সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : টেলিভিশন (TV) সম্প্রচারে শালীনতা, সামাজিক ভারসাম্য ও আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার গত পাঁচ বছরে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাইভেট স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে মোট ১৪৪টি নিয়মভঙ্গের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে লোকসভায় জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ড. এল. মুরুগান (Dr. L. Murugan)। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) -এর প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। ভারতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলিকে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (রেগুলেশন) আইন, ১৯৯৫ (Cable Television Networks Regulation Act, 1995) -এর আওতায় তৈরি প্রোগ্রাম কোড (Programme Code) এবং অ্যাডভার্টাইজিং কোড (Advertising Code) মেনে চলতে হয়। এই কোড অনুযায়ী এমন কোনও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যাবে না, যাতে অশালীনতা থাকে, কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আঘাত থাকে, বা এমন কোনও বক্তব্য বা দৃশ্য থাকে যা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।

সরকারি সূত্রে খবর, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট চ্যানেলকে সতর্কীকরণ নোটিস, আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশও। পাঁচ বছরে মোট ৩৫টি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চ্যানেলকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ৫০টি ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ‘অ্যাপোলজি স্ক্রল’ বা ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে ৫৪টি ঘটনায় চ্যানেলগুলিকে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। এছাড়া তিনটি ক্ষেত্রে অফ-এয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্প্রচার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেত্রে ডিসক্লেমার প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ড. এল. মুরুগান (Dr. L. Murugan) জানান, ‘প্রোগ্রাম কোড এবং অ্যাডভার্টাইজিং কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমকে দায়িত্বশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য তিন স্তরের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। প্রথম স্তরে সম্প্রচারকারী সংস্থাই অভিযোগ গ্রহণ করে এবং তা নিষ্পত্তির চেষ্টা করে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ব্রডকাস্টারদের স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। তৃতীয় স্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নজরদারি ব্যবস্থা, যেখানে প্রয়োজন হলে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। প্রোগ্রাম কোড অনুযায়ী, এমন কোনও কনটেন্ট দেখানো যাবে না যা অশ্লীল, বা কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি অসম্মানজনক। একইভাবে, অ্যাডভার্টাইজিং কোডে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে অশালীন, অরুচিকর বা আপত্তিকর উপস্থাপন এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু টেলিভিশন নয়, অন্যান্য মাধ্যমেও নিয়ম মানা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (Press Council of India বা PCI) ‘নর্মস অফ জার্নালিস্টিক কন্ডাক্ট’ (Norms of Journalistic Conduct) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করেছে। এই নিয়ম ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র, সম্পাদক বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সতর্কতা বা ভর্ৎসনা করা হতে পারে। ডিজিটাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও ২০২১ সালের তথ্য প্রযুক্তি বিধি (Information Technology Rules, 2021) অনুযায়ী একটি নৈতিকতা বিধি চালু রয়েছে। সেখানে অনলাইন নিউজ এবং অন্যান্য কনটেন্ট প্রকাশকদের জন্যও তিন স্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কনটেন্টের পরিমাণ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ববোধের প্রয়োজনীয়তাও। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নজরদারি এবং নিয়ম প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা একেবারে কম নয়। তবে একই সঙ্গে এটি দেখায় যে, সরকার এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। বর্তমান সময়ে দর্শকদের একটি বড় অংশ টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে নির্ভরশীল। ফলে এই মাধ্যমগুলির মাধ্যমে প্রচারিত কনটেন্টের মান এবং সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রোগ্রাম কোড এবং অ্যাডভার্টাইজিং কোড মেনে চলা অত্যাবশ্যক। উল্লেখ্য, সরকারের এই পদক্ষেপগুলির ফলে সম্প্রচার মাধ্যমগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং দর্শকদের জন্য একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Nalanda University Convocation, Droupadi Murmu Speech Nalanda | নালন্দায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আহ্বান: জ্ঞান, বিতর্ক ও বৈশ্বিক সংযোগে নতুন রাস্তা খুলছে প্রাচীন ঐতিহ্যের আধুনিক পুনর্জাগরণ



