Sasraya News Sunday’s Literature Special | 29th March 2026, Sunday, Issue 105 ★ সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার। সংখ্যা ১০৪

SHARE:

সম্পাদকীয় 

মানুষের ভেতরে অদ্ভুত দ্বৈততা কাজ করে। কোলাহল থেকে পালাতে চায়। অথচ নিঃস্তব্ধতার গভীরতায় গিয়েও নতুন কোলাহলের সম্মুখীন হয়। এই বৈপরীত্যই এই সময়ের অন্যতম বড় মানসিক বাস্তবতা। জনবহুল জীবনচর্চা, শহরের রাস্তাঘাট, যানজট, কাজের চাপ, প্রতিযোগিতা এসব নিয়ে আমরা প্রতিদিন এমন এক-একটি আবহের মধ্যে বাস করি, যা আমাদের ক্লান্ত করে তোলে। তাই স্বাভাবিকভাবেই খোঁজ নির্জনতার, খোঁজ নীরবতার আশ্রয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই নীরবতা কী সত্যিই শান্তি দেয়? নাকি সেখানে অন্য অস্থিরতা জন্ম নেয়? আসলে কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। সভ্যতার ইতিহাস জুড়েই মানুষ বারবার প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চেয়েছে, নিরিবিলি পরিবেশে নিজেকে খুঁজে নিতে চেয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুগে এই চাওয়াটা যেন আরও তীব্র হয়েছে। প্রযুক্তির নিরন্তর উপস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাডিকশন, কাজের অমানবিক চাপ, এ সমস্তই মানুষ যেন একটি অদৃশ্য শব্দের জালে আটকে পড়েছে। এই শব্দ শুধু বাহ্যিক নয়, এটি মনের ভেতরেও প্রতিধ্বনিও তোলে।

তাই যখন কেউ এই কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়, তখন প্রথমে মনে হয় সে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই সে বুঝতে পারে, নিঃস্তব্ধতারও নিজস্ব শব্দ আছে, ধ্বনি আছে, তা হল নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বর। এই কণ্ঠস্বর কখনও প্রশ্ন করে, কখনও অতীতের স্মৃতি টেনে আনে, কখনও ভবিষ্যতের উদ্বেগ তৈরি করে। ফলে বাহ্যিক শব্দ থেকে মুক্তি পেলেও, অন্তরের অস্থিরতা তাকে ছেড়ে যায় না। অনেক সময় সেই নীরবতায় তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে।  শান্তি বাইরের পরিবেশে নয়, তা মানুষের নিজের ভেতরেই থাকে। কোলাহল এড়িয়ে নির্জনতা খোঁজা একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু সেটিই চূড়ান্ত সমাধান নয়। যদি মনের ভেতর অস্থিরতা থেকে যায়, তবে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়েও মানুষ অশান্ত থাকবে। আবার, যদি মনের ভেতর শান্তি থাকে, তবে ব্যস্ততার মাঝেও এক ধরনের স্থিরতা অনুভব করতে পারে।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আমরা বাহ্যিক সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের ভেতরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছি। এই অবস্থায় কোলাহল থেকে পালানো যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি নিজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। ধ্যান, পাঠ, সৃজনশীল কাজ কিংবা নিছক নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, এইসব অভ্যাস মানুষকে তার ভেতরের কোলাহলকে চিনতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। এখানেই আসে বাঁচার স্বার্থকতার প্রশ্ন। মানুষ শুধুই বেঁচে থাকতে চায় না, চায় অর্থপূর্ণভাবেই বাঁচতে। আর সেই অর্থপূর্ণতার সন্ধান মেলে তখনই, যখন সে নিজের ভেতরের শান্তিকে খুঁজে পায়। আবার এই শান্তি কোনও বাহ্যিক অর্জন নয়, এটি অন্তর্মুখী যাত্রার ফল। কোলাহল থেকে দূরে সরে যাওয়া সেই যাত্রার প্রথম ধাপ হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে পৌঁছতে হয় নিজের গভীরতম স্থানে।

কোলাহল ও নিঃস্তব্ধতার এই দ্বন্দ্ব আসলে মানুষের আত্মঅন্বেষণেরই প্রতিচ্ছবি। আমরা যতই বাইরের শব্দ থেকে পালাতে চাই না কেন, আমাদের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হল নিজের ভেতরের শব্দকে বোঝা এবং তাকে সুরে বাঁধা। কারণ, জীবনের প্রকৃত শান্তি কোনও নির্দিষ্ট স্থানে নয়, তা লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজের মনেই। আর সেই মনকে যদি আমরা সঠিকভাবে চিনতে ও গড়ে তুলতে পারি, তবেই বাঁচার স্বার্থকতা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করা সম্ভব।🍁

 

 

🍂মহামিলনের কথা

শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ
নামকারী ধার্ম্মিকগণের চেয়ে উচ্চগতি লাভ করেন কি করে?

মানবের পুরুষার্থ চতুষ্টয়— ধর্ম্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ। ধার্ম্মিকগণ ধর্ম্ম আচরণের দ্বারা পুণ্যলাভ করে স্বর্গলোক প্রাপ্ত হন। সে স্বর্গেরও তারতম্য আছে। উত্তম পুণ্যের দ্বারা উত্তম স্বর্গ, মধ্যম পুণ্যের দ্বারা মধ্যম স্বর্গ ও অধম পুণ্যের দ্বারা অধম স্বর্গ লাভ হয়। তারপর পুণ্যক্ষয় হলে আবার মর্ত্ত্যে এসে জন্ম-জন্মান্তর দুঃখ ভোগ করতে থাকেন। কিন্তু নামকারী নাম করতে করতে পাপ-পুণ্য দুটিকে বলিদান দেন। অবিরাম নাম শুনে ক্ষেপীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। ভিতরকার আলো করে ক্ষেপী অনূক্ষণ নৃত্য করতে থাকে। নামকারী অবশ হয়ে ক্ষেপীর গান শুনতে থাকে। ক্ষেপীর অত্যুজ্জ্বল অঙ্গজ্যোতিতে নামকারী দেবজান-পথ দেখতে পান। যাবার সময় ব্রহ্মরন্ধ্র দ্বারে খোলস ফেলে সেই মুক্তপুরুষ দেবযানে দেবতাগণ কর্ত্তৃক পূজিত হতে হতে একেবারে বৈকুণ্ঠে শ্রীভগবানের চরণতলে উপস্থিত হন। ঠাকুরটি তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন।কাজে কাজেই ধার্ম্মিকের গতি ও নামকারী-ভক্তের গতি এক নয়।

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব। ছবি : সংগৃহীত।  

তাহলে, নাম করে শক্তির জাগরণ হলে ভক্ত নিশ্চিন্ত হয়ে যান?

হাঁ। তারপর সব আপনা আপনি হয়।

শুদ্ধ ভক্ত কাকে বলে?

যাঁরা কেবল মাত্র শ্রবণ-কীর্ত্তনরত তাঁরাই শুদ্ধ ভক্ত।

যিনি সর্ব্বদা প্রেমের সহিত হরিলীলা শ্রবণ কীর্ত্তন করেন,তিনিই মহাভাগবত ও উত্তম লোকপাবন তরণ তারণ মহাপুরুষ।

শ্রবণ-কীর্ত্তনজাতা ভক্তির নাম কি?

প্রেমময়ী।

বিষয়ভোগ ও অন্য সঙ্গত্যাগ পূর্ব্বক সৎসঙ্গে হরিলীলা সতত শ্রবণ কীর্ত্তনে সমুৎপন্না প্রেমময়ী ভক্তি অত্যুত্তমা।

যোগী অষ্টাঙ্গ যোগের দ্বারা যে অনুভূতি লাভ করেন, ভক্তমাত্র শ্রবণ, কীর্ত্তনের দ্বারা তা লাভ করে?

যোগীর ভেদ আছে। যাঁরা অসম্প্রজ্ঞাত সমাধি লাভের জন্য ঈশ্বর প্রণিধান করেন, শ্রীভগবান তাঁদের তাই দেন। আর যাঁরা তাঁকে লাভ করবার জন্য অষ্টাঙ্গযোগ করেন, প্রেমময় ঠাকুরটি তাঁদের আত্মসাৎ করেন। তাঁরা প্রেমময় হয়ে যান। এবং মাত্র শ্রবণ কীর্ত্তন দ্বারা ও সাত্ত্বিকী অনুভূতি সকল লাভ করত প্রেমময়ী ভক্তি প্রাপ্ত হয়ে হরির নিজ জন হন।

তাহলে যে নাম করে সেই ক্রমে পরম প্রেমযোগী হয়ে যায়?

হাঁ, উচ্চৈঃস্বরে বৈখরীতে নামকারী কীর্ত্তনযোগী, মধ্যমায় মন্ত্র জপকারী মন্ত্রযোগী; জপ করতে করতে জ্যোতি আবির্ভাব হলেই জ্যোতি ধ্যানকারী হঠযোগী; তারপর নাদবিন্দু এলেই লয়যোগী; তারপর যাঁরা নির্ব্বাণ চান তাঁরা নাদ অবলম্বনেই রাজযোগী হয়ে যান। যাঁরা প্রেমময় ঠাকুরটিকে চান,ঠাকুরটি তখন জ্যোতির ভেতর থেকে বাঁশী বাজাতে বাজাতে এসে তাদের বুকে তুলে নেন। তিনি প্রেমযোগী।

আচ্ছা, জ্যোতির ভিতর কি ঠিক এই রকম, মানুষ যেমন মানুষকে দেখে এরূপ ভগবানকে দেখা যায়? তিনি কথা কন?

হাঁ,দেখা যায়। কথা কন।

তা কি কল্পনা করতে হয়?

না! সে ভূমি আতিমানসী। মনের সেখানে গতি নাই। তিনি স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে দর্শন দেন, বর দেন।

আবার জিজ্ঞাসা করি— কেবল যারা নাম নিয়ে থাকে, তাদের দর্শন দেন?

আমিও প্রতিজ্ঞা করে বলছি দর্শন দেন— দেন— দেন।

নাম কর—

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥🍁

শ্রীশ্রীনামামৃত লহরীশ্রী | ওঙ্কারনাথ-রচনাবলী  (বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত) 

 

 

 

🍂বিশেষ গদ্য 

 

চ্যাপলিনের অধিকাংশ ছবিতে নারী চরিত্রগুলো তুলনামূলকভাবে একমাত্রিক, তারা হয় প্রেমের অবলম্বন, নয়ত সহানুভূতির প্রতীক। তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্রতা বা জটিলতা খুব কমই দেখা যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তৎকালীন সমাজের প্রতিফলন হলেও, আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সীমাবদ্ধ বলে মনে হতে পারে। চ্যাপলিনের কমেডির ধরন নিয়েও মতভেদ রয়েছে। শারীরিক কৌতুক বা স্ল্যাপস্টিক কমেডি তাঁর সিনেমার প্রধান উপাদান। তবে কিছু সমালোচকের মতে, এই ধরনের কৌতুক অনেক সময় অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।

 

হাসির আড়ালের সমাজ : চার্লি চ্যাপলিনের সিনেমা ও যুগান্তকারী প্রভাব

চার্লি চ্যাপলিন। ছবি: সংগৃহীত

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের কাজ সময়কে অতিক্রম করে চিরকাল প্রাসঙ্গিক থেকে যায়। নিঃসন্দেহে চার্লি চ্যাপলিন (Charlie Chaplin) তাঁদের অন্যতম। নির্বাক যুগের এই কিংবদন্তী শিল্পী কেবল হাসির রসদ জুগিয়েছেন, এমন ভাবলে ভুল হবে। তাঁর সিনেমা ছিল তৎকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মানবিক সঙ্কটের গভীর প্রতিফলন। তাঁর সৃষ্ট কালজয়ী ‘দ্য ট্র্যাম্প’ চরিত্রটি এখনও বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, কারণ সেটির ছিল সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার নীরব। আসলে ১৮৮৯ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া চ্যাপলিনের শৈশব ছিল দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় ভরা। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, বেকারত্ব, ক্ষুধা ও সামাজিক অবহেলার বিষয়গুলি তিনি এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা দর্শকদের হাসিয়েছে, আবার ভাবতেও বাধ্য করেছে। একইভাবে হাসির আড়ালে গভীরভাবে কান্নাও এসেছে।

চ্যাপলিনের প্রভাব কেবল তাঁর সময়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তাঁর কাজ থেকে প্রভাবিত হয়েছেন। ভারতীয় সিনেমাতেও তাঁর ছাপ দেখা যায়। রাজ কাপুরের ‘শ্রী ৪২০’ বা ‘আওয়ারা’ ছবিতে চ্যাপলিনের ‘ট্র্যাম্প’ চরিত্রের অনুপ্রেরণায় তৈরি চরিত্রের ছায়া লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে বিশ্বজুড়ে বহু কমেডিয়ান তাঁর স্টাইল অনুসরণ করেছেন।

চ্যাপলিনের সিনেমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তাঁর নিঃশব্দ অভিনয়। নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগে সংলাপের অভাব পূরণ করত তাঁর শরীরী ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি এবং নিখুঁত টাইমিং। ‘দ্য কিড’ (১৯২১), ‘দ্য গোল্ড রাশ’ (১৯২৫), ‘সিটি লাইটস’ (১৯৩১), ‘মডার্ন টাইমস’ (১৯৩৬) এবং ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ (১৯৪০) ইত্যাদি প্রতিটি ছবিই কেবল বিনোদনের জন্যই নয়, একইভাবে সামাজিক বার্তা বহন করেছে। ‘মডার্ন টাইমস’ ছবিতে শিল্পায়নের ফলে শ্রমিকদের উপর যান্ত্রিক জীবনের চাপকে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন। কারখানার বেল্টে কাজ করতে করতে মানুষ যেন যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, এই চিত্রায়ণ তখনকার দ্রুত শিল্পায়নের যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্য ছিল। অন্যদিকে, ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবিতে অ্যাডলফ হিটলারের একনায়কতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করে চ্যাপলিন সাহসী রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছিলেন। এই ছবির শেষ বক্তৃতা আজও মানবতার পক্ষে অন্যতম শক্তিশালী আহ্বান হিসেবে বিবেচিত। ভুলে গেলে চলবে না যে, চ্যাপলিনের সিনেমা তৎকালীন অর্থনৈতিক মন্দা, বিশেষ করে ১৯৩০ -এর মহামন্দার প্রভাবও তুলে ধরেছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য যে সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে আঘাত হেনেছিল, তা তাঁর ছবিতে ফুটে উঠেছে অত্যন্ত বাস্তবধর্মী ভঙ্গিতে। ফলে দর্শকরা নিজেদের জীবনের প্রতিফলন দেখতে পেতেন চ্যাপলিনের কাজের মধ্যে।

চার্লি চ্যাপলিনের ‘ট্র্যাম্প’ চরিত্রটি ছিল ভবঘুরের, যার নেই কোনও স্থায়ী ঠিকানা, নেই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কিন্তু আছে মানবিকতা ও ভালবাসা। এই চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ এটি সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করত। চ্যাপলিন দেখিয়েছেন, দারিদ্র্য মানুষকে ছোট করে না; কিন্তু মানুষের ভেতরের মানবিক গুণই তাকে বড় করে তোলে। চ্যাপলিনের কাজ কেবল সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি ছিলেন একজন সমাজসচেতন শিল্পী। তাঁর সিনেমায় রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, সামাজিক অসাম্য এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন বারবার উঠে এসেছে। সে সময় হলিউডে এমন সাহসী বক্তব্য খুব একটা দেখা যেত না। ফলে তিনি অনেক সময় বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন, বিশেষ করে আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের কৌশলও ছিল অভিনব। তিনি নিজেই অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনা এবং সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। এই বহুমুখী প্রতিভা অন্যদের থেকে তাঁকে আলাদা করেছে। তাঁর সিনেমায় হাস্যরসের সঙ্গে আবেগের মিশেল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। আবার চ্যাপলিনের প্রভাব কেবল তাঁর সময়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তাঁর কাজ থেকে প্রভাবিত হয়েছেন। ভারতীয় সিনেমাতেও তাঁর ছাপ দেখা যায়। রাজ কাপুরের ‘শ্রী ৪২০’ বা ‘আওয়ারা’ ছবিতে চ্যাপলিনের ‘ট্র্যাম্প’ চরিত্রের অনুপ্রেরণায় তৈরি চরিত্রের ছায়া লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে বিশ্বজুড়ে বহু কমেডিয়ান তাঁর স্টাইল অনুসরণ করেছেন।

চ্যাপলিনের সিনেমা মানুষের হাসির সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। ওঁ-দেখিয়েছেন, কমেডি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজকে প্রশ্ন করার শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। তাঁর কাজ প্রমাণ করে, শিল্প যদি মানুষের জীবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, তবে সেটি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরন্তন হয়ে ওঠে। এই ডিজিটাল যুগেও চ্যাপলিনের সিনেমা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রযুক্তি বদলেছে, সিনেমার ধরন বদলেছে, কিন্তু মানুষের অনুভূতি, সমাজের বৈষম্য ও জীবনের সংগ্রাম একই রয়ে গিয়েছে। তাই তাঁর সিনেমা এখনও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য। চার্লি চ্যাপলিন কেবল একজন অভিনেতা বা পরিচালক নন, তিনি ছিলেন একটি যুগের কণ্ঠস্বর। তাঁর সিনেমা আমাদের শেখায়, হাসির আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর সত্য, যা সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তেমনি চার্লি চ্যাপলিনের সিনেমা নিয়ে আলোচনা হলেই সাধারণত তাঁর মানবিকতা, হাস্যরস এবং সামাজিক বক্তব্যের কথা উঠে আসে। কিন্তু এই বিপুল জনপ্রিয়তা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি তাঁর কাজকে ঘিরে নানা সমালোচনাও রয়েছে। যা চলচ্চিত্র বিশ্লেষণে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সিনেমা প্রশংসার পাশাপাশি নিহিত সীমাবদ্ধতা, যুগগত প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আগেই বলা হয়েছে, চ্যাপলিনের অন্যতম শক্তি ছিল ‘দ্য ট্র্যাম্প’ চরিত্র, যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু এই চরিত্রের পুনরাবৃত্তি নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। বহু সমালোচকের মতে, একই ধরনের চরিত্র ও পরিস্থিতির পুনর্ব্যবহার তাঁর সৃষ্টিকে একসময় পূর্বানুমেয় করে তোলে। দর্শকরা জানতেন, একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে হাস্যরস, আবেগ এবং শেষ পর্যন্ত মানবিকতার জয় দেখানো হবে। ফলে তাঁর চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সেই সময়ে ও পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়া, চ্যাপলিনের সিনেমায় দারিদ্র্য ও প্রান্তিক জীবনের যে উপস্থাপন, তা অনেক সময় রোমান্টিক করে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাস্তব জীবনে দারিদ্র্য যে কতটা কঠোর ও নির্মম, তা চ্যাপলিনের ছবিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি, এমন মত অনেক গবেষকের। ‘দ্য গোল্ড রাশ’ বা ‘সিটি লাইটস’ -এ আমরা দেখি, দারিদ্র্যের মধ্যেও এক ধরনের কৌতুক ও সৌন্দর্য আছে। কিন্তু এই উপস্থাপন সমাজের কঠিন বাস্তবতাকে আংশিকভাবে আড়াল করে দেয় কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যায়! আবার, রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও চ্যাপলিন বিতর্কের বাইরে ছিলেন না। ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবিতে তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, নিঃসন্দেহে যা সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। শীতল যুদ্ধের সময়ে তাঁকে ‘কমিউনিস্ট সহানুভূতিশীল’ বলে অভিযুক্ত করা হয়, এবং এর ফলে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে যে, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান কী তাঁর শিল্পকে প্রভাবিত করে, নাকি সেটিকে ভিন্নভাবে বিচার করা উচিৎ?

একইভাবে চ্যাপলিনের চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। অনেক সমালোচকের কথায়, তিনি প্রায় সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন : অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য, এমনকী সঙ্গীতও। এই একক নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় তাঁর কাজকে অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলেছিল বলে মত রয়েছে। ফলে অন্য সৃষ্টিশীল মতামতের অভাব তাঁর চলচ্চিত্রের পরিসরকে সীমিত করেছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনার জায়গা হল তাঁর নারী চরিত্রের উপস্থাপন। চ্যাপলিনের অধিকাংশ ছবিতে নারী চরিত্রগুলো তুলনামূলকভাবে একমাত্রিক, তারা হয় প্রেমের অবলম্বন, নয়ত সহানুভূতির প্রতীক। তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্রতা বা জটিলতা খুব কমই দেখা যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তৎকালীন সমাজের প্রতিফলন হলেও, আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সীমাবদ্ধ বলে মনে হতে পারে। চ্যাপলিনের কমেডির ধরন নিয়েও মতভেদ রয়েছে। শারীরিক কৌতুক বা স্ল্যাপস্টিক কমেডি তাঁর সিনেমার প্রধান উপাদান। তবে কিছু সমালোচকের মতে, এই ধরনের কৌতুক অনেক সময় অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। যদিও এই স্টাইলই তাঁকে জনপ্রিয় করেছে, তবুও এটি চলচ্চিত্রকে গভীরতর বাস্তবতার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিনা, সেই প্রশ্নও উঠে আসে।

নির্বাক যুগ থেকে সবাক যুগে রূপান্তরের সময়েও চ্যাপলিনের অবস্থান ছিল কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। যখন হলিউডে সবাক সিনেমার উত্থান ঘটছে, তখনও তিনি নির্বাক ফর্ম্যাটে কাজ চালিয়ে যান। ‘সিটি লাইটস’ এবং ‘মডার্ন টাইমস’-এ তিনি সংলাপের ব্যবহার সীমিত রেখেছিলেন। এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ শিল্পগত দৃঢ়তা হিসেবে দেখেন, আবার অন্যদের মতে, এটি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে অনীহার পরিচায়ক। চ্যাপলিনের ব্যক্তিগত জীবনও তাঁর জনমুখী ইমেজকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর একাধিক বিবাহ, কমবয়সী নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইনি জটিলতা তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করেছিল। যদিও এগুলো সরাসরি তাঁর সিনেমার অংশ নয়, তবুও তাঁর কাজের মূল্যায়নে এই বিষয়গুলো প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এসব সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয় সমালোচকরা অস্বীকার করেন না, চ্যাপলিন তাঁর সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করেছেন। তাঁর সিনেমা সেই সময়ের প্রযুক্তি, সামাজিক মানসিকতা এবং দর্শকের চাহিদার প্রতিফলন। ফলে আধুনিক মানদণ্ডে বিচার করলে কিছু সীমাবদ্ধতা চোখে পড়লেও, তাঁর কাজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমে না। আবার চ্যাপলিনের সিনেমাকে একমাত্রিকভাবে দেখা সম্ভব নয়। তাঁর কাজ যেমন মানবিকতা ও সামাজিক বার্তার জন্য প্রশংসিত, তেমনি তা সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছে। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর চলচ্চিত্রকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে এবং তাঁকে শুধু একজন কমেডিয়ান নয়, একজন জটিল ও বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।🍁

 

 

 

🍂ধারাবাহিক পন্যাস /১ 
কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।

শব্দদের রাত্রি হয়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

কণ্ঠের ভিতর ফাগুন

২৩. 

লেজের প্রাঙ্গণটা দুপুরের রোদে ধুয়ে যাচ্ছিল এমন এক আলোর ভিতর, যা কেবল দৃশ্যকে নয়, সময়কেও উন্মোচিত করে। অনির্বচনীয় আলো এসে পড়ছে গাছেদের গায়ে। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে সবকিছু। ইউক্যালিপটাস গাছের ডাকে একটা ব্যানার ঝুলছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের। তার উপর গনগনে দুপুরের আঁচ। অক্ষরগুলো তাপে সেদ্ধ হয়ে গেছে। পুরনো লাল ইটের ভবনের গায়ে রোদ এসে পড়েছে তির্যকভাবে; কোথাও ঝলসে ওঠা উজ্জ্বলতা, কোথাও নরম ছায়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, স্থাপত্যের গায়ে আলো নয়, বয়স লেগে আছে। করিডোরের ফাঁক দিয়ে বাতাস ঢুকে আবার বেরিয়ে যাচ্ছে, যেন এই স্থান নিজেই শ্বাস নিচ্ছে বহুদিন ধরে। শব্দে ভরা ছিল চারপাশ। অকারণ হাসি, হালকা তর্ক, তাড়াহুড়োর পদধ্বনি, কারও ফোনে বাজতে থাকা জনপ্রিয় গান, কারও পড়ার চাপা উচ্চারণ। এই বয়সের ভিড়ে প্রতিটি অনুভূতিই একটু বাড়তি তীক্ষ্ণ, লজ্জা, উত্তেজনা, অহংকার, অনিশ্চয়তা, সবকিছুই যেন অল্প উঁচু ভলিউমে বাজে।একটা গান বাজছিল দূরের মাইকে। তার রেশও ভেসে আসছিল ঈষৎ গরম হাওয়ায়। গানটার সুর স্পষ্ট শোনা না গেলেও তার মর্মের স্পর্শ এসে লাগছিল কানে- আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে এত বাঁশি বাজে এত পাখি গায় আজি এ বসন্তে…। এই বসন্তে এত রোদ আসে কোথা থেকে। অনীক ভাবছিল এসব সাতপাঁচ। আর তো কয়েকটা বছর এর মধ্যেই ঠিক করে নিতে হবে জীবনের গতিপথ। ভবিষ্যৎ খুব সুরক্ষিত নয় সে জানে। দিন বদলেছে, মার্কস বেড়েছে, চাকরির সুযোগ কমেছে। মেধাবী ছেলেমেয়েরা সবাই পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। ডলারের শব্দে ভরে উঠছে বিলাসী বাতাস। সে কি এই দেশ এই মাটি ছেড়ে দূরে কোথাও যেতে পারবে। ইচ্ছে করে না তার। বন্ধুরা বলে- সারা জীবন মায়ের কোলেই থাক। তোকে আর বড় হতে হয় না। মা শব্দটি তাকে আঁকড়ে রাখে। সে যেন ওম পায় বাতাসে। নিজের মনেই হেসে ওঠে সে- একটা পাখির বাচ্চা আকাশে উড়তে শিখলেই বড় হয়ে যায়, তখন তার আর মা লাগে না। অথচ মানুষের বাচ্চা সে কখনও বড় হয় না।

‘প্রাঙ্গণ মোর শিরিষশাখায় ফাগুন মাসে কী উচ্ছ্বাসে’… গানটা আমাকে শোনাবে?”
গানটার নাম শুনেই অনীকের বুকের ভেতর অচেনা কম্পন উঠল। এই গান তার ব্যক্তিগত অঞ্চল। শৈশবের স্মৃতি, মায়ের কণ্ঠ, একাকী রাত, সব মিশে আছে সেখানে।
সে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

অনীক সিঁড়ির ধাপে বসেছিল। বসা নয়, যেন স্থির হয়ে থাকা। তার হাতে গিটার নেই, তবু আঙুলগুলো অচেতন অভ্যাসে অদৃশ্য তার ছুঁয়ে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে সে নিজেই খেয়াল করে, তার শরীর যেন আলাদা করে কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন বোধ করে না; সুর যেন ভেতরেই অনবরত গঠিত হচ্ছে। কয়েকজন বন্ধু তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে। তাদের চোখে অনীকের জন্য একরকম কৌতূহল ও গোপন গর্ব, যেন তারা এমন একজনের সান্নিধ্যে আছে, যার দিকে অন্যরা তাকায়। বন্ধুরা গর্ব করে বলে- অনীক আমাদের বন্ধু। এই জন্য অনীকের আত্মগর্ব যে নেই তা নয়। সে তা আড়াল করে রাখে। আসলে যা আড়ালে থাকে তাই সুন্দর, তাই শোভন। সৌরভ বলছিল উত্তেজিত কণ্ঠে, “তুই ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নিচ্ছিস না কেন বুঝি না। কালকে তোর ভিডিও তিরিশ হাজার ভিউ! কত মানুষ যে তোর ফ্যান হয়ে গেছে তুই নিজেই জানিস না”
অনীক মাথা তুলল না। “সংখ্যা দিয়ে কি কিছু বোঝা যায়?”
“সবই বোঝা যায়। মানুষ তো দেখছে!”
“দেখা আর শোনা এক জিনিস নয়।”
“তুইও অনেক কিছু বুঝিস না অনীক, কত মেয়ে যে তোর প্রেমে পাগল, রাতের স্বপ্নে অনীক অনীক করে চেঁচিয়ে ওঠে…”
কথাটা শেষ করার আগেই বন্ধুরা হো হো করে হেসে উঠল। তারা অভ্যস্ত এই ধরনের কথায়। অনীকের ভেতরে একধরনের দূরত্ব আছে। অহংকার নয়, আবার সম্পূর্ণ বিনয়ও নয়। যেন সে প্রশংসাকে সন্দেহ করে, কিন্তু প্রত্যাখ্যানও করে না। তার মানে এই নয় যে ভালো লাগা তাকে জড়িয়ে ধরে না। কিন্তু সে তাতে ডুবে যেতে ভয় পায়। জানে ভালোবাসা ছাড়া একজন শিল্পীর পাওয়ার তো আর কিছু নেই। এর জন্যই তো সাধনা। একটি সুর শুনে মানুষের চোখ থেকে যদি জল ঝরে তাহলেই তার শিল্পীজীবন সার্থক। কত মানুষ কত বড় বড় চাকরি করে, অনেক টাকা কামায়, বিলাসবহুল জীবনযাপন করে কিন্তু তাদের কোনো সৃষ্টি কি চোখে জল এনে দিতে পারে? আবেগের অশ্রু? আনন্দের অশ্রু? এখানেই শিল্পীরা সবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে দ্বিতীয় ঈশ্বর।

গত কয়েক সপ্তাহে ঘটনাগুলো এমনভাবে ঘটেছে যে, অনীক নিজেও ঠিক ধরতে পারেনি কোথা থেকে শুরু। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম গান, তখন কেউ বিশেষ মন দেয়নি। দ্বিতীয়বার গাওয়ার সময় কয়েকজন ভিডিও করল। তারপর হঠাৎ একদিন সে দেখে, সোশাল মিডিয়ায় নিজের মুখ। নিজের কণ্ঠ। অচেনা মানুষের মন্তব্য।
“অসাধারণ কণ্ঠ!” “মন ছুঁয়ে গেল।” “আরও গান চাই।”
প্রথমে অস্বস্তি হয়েছিল। নিজের কণ্ঠকে বাইরে থেকে শুনতে সবসময়ই তার অদ্ভুত লাগে। যেন নিজের ভিতরকার গোপন অঞ্চল হঠাৎ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে দেখল, এই মনোযোগ তাকে না টানে, না দূরে ঠেলে দেয়। একধরনের নির্লিপ্ত স্বীকৃতি।
গান তার কাছে প্রকাশ নয়– আশ্রয়।
উপস্থাপনা নয়– বেঁচে থাকার ভঙ্গি।
সেদিন দুপুরে হঠাৎ প্রাঙ্গণের মাঝখানে ছোট্ট ভিড় জমল। কেউ গিটার এনে দিল হাতে।
“এই যে অনীক, একটা গান!”
অনীক এক মুহূর্ত গিটারটার দিকে তাকিয়ে রইল। অনিচ্ছুক নয়, আবার আগ্রহীও নয়। যেন সে জানে, এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, আবার এটাকে গুরুত্ব দেওয়াও তার স্বভাবে নেই।
সে বসে পড়ল।
প্রথম ঝংকারেই চারপাশের শব্দ বদলে গেল। কোলাহল পুরোপুরি থামেনি, কিন্তু দূরে সরে গিয়েছে। ক’য়েকটি মুখ ঘুরে এল। কেউ দাঁড়িয়ে রইল, কেউ ভিডিও চালু করল।
অনীকের গলা যখন উঠল, প্রাঙ্গণের বাতাসে একধরনের নরম দোল তৈরি হল। তার কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত সংযম, আবেগ আছে, কিন্তু প্রদর্শন নেই। যেন প্রতিটি শব্দ সে নিজের ভেতর থেকে তুলে আনছে, বাইরের জন্য নয়।

গান শেষ হলে হাততালি পড়ল। কেউ শিস দিল। কেউ বলল, “দারুণ!”
এইসবের মাঝেই সে প্রথম তিতাসকে দেখল। তিতাস ভিড়ের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে সেই সাধারণ উচ্ছ্বাস নেই। সে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যেন গান শুনছে না, শুনে যাচাই করছে। বিশ্লেষণ করছে। অনীকের কণ্ঠে ঠিক কোন জায়গায় দাগ কেটে যাচ্ছে, সেটাকে ধরার চেষ্টা। অনীক অদ্ভুতভাবে চোখ সরাতে পারল না। পরদিন লাইব্রেরির সামনে হালকা বাতাস। ছায়া কাঁপছে মাটিতে। অনীক একা দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছিল, পড়া নয়, অভ্যাসগত মনোযোগ। তিতাস এগিয়ে এল- “তুমি অনীক, তাই না?” কণ্ঠে কোনও সংকোচ নেই। কোনও অতিরিক্ত সৌজন্যও না। শুধু স্বাভাবিকতা।
অনীক তাকাল। “হ্যাঁ।”
“আমি তিতাস।” নামটা উচ্চারণের ভেতরেই ছিল অদ্ভুত স্থিরতা।
“একটা অনুরোধ করব?”
অনীক অল্প হাসল- “কী?”
‘প্রাঙ্গণ মোর শিরিষশাখায় ফাগুন মাসে কী উচ্ছ্বাসে’… গানটা আমাকে শোনাবে?”
গানটার নাম শুনেই অনীকের বুকের ভেতর অচেনা কম্পন উঠল। এই গান তার ব্যক্তিগত অঞ্চল। শৈশবের স্মৃতি, মায়ের কণ্ঠ, একাকী রাত, সব মিশে আছে সেখানে।
সে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
“এই গানটা তুমি কেন শুনতে চাও?”
তিতাস উত্তর খুঁজল না। সরাসরি বলল, “এই গান শুনলে মনে হয় ভিতরের কিছু খুলে যায়।”
অনীক চুপ করে গেল। এই বাক্যটা তার নিজের অনুভূতির অদ্ভুত প্রতিধ্বনি।
সেদিন বিকেলে শিরিষ গাছের নিচে বসে সে গান গাইল। বিকেলের আলোতে শব্দগুলো আরও নরম হয়ে উঠল। তিতাস শুনছিল গভীর মনোযোগে, শ্রোতার মতো নয়, অংশগ্রহণকারীর মতো।
গান শেষে সে বলল, “তোমার গলায় একটা অদ্ভুত বিষাদ আছে।”
অনীক হেসে বলল, “সব আনন্দের ভিতরেই বিষাদ থাকে।”
সেদিন খুব বেশি কথা হয়নি। তবু দুজনেই বুঝেছিল, এই নীরবতা শূন্য নয়। 🍁 (ক্রমশঃ)

 

 

🍂কবিতা 

 

মইনুল হাসান -এর দু’টি কবিতা

উন্নয়নের নামে… 

রাস্তা চওড়া হয়েছে আলোও জ্বলছে সারারাত
অন্ধকার কাটেনি শুধু মানুষের ভেতর।

উঁচু দালান
মাথা
তুলে
দাঁড়ায়
তার নিচে চাপা পড়ে থাকে অনেক গল্প।

ব্যানারে ভাসছে উন্নয়নের ছবি
বাস্তবে ভাঙা ঘর, ভাঙা স্বপ্ন।

কাগজে সব ঠিকঠাক লেখা
মাটিতে তাকালে হিসেব মেলে না কিছুই।

লোকেরা বলে, দেশ এগোচ্ছে দ্রুত–
আমি দেখি, মানুষ পিছিয়ে পড়ে।
এই অদ্ভুত সময়ের ভেতর
সত্যিটা কোথায় হারিয়ে গেল?

 

 

বোধির শ্রমিক

সে ভোর হওয়ার আগেই বেরিয়ে পড়ে
পিঠে তার দিনের বোঝা
হাতের ঘাম
মাটিতে পড়ে
তবু তার নাম থাকে না কোথাও

শহরটা দাঁড়ায় তার পরিশ্রমে
সে তবু থাকে প্রান্তে, অদৃশ্য
মজুরির টাকায় মাপা হয় জীবন
স্বপ্নগুলো থেকে যায় অসম্পূর্ণ

কেউ শোনে না তার কষ্টের কথা
শব্দ হারিয়ে যায় ভিড়ে।
এই বোধির মানুষগুলোর ওপরই
দাঁড়িয়ে থাকে সভ্যতার অহঙ্কার।

দেবাশীষ সিংহ -এর একটি কবিতা

প্রেম

আমি যে প্রেমের কথা বলি
তা তোমার চোখের কাজল না
তা কোনো দুপুরের রোদে
হঠাৎ হাত ছুঁয়ে যাওয়া না।

এই প্রেম একটু আলাদা
এ যেন শূন্য মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা একা গাছ,
যার পাতায় বাতাস এলেই
পুরনো পৃথিবীর কথা শোনা যায়।

তুমি থাকো, আমি একা হেঁটে যাই ভিড়ের ভেতর।
কারণ প্রেম মানে তো কাউকে ধরে রাখা নয়।

প্রেম মানে তার আকাশকে বড় হতে দেওয়া।

কখনও রাতের শেষে আমি শুধু আকাশই দেখি
মনে হয় যেন মানুষের হৃদয়ও এমনই

অসীম, কেউ কারও মালিক নয়,
কিন্তু কোথাও নীরব জড়িয়ে আছে।

এই জন্যই বলি, আমাদের প্রেম একটু আলাদা
আমরা একে অন্যকে পাই না, আবার হারাইও না।

 

 

গৌতম ভাদুড়ী -এর তিনটি কবিতা

ভাত

চুলোর আগুন নিভে গিয়েছে অনেকক্ষণ
হাঁড়ির তলায় শুকনো শব্দ
মা চুপ করে বসে থাকে,
চোখে তার অদ্ভুত শূন্যতা।

বাচ্চাটা জিজ্ঞেস করে, ভাত হবে কবে?
উত্তর আসে না।
বাইরে মাইকে বাজে উন্নয়নের গান
ঘরের ভেতর খিদের প্রতিধ্বনি।

রাত নেমে আসে
ধীরে ধীরে
স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে পড়ে ক্ষুধায়…

এই দেশ কী শুধু প্রতিশ্রুতির?
না কি মানুষেরও কিছু অধিকার আছে?

 

পথের মানুষ 

স্টেশনের বেঞ্চে
বসে সে।
হাতের মুঠোয় একটা টিকিট।
কোথাও যাওয়ার নেই ঠিকানা
কিন্তু সে প্রতিদিন আসে এখানে।

মানুষগুলো ছুটে যায় দ্রুত
কেউ থামে না তার পাশে।
চোখে তার অদ্ভুত প্রশ্ন
আমি কী এই শহরের কেউ নই?

রাত হলে প্ল্যাটফর্ম ঠাণ্ডা হয়
কম্বল যেন খবরের কাগজ।
স্বপ্নগুলো উড়ে যায় দূরে ;
বাস্তবটা থেকে যায় পাথরের মতো।

 

দেয়ালের ভেতর 

দেয়ালটা আরও উঁচু হয়েছে
মানুষের মাঝেই ভাগ হয়ে গিয়েছে মানুষ।
নামের আগে বসেছে পরিচয়
হৃদয়টা কোথায়
যেন হারিয়ে গিয়েছে।

একই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে
আমরা আলাদা আলাদা বাতাস নিই।
কেউ দেখে না
চোখের জলের রং
সবাই শুধু দেখে পরিচয়ের রঙ।

একদিন হয়ত দেয়াল ভাঙবে
মানুষ আবার মানুষ হবে
সেই দিনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে
এই পৃথিবী নিঃশব্দে কাঁদে।

 

প্রশান্ত হালদার -এর কবিতাগুচ্ছ

খিদে ও দেশ

ভাতের হাঁড়ি চুপ করে থাকে ধোঁয়া ওঠে না বহুদিন

ভোটের সময় হাসি খোঁজে নেতার দল।

কাগজের অধিকার 

কাগজে লেখা আছে আমার অধিকার
কিন্তু দরজায় তালা ঝুলে থাকে।

আইনের বই মোটা হয়, মানুষটা দিন দিন পাতলা।

ভিড়

এখানে সবাই ছুটছে কিন্তু কোথাও পৌঁছায় না কেউ।
মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেও
মানুষ হওয়া হয় না আর।

 

শিক্ষার আলো

বই খুলে বসে ছেলেটা

পেটের ভেতর খিদের শব্দ—
জ্ঞান আর জীবনের লড়াইয়ে
সে কোনটা বেছে নেবে?

 

নারীর পথ

রাস্তাটা একই রকম। শুধু পা ফেলার নিয়ম আলাদা।
একটি মেয়ে হাঁটে
হাজার চোখের ভয়ে।

 

কাজের খোঁজ 

হাত আছে, শক্তি আছে কাজ নেই কোথাও।

স্বপ্নগুলো বসে থাকে স্টেশনের বেঞ্চে।

মাটির মানুষ

চাষা মানুষটা
আকাশ দেখে
আর বৃষ্টি হবে কি না জানে না।
তার ঘামে ভেজা মাটি
আমাদের পেট ভরায়।

বৃদ্ধাশ্রম

ছেলেটা বড় হয়েছে বাবার হাত ছেড়ে দিয়ে
এখন বাবা থাকে একটি একা ঘরের ভেতর

ধর্মের দেওয়াল 

মানুষ ভাগ
হয়ে যায়
নামের আগে
ধর্ম বসে।

রক্তের রং এক হলেও
দেওয়ালটা থেকে যায়।

প্রতিবাদ

চুপ করে থাকাও একধরনের অপরাধ
তথাপি আমরা চুপ থাকি

কারণ সত্য বললে আয়নাও ভেঙে যেতে পারে।

 

 

বৈজয়ন্তী চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

ঠিকানা 

এই প্রথম আলো ছুঁয়ে যাও,
আমার সমস্ত রাত জেগে ওঠে স্বপ্নে।
তোমার কণ্ঠে যে নীরব সুর বাজে,
তা ছুঁয়ে যায় আমার অন্তরের গভীরতম দিক।

আমি জানি না ভালবাসা কীভাবে জন্মায়
হয়ত তোমার চোখের সেই অদ্ভুত মায়ায়
হয়ত তোমার অচেনা ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষায়,
যা আমাকে প্রতিদিন নতুন করে গড়ে তোলে

তোমার জন্যই এই পথচলা এত দীর্ঘ
তবু ক্লান্তি আসে না কোনওদিন
কারণ তুমি আছ আমার প্রতিটি ধ্বনিতে
প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি অপেক্ষায়

এই যে হারিয়ে যাই এই তোমার দেহের পৃথিবীতে
তোমার ভালবাসাই আমার একমাত্র ঠিকানা

প্রেম তো আরও উঁচু। দেহ থেকে দূরে

 

 

🍂ধারাবাহিকন্যাস |
সাশ্রয় নিউজ -এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ শুরু হয়েছে সাহিত্যিক মমতা রায় চৌধুরী -এর ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা’। একটি বিশেষ কালকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে এই উপন্যাস এগিয়ে যায়। নারীদের লড়াইয়ের কাহিনী পড়তে চোখ রাখুন রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ

 

হারিয়ে যায়া নারীর তিকথা

মমতা রায় চৌধুরী  

সুনয়না দি

পৌষ মাসের শেষ। আজ সংক্রান্তি চারিদিকে উৎসবের মেজাজ। পৌষ পার্বণের উৎসব। এসব দিনগুলো আসলে মনে পড়ে যায় সেই ছোট্টবেলার দিনগুলির কথা পাড়ার মেয়েরা সবাই মিলে কত ভোর বেলায় উঠে স্নান করে হাড় কাঁপানো শীতে যে যার মতো আলপনা দিতে বসে যেতাম তার আগের দিন পাড়ায় যাদের বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। তাদের অনেক আগে থেকে ঢেকি বুক করে রাখতে হত আতপ চাল গুঁড়ো করার জন্য। এরপর ঢেঁকিতে আতপ চাল বেনে তা গুঁড়া করা। প্রত্যেক বাড়িতে ধামা ধামা চালের গুঁড়া। কত রকমের পিঠে। আর টুসু ঠাকুরের নিরঞ্জন চলমান মেয়েদের মনে আজ খুশির ফোয়ারা। আজ বোধহয় পুষ্পার বনের মেলার শেষ স্পন্দনটুকু ধরা আছে দলিত ঘরের জনজাতির মধ্যে। এখনও ওই ধরনের গ্রামে গেলে দেখা যায় ট্রাকে ধুলো উড়িয়ে ডিজে বাজিয়ে ছেলেমেয়েরা চলছে মেলায়।এসব ভাবতে ভাবতে তিথি কোনও রকমে নিয়ম কানুনগুলো করে। ও অত পেরে ওঠে না। আজ সুনয়না আসবে না আগেই বলে রেখেছিল। তিথি ভেবেছিল রিকোয়েস্ট করবে কিন্তু দেখল না করে লাভ নেই। সেদিন অনেকটা সময় কাটিয়েছে সেটা মুখে না বললেও বোঝা যায় যে তার বিনিময়ে সেই দিনটা চেয়ে নিচ্ছে। ভোরের পথঘাট ধোঁয়াশা মাঘের শীতে বাঘের কামড়। বেলা বাড়তেই চারিদিকে ঘুড়ি উঠছে। শ্বেতাম্বরী সারা ছাত জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ঘুড়ি ধরার জন্য আর কি সুন্দর ওকে যেই বলেছি ওটা ঘুড়ি ও সেটাকে ধরে নেবার জন্য ছুটছে।। একা একাই ছাদে চেঁচাচ্ছে আর ঘুড়ির পেছনে ছুটছে আসলে ওর ভেতরেও তো মানুষের বাচ্চার মতোই এক শিশুসুলভ মন কল্পনার জগতে পাড়ি দেয়। বুবুন ওকে দেখে খুব খুশি। আজ বুবুনকে নিয়ে অতটা চাপ হয়নি বেশিরভাগ সময়টাই ছাদে শ্বেতাম্বরির সাথে খেলা করেছে।
বিকেলের পড়ন্ত রোদে কি এক মায়াবী খেলা, যেন ওদের চোখে মুখে লক্ষ্য করল তিথি রোদ পড়তেই শ্বেতাম্বরী আর বুবুনকে ঘরে নিয়ে আসলো।
কল্যাণী দেবী নিজেও ব্যালকনিতে এতক্ষণ বসেই ছিলেন হঠাৎ যেন চায়ের নেশা পেয়েছে ও বৌমা বৌমা
কিছু বলছেন?

তিথির কানগুলো কেমন লাল হয়ে উঠল। তারপর বলল আচ্ছা সুনয়না আমি রাখি পরে তোমার সাথে কথা বলব।
আমার কথা শুনবেন বৌদি?
কেমন যেন বিষন্ন উদাসী গলায় কথা বলল সুনয়না।
কেন শুনবো না নিশ্চয়ই। মনের ভেতরে কোন কষ্ট থাকলে কাউকে শেয়ার করলে অনেকটা হালকা
হওয়া যায়।

আজকে সু কাজে আসেনি কেন?
‘সু ‘একটু অবাক হয়ে যায়
সু বলতে সুইটি? তিথি জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলে।
না গো নতুন যে বউটা কাজে লেগেছে।
না।
এই হচ্ছে এদের রোগ একটু ভালবাসা পেলেই যেন মাথায় উঠে বসে।
তিথি শাশুড়ির অত কথায় কান করে না কারণ বউকে উত্তপ্ত করবে কিন্তু পরক্ষণেই কাজে আসলে তার সাথে জমিয়ে গল্প করবে তখন কোন কথাই মনে পড়ে না আসলে বউকে দিয়েই সব কথা বলাবে বউকে ওদের কাছে ছোট করবে।
সারাদিন কাজের পর তিথির টায়ার্ড লাগছে। পবিত্র আজকে একটা কাজে গেছে এখনও ফেরেনি। আর পেরে উঠছে না। বুবুন শ্বেতাম্বরী আজ তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছে। কাজেই তিথি চোখটাকে একটু আরাম দেবার জন্য গা ষটাকে বিছানায় ফেলে দিল। কি অদ্ভুত এক জাদুকরি এসে যেন ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে গেল কিন্তু সেই ঘুমের বিঘ্ন ঘটালো ফোন কল। বেশ কয়েকবার বাজার পর হঠাৎ তিথির মনে হল এখনো স্বপ্ন দেখছে না বাস্তবেই তার ফোন বাজছে। কোন রকমে চোখ বুঝেই ফোনটাকে নিজের কাছে নিল। তারপর বলল হ্যালো। কে?
আমি সুনয়না বলছি।
গলাটা কেন যেন ওর বিষন্ন মনে হল।
হ্যাঁ বলো…
আমি কাজে যাব না কাল থেকে
সে কি কথা কাজে আসবে না মানে আমাদের চলবে কি করে বলো। শরীর খারাপ?
চুপ করে আছে
দেখো চুপ করে থাকলে তো হবে না, বলো।
না, না, না।
তাহলে!
আমি আর কাজ করবো না বৌদি।
তিথি খুব অবাক হয়ে যায়
কেন?
চুপ করে আছে।
আমাকে তো বিকল্প লোক নেবার সময় টুকু দিতে হবে।
সেজন্যই তো ফোনটা করলাম।
ঠিক আছে ফোন করেছ এবার আমি লোকটা খুঁজি, ততদিন তো কাজটা করতে হবে।
চুপ করে আছে।
কি হলো? সাড়া দিচ্ছ না
না বৌদি আমার অসুবিধা আছে।
এভাবে বললে কী করে হবে বলো আমার স্কুল আছে, শাশুড়ি মার ওই অবস্থা। বুবুনকে কে দেখবে বলো।
কাগজি মাসিকে বলেছ?
না, না বলিনি। তবে জানাবো।
কি এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিলে।
আমারও কিছু করার নেই বৌদি। তুমি তো কাজ করবে না এমন তো নয়।
চুপ করে থাকে সুনয়না।
তুমি আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছো।
হ্যাঁ, আমার মনে আছে, আমি শোধ করে দেব।
তাহলে কাজে আসবে না কেন?
চুপ করে থাকে সুনয়না।
তোমাদের হচ্ছে এই দোষ কাজ না করলে তোমাদের চলবে না অথচ এত উঁচু নাক তোমাদের।
না, বৌদি তা ঠিক নয় আমাদের মত মেয়েদের আসলে কোথাও জায়গা নেই।
তিথি বুঝতে পারে বাড়িতে কিছু একটা ঘটেছে।
ঠিক আছে ভাবনা চিন্তা করো না।
ওই দেখো মাগী আবার কার সাথে কথা বলছে।
তিথির কানে কথাগুলো এল।
হাড় জ্বালানি পর ভুলানি মাগী আমার ছেলের মাথাটা খেয়েছে। ওরকম বারোভাতারী মাগী আমাদের কপালে ছিল। তার থেকে দড়ি কলসী নিয়ে মরতে পারত।
তিথির কানগুলো কেমন লাল হয়ে উঠল। তারপর বলল আচ্ছা সুনয়না আমি রাখি পরে তোমার সাথে কথা বলব।
আমার কথা শুনবেন বৌদি?
কেমন যেন বিষন্ন উদাসী গলায় কথা বলল সুনয়না।
কেন শুনবো না নিশ্চয়ই। মনের ভেতরে কোন কষ্ট থাকলে কাউকে শেয়ার করলে অনেকটা হালকা
হওয়া যায়।
ঠিক আছে বৌদি, আমি রাখি এখন।
এই মাগী ফোন নিয়ে বসে থাকবি কাজ নেই খাওয়া কী এমনি জোটে রে।
তিথি ফোনটা কেটে দিল।
হয়ত আরও কিছু কথা বলত কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি বলার উপযোগী ছিল না।
কি করে থাকবে সুনয়না।
ফোনটা কাটার পর তিথি সুনয়নাকে নিয়েই ভাবতে লাগল। হায় রে ভাগ্য যে আশায় বুক বেঁধেছিল আদোপে কি সে আশা পূর্ণ হবে, নাকি আর এক নরম যন্ত্রণায় এসে পড়ল। এখন দেখা ওর স্বামী ঠিক আছে কিনা। শ্বশুর বাড়ির লোক যে যাই বলুক স্বামী ঠিক থাকলে তাও অনেকটা দুঃখ কষ্ট লাঘব হয়। তিথি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে এসে বসে পড়ল। কি জানি এখন সুনয়নার উপর কি রকম অত্যাচার চলছে কথার আওয়াজ শুনে আর কথা বলার ভঙ্গি দেখে তো মনে হল ওর শাশুড়ি মা।
মেয়েটা আর যাই করুক না কেন কিন্তু ওর প্রতি একটা মায়া জন্মে গেছে। এক চিলতে ভালোবাসার উত্তাপ পেতে যার হাত ধরেছিল আজ যদি সে থাকে নিরুত্তর তাহলে তার নারী জীবনের ভাগ্য আকাশে কুয়াশা আর কাটবে না।
এসব ভাবতে ভাবতে আবার কেমন যেন তিথির ভেতরে একটা অস্থিরতা তৈরি হল শরীরটা কেমন যেন আনচান করে উঠলো আর ঠিক তখনই’বৌমা, বৌমা ও বৌমা….।’
হ্যাঁ বলুন।
এই চা করলে?
হ্যাঁ, এই যাচ্ছি।
কতটা সময় গেল চা খাওয়ার সময় পেরিয়ে গেল।
তিথি ভেবে পায় না এতসবের মাঝেও কিভাবে চায়ের সময়ের কথা মনে পড়ে কিভাবে যে কাজগুলো সামলাচ্ছে তিথি সেইই জানে আদপেও কাজের লোক কোথায় পাবে সেই নিয়ে এখন মাথায় যন্ত্রণা ধরিয়ে দিল।
চা করতে করতে সুনয়নার কথাগুলোই ভাবছিল
বেচারার যেন সুখেরও লাগি এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল অবস্থা হয়েছে। 🍁 (ক্রমশঃ)

 

 

🍂ল্প 

 

রণ হঠাৎ চুপ করে যায়। তার বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। গলির ক্রিকেট, ভাঙা বল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা সমস্ত স্মৃতি যেন একসঙ্গে ফিরে আসে। রণ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। আকাশ জুড়ে তখন ঝলমলে তারা উঠছে। রণ নিজের ব্যাটটা হাতে নেয়, চোখ ঝলমল করছে।

 

স্বপ্নের ছক্কা 


কৌশিক রায় 

গোধূলির আলো তখন ধীরে ধীরে নেমে আসছে শহরের ওপর। কলকাতার অলিগলি যেন আজ অন্যরকম উত্তেজনায় কাঁপছে। চায়ের দোকানে, বাসস্ট্যান্ডে, এমনকী গলির মোড়ের ছোট্ট পানের দোকানেও একটাই আলোচনা, আজ আইপিএল ফাইনাল। টিভির সামনে বসে থাকা মানুষের চোখে অদ্ভুত আগুন, যেন এই খেলাটা শুধু খেলা নয়, এ এক স্বপ্ন, এক আবেগ, এক বেঁচে থাকার গল্প।
এই শহরেরই এক কোণে, পুরনো ভাঙাচোরা বাড়ির ছাদে বসে আছে রণ। বয়স কুড়ির কোঠায়, চোখে হাজারো স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই ব্যাট হাতে নিজেকে সে ভাবত বিরাট কোহলিকিংবা এমএস ধোনি। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন! সংসারের চাপ, টাকার অভাব, আর সুযোগের অভাবে তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন যেন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গিয়েছে।

আইপিএলের সেই রাতটা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। একটা ছক্কা, একটা গল্প, একটা বিশ্বাস, সবকিছু বদলে দিয়েছিল। এই শহরের ভিড়ের মধ্যে এখনও কেউ যদি খেয়াল করে, দেখবে এক তরুণ ছেলেকে, ঘামে ভেজা, চোখে আগুন, হাতে ব্যাট।

রণ আজও ব্যাটটা পাশে রেখেছে। টিভিতে চলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল ম্যাচ। স্টেডিয়ামের গর্জন যেন ছাদের উপর বসে থাকা রণর বুকেও ধাক্কা দিচ্ছে। ও চুপচাপ তাকিয়ে থাকে, মাঝে মাঝে নিজের ব্যাটে হাত বোলায়। যেন ওটা শুধু কাঠের টুকরো নয়, তার অপূর্ণ স্বপ্নের শরীরও। রণর পাশে বসে আছে ছোট ভাই রিজু। রিজুর চোখে উত্তেজনা। মুখে হাসি।
—দাদা, তুই পারতিস, জানিস? তুই যদি খেলতে পারতিস, তোর নামও আজ টিভিতে আসত!
রণ হালকা হেসে বলে,
—সবাই পারে না রে, কেউ কেউ শুধু দেখে।
ঠিক তখনই টিভিতে একটা দৃশ্য। একজন নতুন, অচেনা প্লেয়ার, প্রথমবার ফাইনালে নেমে শেষ ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দিল। কমেন্টেটররা চিৎকার করে উঠল, ‘এই ছেলেটা একসময় ছোট্ট শহরের গলি থেকে উঠে এসেছে!…’
রণ হঠাৎ চুপ করে যায়। তার বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। গলির ক্রিকেট, ভাঙা বল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা সমস্ত স্মৃতি যেন একসঙ্গে ফিরে আসে। রণ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। আকাশ জুড়ে তখন ঝলমলে তারা উঠছে। রণ নিজের ব্যাটটা হাতে নেয়, চোখ ঝলমল করছে। ভাইকে বলল,
–রিজু, কাল থেকে আবার প্র্যাকটিস শুরু করব।
রিজু অবাক হয়ে তাকায়,
–এখন কী সম্ভব? আবার…
রণ মুচকি হেসে বলে,
–খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ হার মানে না। আইপিএল শুধু বড় প্লেয়ারদের গল্প না, এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের স্বপ্নের দরজা।

পরদিন ভোরে, শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, রণ তখন মাঠে। ঘাসে শিশির, বাতাসে ঠাণ্ডা হাওয়া। ও একা দাঁড়িয়ে ব্যাট চালায়। প্রতিটা শটে যেন নিজের ভয়, নিজের হতাশাকেই আঘাত করে। এইভাবে সময় যায়, রণর জীবন আবার বদলাতে শুরু করে। কঠোর পরিশ্রম, ঘাম, আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে নতুন করে গড়ে তোলে। গলির ছেলে রণ এখন লোকাল টুর্নামেন্টে নাম করছে। তার খেলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একদিন, ফোন আসে। একটা বড় ক্লাব থেকে ট্রায়ালের ডাক। রণ ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসে, স্বপ্নটা মরে যায়নি, শুধু একটু ঘুমিয়েছিল।
আসলে আইপিএলের সেই রাতটা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। একটা ছক্কা, একটা গল্প, একটা বিশ্বাস, সবকিছু বদলে দিয়েছিল। এই শহরের ভিড়ের মধ্যে এখনও কেউ যদি খেয়াল করে, দেখবে এক তরুণ ছেলেকে, ঘামে ভেজা, চোখে আগুন, হাতে ব্যাট। সে জানে, একদিন হয়ত তার নামও উচ্চারিত হবে হাজার মানুষের চিৎকারে, আলোয় ভরা স্টেডিয়ামে। কারণ আইপিএল শুধু একটা খেলা নয়, এটা স্বপ্ন দেখার সাহস শেখায়, আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়, আর বিশ্বাস করায় যে
যতক্ষণ তুমি লড়ছ, ততক্ষণ তুমি হারোনি।🍁

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com, sasrayanews@gmail.com 

বি: দ্রসমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

 

সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ বিভাগের লেখা  আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন