শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বলিউডের আলোচিত মুখ নোরা ফতেহি (Nora Fatehi) আবারও শিরোনামে। তবে এবার শুধুমাত্র নাচ বা গ্ল্যামারের জন্য নয়, বরং বিতর্ক, ক্ষমাপ্রার্থনা এবং সামাজিক দায়িত্ব গ্রহণ, এই তিনের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম খবর। ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ (KD: The Devil) ছবির একটি গানের জেরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন নোরা। একই সঙ্গে অনাথ কন্যাদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করে তিনি নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ‘সরকে চুনর তেরী সরকে’ (Sarke Chunri Teri Sarke) গানটি ঘিরে। গানটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, গানের কথা এবং উপস্থাপনা ‘অশালীন’ ও ‘রুচিবিরুদ্ধ’। নোরার নাচের ভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং একাধিক সংগঠন এই গানটি সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত গানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women)-এর সামনে হাজিরা দেন নোরা ফতেহি। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবেগঘন সুরে বলেন, ‘আমার কাজের মাধ্যমে কাউকে আঘাত করা উদ্দেশ্য ছিল না। একজন শিল্পী হিসেবে আমার দায় রয়েছে, সেটি আমি অস্বীকার করছি না। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ তাঁর বক্তব্যে ধরা পড়ে মানসিক চাপে থাকার কথাও। তিনি জানান, ‘পুরো ঘটনাটা আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে।’ নোরার এই ক্ষমাপ্রার্থনা নিছক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি একই সঙ্গে সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন। কমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে অনাথ মেয়েদের শিক্ষার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন। তাঁর কথায়, ‘সমাজ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এবার আমার পালা কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার। যেসব মেয়েরা সুযোগ পায় না, তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ এই ঘোষণার পর থেকেই নোরার এই পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিতর্কে আর এক পরিচিত নামও উঠে আসে, সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt)। গানটিতে নোরার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাঁকেও জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফে ডাকা হয়। গত ২৭ এপ্রিল তিনি কমিশনের সামনে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান জানান। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়, ‘গানটির ভাষা সঞ্জয় বুঝতে পারেননি। ফলে এর বিষয়বস্তু নিয়ে আগে থেকে কোনও ধারণা ছিল না।’ এই বক্তব্যের পর সঞ্জয়ের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হলেও প্রশ্ন পুরোপুরি থামেনি।
সমগ্র ঘটনাটি বিনোদন জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে এনেছে, শিল্পের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সীমারেখা। একদিকে শিল্পীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে চান, অন্যদিকে দর্শকদের একটি বড় অংশের সংবেদনশীলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এই ভারসাম্য বজায় রাখা যে কতটা জটিল, তা এই ঘটনাতেই আবার সামনে এল। নোরা ফতেহির এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, অনেকে আবার এটিকে বিতর্ক সামাল দেওয়ার কৌশল বলেও মনে করছেন। তবে তাঁর ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সেটাই এখন দেখার। অনাথ কন্যাদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
বিতর্ক, ক্ষমা এবং দায়িত্ব, এই তিনের মধ্যে দিয়ে নোরার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বলিউডে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজমাধ্যমে কেউ তাঁকে সমর্থন করছেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি গান বা একজন শিল্পীকে ঘিরে নেই, এটি বৃহত্তর সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার সীমা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বর্তমানে নোরা ফতেহির এই ঘোষণার বাস্তব রূপায়ণ এবং ভবিষ্যতে তাঁর কাজের ধরণ, এই দু’টি দিকেই নজর থাকবে সকলের। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু থেকে বেরিয়ে এসে তিনি যে নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Deepika Padukone Mental Health Ambassador | দীপিকা পাড়ুকোন মানসিক স্বাস্থ্যের দূত, ভারত সরকারের নতুন দায়িত্বে অভিনেত্রী



