সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড- এর মধ্যে প্রায় ১,৯৫০ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য দুটি অত্যাধুনিক ‘মাউন্টেন রাডার’ (Mountain Radar) সংগ্রহ করা হবে, যা দেশের সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে। উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ ২০২৬, নতুন দিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিএইএল -এর শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই প্রকল্পটি ‘বাই (ইন্ডিয়ান-ইন্ডিজেনাসলি ডিজাইন্ড, ডেভেলপড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার্ড)’ (Buy Indian-IDDM) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একজন আধিকারিক জানান, ‘এই চুক্তি আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তাঁর মতে, দেশীয়ভাবে তৈরি এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিদেশি সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়বে। এই ‘মাউন্টেন রাডার’ সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত, যার নকশা ও উন্নয়ন করেছে ডিআরডিওর (Defence Research and Development Organisation বা DRDO) অধীন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড রাডার ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট (Electronics & Radar Development Establishment বা LRDE)। উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। ফলে গবেষণা থেকে উৎপাদন, পুরো প্রক্রিয়াটিই দেশীয় সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এই রাডারগুলির মূল বৈশিষ্ট্য হল, এগুলি বিশেষভাবে পার্বত্য অঞ্চলের জন্য তৈরি। পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ রাডার ব্যবস্থায় যে সীমাবদ্ধতা থাকে, তা কাটিয়ে উঠতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করতে এই রাডার কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই রাডারগুলি স্থাপন ও চালু হলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।’ বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে, যেখানে ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারবে। এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সহায়ক সরঞ্জাম এবং রাডার স্থাপনের সমস্ত ব্যবস্থা। ফলে এটি কেবল একটি সরঞ্জাম কেনার প্রকল্প নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা সমাধান হিসেবে গড়ে উঠছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতও নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের দিকে এগোচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তির উপর জোর দিয়ে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই চুক্তি দেশীয় শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়লে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও উন্নত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রকল্প দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি দেশেই তৈরি করা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের উপস্থিতি বাড়বে।
এছাড়া, এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশীয়ভাবে তৈরি আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে, যা অর্থনীতির জন্যও লাভজনক হবে। ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল। প্রসঙ্গত, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বিএইএল-এর এই যৌথ উদ্যোগ শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে একটি সুদৃঢ় পদক্ষেপ, যা দেশের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি




