Chicken soup for cold | মরসুম বদলের ক্লান্তিতে ভরসার উষ্ণতা: সর্দিজ্বরে মুরগির স্যুপ কেন আরোগ্যের সঙ্গী?

SHARE:

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : মরসুম বদল মানেই অনেকের জীবনে নিত্যসঙ্গী সর্দি, কাশি আর জ্বর। কখনও হঠাৎ গরম, কখনও ঠাণ্ডা, এই আবহাওয়ার দোলাচলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সহজেই টলমল করে ওঠে। ফলস্বরূপ, খিদে কমে যায়, মুখে রুচি থাকে না, গলা ব্যথায় শক্ত খাবার খাওয়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে। ঠিক এই সময়েই বহু বাড়িতে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে পরিচিত গন্ধ, গরম গরম মুরগির স্যুপ (Chicken Soup)। শুধু স্বাদ নয়, এই স্যুপ যেন অসুস্থ শরীরের জন্য এক পুরনো কিন্তু পরীক্ষিত ওষুধ। পুষ্টিবিদদের মতে, সর্দিজ্বরের সময়ে এমন খাবার দরকার, যা এক দিকে হালকা, অন্য দিকে পুষ্টিকর। মুরগির স্যুপ সেই দুই শর্তই পূরণ করে। মাংস সেদ্ধ করে তৈরি ব্রথ বা ঝোলের মধ্যে থাকে মুরগির নির্যাস, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে সব্জি আর ভেষজের মিশ্রণে এই স্যুপ হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ রোগপথ্য।

গলা ব্যথা বা নাক বন্ধ থাকলে গরম খাবার খেলে স্বস্তি মেলে। এ কথা প্রায় সকলেই জানেন। স্যুপ তরল হওয়ায় চিবোনোর ঝামেলা নেই। অল্প অল্প করে খেলেও শরীর প্রয়োজনীয় জল এবং পুষ্টি পায়। ফলে জ্বরের সময় যখন খিদে একেবারে চলে যায়, তখনও স্যুপ সহজে খাওয়া সম্ভব হয়। এই কারণেই চিকিৎসকেরাও অসুস্থ অবস্থায় স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দেন। মুরগির মাংস প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। শরীর অসুস্থ হলে কোষের ক্ষয় হয়, দুর্বলতা বাড়ে। সেই ক্ষয় পূরণ করতে প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। মুরগির স্যুপে থাকা প্রোটিন শরীরের পেশি ও কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শুধু তা-ই নয়, এতে থাকে ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6), ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12), ফসফরাস (Phosphorus), সেলেনিয়াম (Selenium), জিঙ্ক (Zinc) ও আয়রনের (Iron) মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এই উপাদানগুলি রোগের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে শরীরকে ভিতর থেকে সাহায্য করে। কিন্তু, রোগপথ্য হিসাবে স্যুপ বানাতে গেলে সব্জির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গাজর, বিন্‌স, কড়াইশুঁটি, পেঁপে, ক্যাপসিকাম বা সামান্য কাঁচালঙ্কা, এই সব সব্জি স্যুপে যোগ করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই পুষ্টিগুণও বহুগুণে বেড়ে যায়। টাটকা সব্জিতে থাকা ভিটামিন সি (Vitamin C) শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। সর্দিজ্বরের সময়ে এই উপাদানগুলি বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

শুধু মাংস আর সব্জি নয়, স্যুপের প্রাণ লুকিয়ে থাকে তার মশলা ও ভেষজ উপাদানে। আদা (Ginger) এবং রসুন (Garlic) সর্দি-কাশিতে বহুদিন ধরেই ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, রসুনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গোলমরিচ (Black Pepper) স্যুপে হালকা ঝাঁঝ এনে নাক বন্ধ ভাব কমাতে সাহায্য করে। উপরে ছড়ানো ধনেপাতা (Coriander Leaves) বা পেঁয়াজশাক শুধু গন্ধই বাড়ায় না, বরং হজমেও সহায়তা করে। তবে সব ধরনের চিকেন স্যুপ যে অসুস্থ শরীরের জন্য উপযোগী, তা নয়। নানা রকম সস্‌, ক্রিম বা অতিরিক্ত মশলা দেওয়া স্যুপ এই সময় হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সর্দিজ্বরের সময়ে সবচেয়ে ভাল হল হালকা, কম মশলাযুক্ত সব্জি দেওয়া মুরগির স্যুপ। তাতে লবণের পরিমাণও কম রাখা উচিত।

আধুনিক গবেষণাতেও মুরগির স্যুপের উপকারিতা স্বীকৃত। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গরম চিকেন ব্রথ শ্বাসনালির জ্বালা কমাতে সাহায্য করে এবং সর্দির উপসর্গ সাময়িক ভাবে হলেও হালকা করে। ফলে এটি শুধু মানসিক স্বস্তি নয়, বাস্তব শারীরিক আরামও দেয়। বলা যায়, মরসুম বদলের সময় সর্দি-জ্বরে কাহিল শরীরের জন্য মুরগির স্যুপ নিছক খাবার নয়, এক ধরনের সহায়ক চিকিৎসা। খিদে না থাকলেও এই উষ্ণ তরল শরীরকে শক্তি দেয়, মনকে স্বস্তি দেয় এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই পরের বার সর্দি-জ্বর এলেই মনে রাখুন, এক বাটি গরম মুরগির স্যুপ হতে পারে আরোগ্যের প্রথম ধাপ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Soft Patisapta Recipe Without Rice Flour, Easy Winter Pitha | চালের গুঁড়ো ছাড়াই পাটিসাপটা রেসিপি, ময়দা-সুজির সহজ পিঠে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন