PCOS new name PMOS | ‘পিসিওএস’ আর নয়, নতুন নাম ‘পিএমওএস’! হঠাৎ নাম বদলের সিদ্ধান্তে কী বদলাবে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা? জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/জেনিভা: বহুদিন ধরেই নারীদের মধ্যে পরিচিত একটি হরমোনজনিত সমস্যার নাম ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ বা ‘পিসিওএস’ (PCOS)। তবে এই নাম নিয়েই তৈরি হয়েছিল একাধিক ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরে বড় সিদ্ধান্ত, রোগটির নতুন নাম রাখা হল ‘পলিএন্ডোক্রিন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম’ বা ‘পিএমওএস’ (PMOS)। ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অফ এন্ডোক্রিনোলজি (European Congress of Endocrinology) -এর মঞ্চে এই নাম পরিবর্তনের ঘোষণা সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর তরফে জানানো হয়েছে, ‘পিসিওএস নামটি রোগটির প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়।’ এই কারণেই নতুন নামের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যাতে রোগটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা যায়।

 

ছবি : প্রতীকী

আরও পড়ুন : Sex : যৌন সম্পর্ক বিষয়ে আপনি সঠিক জানেন তো?

আরও পড়ুন : Soaked Raisins Benefits | রাতভর ভেজানো কিশমিশেই লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি! হজম থেকে ইমিউনিটি এক মুঠোতেই বহু উপকার

দীর্ঘদিন ধরে ‘পিসিওএস’ শব্দটির মধ্যে থাকা ‘সিস্ট’ অংশটি নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। অনেকেই ধরে নিতেন, এই রোগ মানেই ডিম্বাশয়ে অসংখ্য সিস্ট তৈরি হয়। কিন্তু চিকিৎসা-তথ্য বলছে, বিষয়টি ততটা সরল নয়। গবেষকদের বক্তব্য, ‘এই অবস্থায় সিস্ট থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে, এটি বাধ্যতামূলক নয়।’ ফলে নামের মধ্যেই যখন ‘পলিসিস্টিক’ শব্দটি রয়েছে, তখন তা বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছিল। এই রোগ মূলত হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে যুক্ত। শরীরের এন্ডোক্রিন সিস্টেমে পরিবর্তন ঘটলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে, ডিম্বস্ফোটন বাধাগ্রস্ত হয় এবং নানা শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ওজন বৃদ্ধি, ত্বকে ব্রণ, মুখে অতিরিক্ত লোম, চুল পড়া এমন নানা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল ‘সিস্ট’ শব্দটিকে ঘিরে। বহু নারী ভাবতেন, তাঁদের ডিম্বাশয়ে বড় আকারের সিস্ট তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি কেউ কেউ মনে করতেন, এতে ক্যানসারের আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা-তথ্য বলছে, এই ধারণা সঠিক নয়। ডিম্বাশয়ে যে ছোট ছোট গঠন তৈরি হয়, সেগুলি প্রকৃত সিস্ট নয়, বরং অপরিণত ফোলিকল বা ডিম্বাণুর মতো গঠন। এই ভুল ধারণার ফলে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। অনেকেই পরীক্ষা করে সিস্ট না পেলে ধরে নিতেন তাঁদের ‘পিসিওএস’ নেই। ফলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হত। আবার কেউ কেউ অযথা আতঙ্কে ভুগতেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলত।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন নাম ‘পিএমওএস’ রোগটির বিস্তৃত প্রভাবকে সামনে আনছে। ‘পলিএন্ডোক্রিন’ শব্দটি বোঝাচ্ছে, একাধিক হরমোনজনিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। ‘মেটাবলিক’ অংশটি ইঙ্গিত করছে শরীরের বিপাকক্রিয়ার উপর এর প্রভাব। আর ‘ওভারিয়ান’ অংশটি ডিম্বাশয়ের ভূমিকা নির্দেশ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘এই রোগ শুধু প্রজননতন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর প্রভাব ফেলে।’ যেমন ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যার ফলে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে হৃদ্‌রোগের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে। ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও এর প্রভাব পড়ে। এই নতুন নামকরণের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে রোগটিকে শুধুমাত্র ‘ডিম্বাশয়ের সমস্যা’ হিসেবে না দেখে, একটি সামগ্রিক হরমোন ও মেটাবলিক অবস্থার সমস্যা হিসেবে বোঝা প্রয়োজন। নারীদের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। কারণ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বর্তমানে বহু তরুণী ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী এই সমস্যায় ভুগছেন। জীবনযাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, নানা কারণে এই সমস্যা বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই নতুন নামের মাধ্যমে রোগটির সঠিক পরিচয় তুলে ধরা হলে, সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও নাম পরিবর্তনের ফলে তৎক্ষণাৎ বাস্তব চিত্র বদলাবে না, তবে দীর্ঘস্থায়ী এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চিকিৎসক মহলেও এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন নাম ‘পিএমওএস’ কত দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি পায় এবং তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Love, sex and Ancient India : প্রাচীন ভারতে প্রেম যৌনতায় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন