Tejashwi Yadav injury, Rohini Acharya post | হুইলচেয়ারে বিধানসভায় তেজস্বী, দিদি রোহিণীর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে নতুন করে তীব্র হল যাদব পরিবারে দূরত্বের রাজনীতি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিকেই নজর কাড়ল হুইলচেয়ারে চেপে বিধানসভায় প্রবেশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) -এর শীর্ষ নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)। বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে অধিবেশনে যোগ দিতে দেখা যায়। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁকে এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় আসতে হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন তেজস্বী। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আলোচনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢাললেন তাঁর দিদি রোহিণী আচার্য (Rohini Acharya)। ফলে রাজনৈতিক মঞ্চের পাশাপাশি যাদব পরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কও ফের চর্চার কেন্দ্রে চলে এল।বাজেট অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে তেজস্বী জানান, সম্প্রতি বাঁ তিনি পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। সেই আঘাত এতটাই জটিল ছিল যে অস্ত্রোপচার করে নখ তুলে ফেলতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘হাঁটতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল। তাই চিকিৎসকের পরামর্শেই হুইলচেয়ারে চেপে বিধানসভায় এসেছি।’ শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও বিধানসভায় উপস্থিত থেকে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের সক্রিয় ভূমিকা বজায় রাখার বার্তা দিতেই এই উপস্থিতি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee statement | ‘ভোটের জন্য অশান্তি নয়, বাংলা শান্তি চায়’ | ৩০ শতাংশ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, শুরু রাজনৈতিক তরজা

তেজস্বীর এই অবস্থার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ পোস্ট করেন রোহিণী আচার্য। তিনি লেখেন, ‘শরীরের আঘাত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। কিন্তু হৃদয়ে যখন আঘাত লাগে, তখন তা সহ্য করা যায় না।’ পোস্টে কোনও নাম উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের লক্ষ্য যে তেজস্বী যাদব, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। বিশেষ করে এমন একটি দিনে, যখন তেজস্বী শারীরিক আঘাতের কারণে হুইলচেয়ারে বিধানসভায় গেলেন, সেই দিনেই এই পোস্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।রোহিণী আচার্য অবশ্য এই প্রথম নন, এর আগেও একাধিক বার পরোক্ষে ভাইয়ের নেতৃত্ব ও আরজেডির বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি -এর ভরাডুবির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেন রোহিণী। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে যাদব পরিবারের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা তিনি জানান। রাজনীতি ও পরিবার থেকে সরে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমই হয়ে ওঠে তাঁর বক্তব্য প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। রাজনীতি ছাড়ার পর থেকেই একের পর এক পোস্টে তিনি আরজেডির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি তেজস্বী যাদব সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি হওয়ার পর রোহিণী একটি পোস্টে লেখেন, ‘দলের নিয়ন্ত্রণ এখন চলে গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে, লালুবাদকে ধ্বংস করাই যাদের একমাত্র লক্ষ্য।’ সেই মন্তব্য ঘিরে তখনও রাজনৈতিক শোরগোল কম হয়নি। এই পারিবারিক টানাপড়েনের মধ্যেই বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে রাজ্যের বিজেপি-জেডিইউ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তেজস্বী যাদব। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভাষণে অনেক সুন্দর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিহারের অধিকাংশ জায়গায় উন্নয়নের কোনও ছাপ নেই।’ তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের প্রচার আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) সরাসরি নিশানা করে তেজস্বী বলেন, ‘উনি প্রায় ২০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেও রাজ্যে খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ থামেনি। অথচ সরকার দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি একেবারে ঠিক আছে!’ বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যে শাসক শিবিরে যে অস্বস্তি বেড়েছে, তা বিধানসভার ভিতরের প্রতিক্রিয়াতেই পরিষ্কার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে তেজস্বী বার্তা দিতে চেয়েছেন যে তিনি নেতৃত্বের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন না। অন্যদিকে, রোহিণীর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ফের মনে করিয়ে দিল যাদব পরিবারের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের কথা, যা আরজেডির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : New Hope and Light: Commemorating 163 Years of Swami Vivekananda at Vivek Utsav 2026 in Delhi

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন