিতা

অম্ল প্রবাদ

লালায়িত নই তবু বৃক্ষসাধ ছিল
দ্রাক্ষাফলের নৈকট্যে গমনাগমন
প্রাচীরের কাছে নীলবর্ণ শৃগাল এক
চেয়েছিল উচ্চবর্গ সীমানার পাশে

আরো কেউ খেয়েছিল সবর্ণ ফলাফল
ডালপালার স্পর্শ ছিল নাগালে
কিছুটা আড়ালে আবিলে
কাবিলে নয়
দু একটি মইয়ের ক্লীবজ ছোঁয়ায়

আহত রক্তাক্ত ফেরত এসেছি দ্যাখো
ছিন্ন আচ্ছাদনে
দু হাতে নখরের ছেঁড়

পশ্চাতে
অম্ল দ্রাক্ষার প্রবাদ ছুঁড়েছিল কেউ…

 

গোপালচন্দ্র দাস -এর একটি কবিতা

না-বলা কথার গোপন সংসার

আমার ভেতরে
কিছু কথা জন্মেছিল—
উচ্চারণের আগেই তারা
চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

আমি তাদের বলিনি,
তবু তারা বড় হতে থাকল—
শ্বাসের ভাঁজে,
নীরব বিকেলের কোণে।

রাতে যখন সব শব্দ ঘুমায়,
তারা জেগে ওঠে—
ছোট ছোট ঘরের মতো,
যেখানে আমি থাকি,
তবু ঢুকতে পারি না।

তারা নিজেরাই কথা বলে,
নিজেদের মতো করে বাঁচে—
কখনো হাসে,
কখনো চুপ হয়ে যায়।

আমি বাইরে থাকি,
ভেতরে চলে তাদের সংসার।

একদিন ভেবেছিলাম—
সব বলে দেব,
সব ভেঙে যাবে।

কিন্তু না-বলাটাই তাদের শরীর,
চুপ থাকাটাই তাদের শ্বাস।

এখন তারা আর আমার একার নয়—
একটা অদৃশ্য শহর,
যেখানে আমি নিজেই
একজন নীরব বাসিন্দা।

মানুষ যা বলে না,
সেটাই বেশি দিন বেঁচে থাকে।

 

 

নীলাদ্রি ভট্টাচার্য -এর একটি কবিতা 

আবেগ


এক সিঁদুর হাওয়ায়
অনেকটা পালিয়ে যেতে বলে শ্যাওলা ভাগাভাগি
জমাট ধনুক ব্যথা

শূণ্যের ওপাশে একটি মাদুর
মুদুরে জ্যান্ত পীঠের ঘাম

উড়ন্ত সম্ভোগ আয়ু
একা

মাটির চোখে ভাসে
পরিশুদ্ধ ধানের হৃদয় জল

পেছনে কেউ নেই
শ্মশানে কেউ নেই

কপালে ছাই মাখতে ছুটে যাই

ব্যবধানে তাকিয়ে তুমি
জানালার মতো দরজা খোল।

আলপথে
অদৃশ্য ট্রেনের হলুদ পা


নীরব মুখাগ্নীর মতো
হৃদয় কুপির আলো

 

 

🍁ধারাবাহিক উপন্যাস |২ 
সাশ্রয় নিউজ -এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ শুরু হয়েছে সাহিত্যিক মমতা রায় চৌধুরী -এর ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা’। একটি বিশেষ কালকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে এই উপন্যাস এগিয়ে যায়। নারীদের লড়াইয়ের কাহিনী পড়তে চোখ রাখুন রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ।

হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা

মমতা রায় চৌধুরী

সুনয়নাদি 

১৫.

অ্যালার্মের আওয়াজে তিথির ঘুম ভাঙল। কতক্ষণ ধরে অ্যালার্ম বেজেছে কে জানে! দরজা না খুলেই বুঝতে পারছে অনেকটা বেলা হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি উঠল আজ তো সুইটি আসবে না বলেই গিয়েছিল। ওকে নিয়ে কাজ করা ভীষণ মুশকিল! তিথির একটা ছুটির দিন বেছে বেছে ওই একটা ছুটির দিনকেই টার্গেট করেছে। সমস্ত কাজ একা হাতে করতে হবে সময় তো কারওর জন্য থেমে থাকবে না। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুম থেকে উঠল প্রথমে বাসি ঘরটাকে ঝাড় দিল। বাব্বাস্ শ্বেতাম্বরী, বুবুন ও ঘুম থেকে উঠছে না। ভালই হয়েছে কাজগুলো একটু তাড়াতাড়ি করে নিতে পারবে একবার উঁকি দিল শাশুড়ি মার ঘরে, না মা ঠিকঠাকই ঘুমাচ্ছেন। আসলে সবাই মায়ের অসুস্থতাকে ঘিরেই অনেক রাত্রে মা একটু স্টেবল হলে শুতে গিয়েছে। পবিত্র তো এখনও উঠবে না জানা কথাই এমনিতেই ও-একটা কুম্ভকর্ণ।

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তিথি গোপালকে তুলে তার ভোগ দিয়ে গেল চা করতে। অন্যদিকে শ্বেতাম্বরীর জন্য দুধ ফোটাল, তার দুধ রুটি মেখে শ্বেতাম্বরীকে ডাকতে গেল আর বুবুনের জন্য ম্যাগিটাও করে নিল। গতকালই বলে রেখেছিল আগামীকাল সানডে এই সানডেতে ওকে ম্যাগি করে খাওয়াতে হবে। শ্বেতাম্বরীকে দুধ রুটি দিয়ে বুবুনের জন্য ম্যাগিটাও করল তারপর নিজে এক কাপ চা নিয়ে দুটো নিউটি চয়েসের বিস্কিট নিয়ে খেতে শুরু করল। অবসন্ন ক্লান্ত শরীর সকালের ফুরফুরে হাওয়ায় জানলার ধারে বেশ আরাম বোধ করল। গণেশের দেওয়া পেপারটা পড়তে শুরু করল। বাবা কি সংকট চারিদিকে গ্যাসের সঙ্কট কী যে হবে গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ভেবেই তিথি অস্থির হয়ে উঠল। না আর যে করেই হোক ইনডাকশান আনতে হবে, নইলে গ্যাস কবে অর্ডার করা হয়েছে এখন অব্দি আলী দা গ্যাস সিলিন্ডার দিল না। না একবার আলীদাকে ফোন করি! তিথি ব্যাপারটা ফেলে ফোনটা এনে আলীদার নম্বরে ফোন করল। ফোন করতে শুরু করল কিন্তু আদপেও ধরবে কিনা কে জানে! আজ কদিন ধরেই ফোন করা হচ্ছে কিন্তু ফোন ধরছেন না। অন্যদিকে একবার সুনয়নাকে ফোন করতে হবে। গতকালকে তো এত বৃষ্টি হয়েছে হয়ত এজন্য আসেনি। তাছাড়া শরীরটা কেমন আছে কে জানে! কিন্তু তিথির তো কাজের লোক ছাড়া চলবে না এদিকে সুইটির তো হাজারও কামাই।
না রিং হয়ে যাচ্ছে কে জানে ফোনটা ধরেন না কে জানে! না সময় নষ্ট করে লাভ নেই অনেক কাজ পড়ে রয়েছে একবার ফোনটা করেই দেখি সুনয়নাকে। রিং করতে যাবে ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল, ‘দুঃখের বেশে এসেছ বলে, তোমারে নাহি ডরিব হে…।’

তিথির মনে হল মানুষের জীবন তো এরকমই শূন্য থেকে আরেক শূন্যে বয়ে যাওয়া। তবুও শুন্যটাকে সংখ্যা ভেবে নিয়ে জীবনের গতিপথে এগিয়ে যাওয়াই ধর্ম। আমাদের এই মানব জন্ম অস্থায়ী নৌকা মাত্র তাতে বিষাদ আছে বৈরাগ্য আছে বিলাপ আছে আবার আনন্দও আছে। এই আনন্দটাকেই হাতিয়ার করে এগিয়ে গেলে সব মানুষই সুখী হতে পারে। কিন্তু আমাদের মনে এত দীনতা যার জন্য সেই মনটাকে উদার বৃহৎ করতে পারি না।

–হ্যালো !
–বৌদি আমি সুনয়না বলছি…
–হ্যাঁ বলো আমি তোমার কথাই ভাবছিলাম। তোমাকে ফোন করতে যাবো ঠিক তখনই তুমি ফোনটা করলে।
–বলছি কালকে না খুব বৃষ্টি হচ্ছিল যেতে পারিনি আর তাছাড়া শরীরটাও ভাল ছিল না।
–হ্যাঁ আমিও ঠিক এটাই আন্দাজ করেছিলাম।
–বলছি আজকে পাঠিয়ে দেব সোমাদিকে?
–পাঠিয়ে দেব মানে তুমি আসতে পারবে না?
–না গো সকাল থেকে পেটটা খুব ব্যথা করছে একবার ডাক্তারের কাছে যাব।
–ও আচ্ছা।
–কেন তোমার কি সময়ে এসে গেছে নাকি?
–নাগো ডাক্তার তো ডেট পরে দিয়েছেন।
–তাহলে…
–কিন্তু কেন যে এরকম হচ্ছে শরীরটা খারাপ বুঝতে পারছি না।
–না না একবার ডাক্তারের কাছে যাওয়াই ভাল।
–বলছি পাঠাব সোমাদিকে?
–পাঠিয়ে দাও।
–তাহলে এই সকাল আটটা সাড়ে আটটায় পাঠাব।
–হ্যাঁ আসতে বল আজকে তো সানডে ছুটির দিন অসুবিধে নেই।
–আচ্ছা ঠিক আছে।
–বলছি, এমনি তুমি কাজের কথা সব বলে দিয়েছ তো, কি কি করতে হবে?
–হ্যাঁ, হ্যাঁ বলে দিয়েছি।
–আর মাইনে পত্র?
–হ্যাঁ সেটাও বলেছি। আমাকে যেটা দাও সেটাই বলেছি।
–তা রাজি আছে?
–হ্যাঁ হ্যাঁ কাজ করবে গো।
–বাবা তুমি তো অনেক নিশ্চিত হয়ে বলছ কথা।
–আরে ওর স্বামী তো প্যারালাইজড ওর ও-কাজের দরকার আছে ওর শাশুড়ি মা ও কাজ করে ওর আর ওর শাশুড়িমার কাজেতেই সংসারটা চলে ।
–ওমা কি বলছ গো!
–হ্যাঁগো এমনিতে এ কোনওদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করেনি, এই প্রথম তোমাদের বাড়িতে কাজ করবে ।
–ও তাই বুঝি!
–বুঝতেই পারছ অবস্থা যেরকম সেভাবেই তো চলতে হবে।
–হ্যাঁ গো।
–বৌদি আমি হসপিটালে ভর্তি হলে আমাকে একবার দেখতে যেও।
–ও আচ্ছা আচ্ছা নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।
–না বৌদি চেষ্টা না, তুমি আসলে আমার খুব ভাল লাগবে।
–সেটা আমি বুঝতে পারছি। আমার শাশুড়ি মা’রও খুব শরীর খারাপ।
–কেন কী হয়েছে মাসীমার?
–আরে কালকে তো মায়ের ভীষণ বাড়াবাড়ি হয়েছিল স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
–এ বাবা তাই বুঝি! এখন কেমন আছেন?
–কালকে অনেক রাত্রে শুয়েছি মা একটু স্টেবল হলে।
–এই একটু আগে দেখে আসলাম ঘুমোচ্ছেন
এইজন্য ডাকিনি।
–না না ঠিকই আছে।
–এজন্যই তো আমার এখন খুব দরকার কাজের লোকের।
–তাহলে তোমার খুব চাপ।
–হ্যাঁগো আর এমন সময় তোমার এসব হল!
–কী করব বৌদি!
–না তোমার হওয়ার জন্য কিছু বলছি না, আসলে আমার এই সঙ্কট তুমি তো কিছু করতে
পারবে না!
–সেই জন্যই তো আমি সোমাদিকে বলেছি।
–সব বুঝিয়ে যে করেই হোক তুমি কাজটা করো।
–হ্যাঁ এটা তুমি আমার খুব বড় উপকার করলে গো।
–না গো বৌদি, মানুষ হয়ে যদি মানুষের পাশেই না থাকতে পারি তাহলে আর কিসের মানুষ?
–এ কথাটার ক’জন বোঝে বলো?
–আমরা খারাপ মেয়ে না কিন্তু আমাদেরও একটা মন আছে যেন।
–বারবার এই কথাটা বলো না সুনয়না।
–ভুলে যেতে চাই জানো তো ভাল হবার চেষ্টা করছি, কিন্তু পরিস্থিতি যেন বারবার ওই দিকে ঠেলে দিতে চায় জানি না, এই লড়াইটা কতদিন চালিয়ে যেতে পারব!
–এভাবে বলো না।
–কি করব বলো বৌদি!
–সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন দেখো।
–সেটাই যেন হয় বৌদি।
–ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তুমি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করো।
–তোমার কথাগুলো শুনলে না আমার মায়ের কথা মনে পড়ে যায় বৌদি। সেই ছোট্টবেলায় মা’কে দেখেছিলাম তারপর আর মায়ের কথা সেভাবে মনে পড়ে না জানো তো বৌদি, খেতে বসলে মায়ের কথা মনে হয় খুব।
কথাগুলো বলতে বলতেই কেঁদে ফেলল।
–এটাই তো স্বাভাবিক।
–তোমার মা আছেন তো? কেঁদো না।
–আছে নিশ্চয়ই। আর তো যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি।
–কি গো চলো ডাক্তারের টাইম হয়ে গেছে।
–হ্যাঁ হ্যাঁ যাচ্ছি।
–কে তোমার বর?
–হ্যাঁ গো বৌদি, ডাক্তারের কাছে যাব তাই তাড়া দিচ্ছে।
–না না ঠিক আছে আমি ছাড়ছি।
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তোমার সব ভাল হোক।
–বৌদি তাহলে ওই কথাই থাকল।
–হ্যাঁ ঠিক আছে কোন হসপিটালে ভর্তি হলে আমাকে খবর দিও, আমি নিশ্চয়ই দেখা করব তোমার সাথে।
–ঠিক আছে বৌদি।
–রাখছি।
–হ্যাঁ হ্যাঁ রাখো।
তিথির মনে হল মানুষের জীবন তো এরকমই শূন্য থেকে আরেক শূন্যে বয়ে যাওয়া। তবুও শুন্যটাকে সংখ্যা ভেবে নিয়ে জীবনের গতিপথে এগিয়ে যাওয়াই ধর্ম। আমাদের এই মানব জন্ম অস্থায়ী নৌকা মাত্র তাতে বিষাদ আছে বৈরাগ্য আছে বিলাপ আছে আবার আনন্দও আছে। এই আনন্দটাকেই হাতিয়ার করে এগিয়ে গেলে সব মানুষই সুখী হতে পারে। কিন্তু আমাদের মনে এত দীনতা যার জন্য সেই মনটাকে উদার বৃহৎ করতে পারি না। যেটা সব-থেকে বেশি জরুরী। যেদিন মানব জীবন তরীর মাঝি ভিড়িয়ে দেবে নৌকা সেদিনই যাত্রা হবে শেষ তাই শেষ যাত্রাপথে যাবার আগে নিজেদেরকে তৈরি হতে হবে সঠিকভাবে।… 🍁(ক্রমশঃ)

 

 

🍁গল্প

 

প্রচণ্ড শীতে তাবুর ভেতর জ্বরে অচেতন চিনি ডাকে— ‘মা’। তার গলা শুকিয়ে যায় জল তেষ্টায়। চিনি কপালে ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শ অনুভব করে। কে যেন তার মুখে একটু একটু করে জল ঢেলে দেয়।

 

গা

সুলেখা সরকার

ঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় জং। তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায় ট্রেকিং- এ আসা আরও ১৩জন। সামনে SSB জওয়ানদের ভিড়। যাত্রীসহ গাড়ি খাদে পড়ে গেছে, উদ্ধার কাজ চলছে। মানুষের ভয়াবহ আর্তনাদে চিনির বুক দুরুদুরু করে। দ্বিতীয় দিনে টুমলিং থেকে আরও ১৩ কিমি হেঁটে নেপাল বর্ডারের পাশ দিয়ে কালি পোখরি পৌঁছেছে তাঁরা।

কালি পোখরি থেকে ভৈরবীবেনজাং হয়ে সান্দাকফুর শেষ ২-৩ কিমি রাস্তা সাংঘাতিক খাড়া চড়াই। তিন দিনে ২০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে হেঁটেছে চিনি ও তার সঙ্গীরা। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত পা চলছে না। অবশেষে দূরে সোনালী কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এভারেস্ট। এ যেন পশ্চিম বাংলার স্বর্গ। দৈব স্থান। এক নিশ্চিত জয়। 

বুট খুলেই ভয়ে চিৎকার করে ওঠে চিনি। জং তাড়াতাড়ি পকেট থেকে কৌটো বের করে চিনির পায়ে আটকে থাকা জোঁকগুলির ওপর নুন ছিটিয়ে দেয়। একমাত্র মেয়ে চিনির মা-বাবার কথা মনে পড়ে।
আসলে মা-বাবা চায়নি সমতল থেকে সান্দাকফু ১১,৯৩০ ফুট উঁচুতে চিনি ট্রেকিং করতে আসুক। পাহাড়ি সরু পথ, গভীর খাদ, একটি ভুলে পা পিছলে সব হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু মেয়ের জেদের কাছে হার মেনেছে তারা। পিঠে ব্যাগ, হাতে লাঠি নিয়ে আর মাত্র একদিন।

কালি পোখরি থেকে ভৈরবীবেনজাং হয়ে সান্দাকফুর শেষ ২-৩ কিমি রাস্তা সাংঘাতিক খাড়া চড়াই। তিন দিনে ২০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে হেঁটেছে চিনি ও তার সঙ্গীরা। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত পা চলছে না। অবশেষে দূরে সোনালী কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এভারেস্ট। এ যেন পশ্চিম বাংলার স্বর্গ। দৈব স্থান। এক নিশ্চিত জয়।

প্রচণ্ড শীতে তাবুর ভেতর জ্বরে অচেতন চিনি ডাকে— ‘মা’। তার গলা শুকিয়ে যায় জল তেষ্টায়। চিনি কপালে ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শ অনুভব করে। কে যেন তার মুখে একটু একটু করে জল ঢেলে দেয়। জ্বরের মধ্যেও চিনি বুঝতে পারে তাঁবুর ভেতর অন্য কেউ আছে। চিনি আতঙ্কে পরিত্রাহী চিৎকার করতে চায়। পারে না।
জং বলে, ব্যাহেনি, নডরায়ু। ম জাগা ছু।🍁

(ব্যাহেনি = বোন / নডরায়ু= ভয় পেও না / ম = আমি / জাগা ছু = জেগে আছি)

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com, sasrayanews@gmail.com 

বি: দ্রসমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ ও ‘ফিরে পড়া’ বিভাগের লেখা  আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন