DGFT EODC India, export certificate approval | ডিজিএফটির বিশেষ অভিযানে রেকর্ড ইওডিসি মঞ্জুরি, রফতানিকারকদের বড় স্বস্তি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের রফতানি খাতে গতি আনতে বড় পদক্ষেপ নিল বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (Directorate General of Foreign Trade বা DGFT)। মার্চ ২০২৬ জুড়ে চালানো বিশেষ অভিযানে রেকর্ড সংখ্যক এক্সপোর্ট অবলিগেশন ডিসচার্জ সার্টিফিকেট বা ইওডিসি (Export Obligation Discharge Certificate বা EODC) মঞ্জুর হয়েছে। এর ফলে বহুদিন ধরে আটকে থাকা রফতানিকারকদের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ব্যবসার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডিজিএফটি (DGFT) -এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই সময়সীমাবদ্ধ অভিযান চালানো হয়। প্রতিদিন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠক করে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। এই ধারাবাহিক তৎপরতার ফলেই এক মাসে বিপুল সংখ্যক ইওডিসি অনুমোদন সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

ইওডিসি (EODC) রফতানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। এটি মূলত রফতানি সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা পূরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি (Bank Guarantee) এবং বন্ড (Bond) মুক্ত করা যায়। ফলে ব্যবসায়িক মূলধনের উপর চাপ কমে এবং সংস্থাগুলি নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ পায়।সরকারি সূত্রে খবর, মার্চ ২০২৬-এ মোট ১২,৬৯০টি ইওডিসি মঞ্জুর হয়েছে। এর তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩,৭৪৭। অর্থাৎ এক মাসে প্রায় ৩.৩৯ গুণ বৃদ্ধি হয়েছে। অ্যাডভান্স অথরাইজেশন (Advance Authorisation বা AA) স্কিমে ২৪২ শতাংশ এবং এক্সপোর্ট প্রোমোশন ক্যাপিটাল গুডস (Export Promotion Capital Goods বা EPCG) স্কিমে ২৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ফাইলের জট অনেকটাই কমেছে। মার্চ মাসে অ্যাডভান্স অথরাইজেশন (AA) স্কিমের ৫৯ শতাংশ এবং ইপিসিজি (EPCG) স্কিমের ৫৪ শতাংশ বকেয়া মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে রফতানিকারকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মার্চ মাসে অ্যাডভান্স অথরাইজেশন (AA) স্কিমে মোট ১৩,৬২৭টি মামলার মধ্যে ১৩,২৩৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ। একইভাবে ইপিসিজি (EPCG) স্কিমে ৮,৪৭৩টির মধ্যে ৮,২৮১টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান প্রশাসনিক দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরও একটি বিশেষ দিক হল, চলমান মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ১ মার্চ ২০২৬-এ যেখানে ১৫,৩৬০টি মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল, ১ এপ্রিল তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩,৯৬৬-এ। এর মধ্যে মার্চ মাসেই নতুন করে ৬,৭৪০টি মামলা যুক্ত হয়েছিল। তবুও মোট সংখ্যা ৭৪ শতাংশ কমে যাওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিজিএফটি (DGFT)-র এক আধিকারিক বলেন, ‘এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি এবং রফতানিকারকদের সমস্যার সমাধান করা। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছি।’ যদিও ভবিষ্যতেও এই গতি বজায় রাখা হবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

এই সাফল্যের পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিশেষ অভিযান আরও দু’মাস বাড়ানো হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালু থাকবে। ইতিমধ্যেই ৩০ মার্চ বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রফতানি খাতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ইওডিসি না পাওয়ার কারণে অনেক রফতানিকারক তাঁদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি মুক্ত করতে পারছিলেন না। ফলে তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছিল। এখন দ্রুত সার্টিফিকেট মঞ্জুর হওয়ায় সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ (Ease of Doing Business) উন্নত করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসা শুরু করা এবং পরিচালনা করা সহজ হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সহজ হয়। ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রফতানি খাত ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং দ্রুত পরিষেবা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিএফটি (DGFT)-র এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই উদ্যোগ সেই প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Oracle layoffs India, system lockout employees | ওরাকেলে গণছাঁটাই: ভারতে ১২ হাজার কর্মী চাকরি হারালেন, ‘সিস্টেম লক’ করে দিল সংস্থা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন