সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি: অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (Assam Assembly Election 2026) ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার ফলাফল এখন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটগণনার ট্রেন্ডে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের গেরুয়া প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোট একের পর এক আসনে এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। প্রথম দফার ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে, রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার ফের ক্ষমতায় আসার পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই ৭৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ১৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস (Indian National Congress) ২৭টি আসনে এগিয়ে থাকলেও সংখ্যার বিচারে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। অন্যান্য দল মিলিয়ে মাত্র ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
অসমের রাজনীতিতে গত এক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত দীর্ঘদিন কংগ্রেসের শাসন চললেও বিজেপির উত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সেই ধারা বজায় রেখেই এবারও বিজেপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এক্সিট পোলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, এনডিএ জোট ফের সরকার গঠন করতে পারে। বাস্তব ফলাফল সেই পূর্বাভাসের সঙ্গেই মিল খুঁজে পাচ্ছে। এই নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জালুকবাড়ি (Jalukbari Assembly Constituency)। এখান থেকে বিজেপি প্রার্থী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। গণনার ১৮ রাউন্ডের মধ্যে মাত্র ৬ রাউন্ড শেষ হতেই তিনি পেয়েছেন ৩৯,২১৪টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে প্রায় ২৪ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। জালুকবাড়ি কেন্দ্রে হিমন্তর এই লিড রাজনৈতিক মহলে বড় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ২০০১ সাল থেকে এই আসন তাঁর দখলেই রয়েছে।
ভোটগণনার ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ও শহুরে, দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির সমর্থন যথেষ্ট মজবুত। বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী শিবিরকে পিছনে ফেলে বিজেপি প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ (Gaurav Gogoi) জোরহাট (Jorhat) কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন ইস্যু যেমন উন্নয়ন, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্ন, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করা হয়। ভোটের ফলাফলে সেই প্রচারের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গণনাকেন্দ্রগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন মূল নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে। যদিও এখনও সব আসনের ফল ঘোষণা হয়নি, তবে বর্তমান ট্রেন্ড বিজেপির পক্ষে থাকায় সরকার গঠনের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠছে। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তাহলে অসমে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরাল। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৮৫ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। অন্যদিকে কংগ্রেসের জন্য সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ধরা হয়েছিল ২৪ থেকে ৪০। এখন পর্যন্ত গণনার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা সেই অনুমানের কাছাকাছি বলেই মনে করা হচ্ছে।
অসমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে নতুন মোড় নিতে চলেছে, তা এই ফলাফলের ট্রেন্ডেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভোটগণনার প্রতিটি আপডেট তাই রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ছবি : সংগৃহীত



